
মুহা. রিয়াজুল ইসলাম রুহী, বিশেষ প্রতিনিধি, কুড়িগ্রামঃ
২০০৮ সালে
B.A.L ভোট ৪৯% আসন ২৩০ টি।
B.N.P ভোট ৩৩.২০% আসন মাত্র ৩০টি
কারণ কি ?
বর্তমান বাংলাদেশে যে বিষয়টি সর্বাধিক আলোচিত হচ্ছে তা হল পি আর পদ্ধতির নির্বাচন।
গত ২৮ জুন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত স্মরণকালের সর্ববৃহৎ মহাসমাবেশে বাংলাদেশ-এর দুই একটি দল ব্যতিরেকে সকল দলের প্রধান বা সেমি প্রধানগণ যখন পি আর -এর পক্ষে বজ্রকন্ঠে আওয়াজ তোলেন তখন এটি হয়ে যায়
টক অফ দা কান্ট্রি।
হাট বাজার,রাস্তাঘাট, দোকানপাট, চায়ের দোকান এমনকি রিক্সাওয়ালা, সেলুন ওয়ালার মুখেও পি আর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা চলছে।
প্রথমেই আসি প্রচলিত নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে। প্রচলিত নির্বাচন পদ্ধতি হল –
ধরে নিন একটি আসনে ১ লক্ষ ভোট কালেকশন হল এবং ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলন।
প্রথম প্রার্থী ভোট পেলেন ২৪ হাজার ৭০০
দ্বিতীয় প্রার্থী ভোট পেলেন ২৫ হাজার
তৃতীয় প্রার্থী ভোট পেলেন ২৫ হাজার ১০০
চতুর্থ প্রার্থী ভোট পেলেন ২৫ হাজার ২০০
বর্তমান সিস্টেম অনুযায়ী প্রথম তিনজন মিলে মোট ৭৪ হাজার ৮০০ ভোট পেলেও চতুর্থ জন
২৫ হাজার ২০০ ভোট পাওয়ার কারণে বিজয় হবেন।
ভেবে দেখেছেন চারভাগের তিন ভাগ ভোট পচে গেল। আর চার ভাগের একভাগ ভোট পেয়ে সংসদে চলে গেলে।
এটি ভোটারদের সাথে চরম বৈষম্য ছাড়া কিছুই নয়।
আপনি যদি গণতন্ত্রেকেও স্বীকার করেন তাহলেও চার ভাগের এক ভাগ কখনোই চার ভাগের তিন ভাগের উপর বিজয় হতে পারেনা। এমনটিই ঘটেছিল বিগত দিনের নির্বাচন গুলোতে। বিশেষ করে
২০০৮ সালে এই সিস্টেমের কারণেই আওয়ামী লীগ ৪৯% ভোট পেয়ে আসন পায় ২৩০ টি আর
বিএনপি ৩৩.২০% ভোট পেয়ে আসন পায় শুধুমাত্র ৩০ টি। অথচ
সে সময় পিয়ার পদ্ধতি চালু থাকলে আওয়ামী লীগ আসন পেত ১৪৭ টি আর বিএনপি আসন পেত ১০০ টি।
এবার দেখা যাক পি আর পদ্ধতি প্রবর্তিত হলে তার ফলাফল কেমন হবে
আমরা জানি জাতীয় সংসদে মোট আসন ৩০০টি। নারী আসন ছাড়া।
মনে করি,
নির্বাচনে ৫ টি দল অংশ গ্রহণ করল
১, দল ভোট পেল ৪০% আসন পাবেন ১২০ টি।
২, দল ভোট পেল ৩০% আসন পাবেন ৯০ টি।
৩, দল ভোট পেল ১৫% আসন পাবেন ৪৫ টি।
৪, ভোট পেল ১০% আসন পাবেন ৩০ টি
৫, দল ভোট পেল ৫% আসন পাবেন ১৫ টি।
অথচ বর্তমান পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে চার ভাগের তিন ভাগ ভোটারের ভোট পচে যাবে
পিয়ার পদ্ধতির সুফল সমূহ
১, নির্বাচনী অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাবে।
২, একক আধিপত্য থাকবে না।
৩, সংখ্যালঘু ও নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়বে।
৪, অন্যায় ভাবে রাজনৈতিক সুবিধা নেয়া বন্ধ হবে
৫, নমিনেশন বাণিজ্য থাকবেনা ৬, সব দলের উপস্থিতিতে সংসদ প্রাণবন্ত হবে
৭, এমপিদের চুরি, ঘুষ, টাকা পাচার অনেকটাই বন্ধ হয়ে যাবে।
৮, স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে যে টাকার অবৈধ লেনদেন করা হয় তা বন্ধ হবে।
৯, এটি গণতন্ত্রকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ করতে পারে।
১০,নির্বাচন কেন্দ্রিক যে মারামারি কাটাকাটি খুন-খারাবি শত্রুতা তৈরি হয় তা অনেকটাই বন্ধ হয়ে যাবে।
সব সকল ভোটারের ভোটই সম্মানের সাথে গণ্য করা হবে।
জনগনের দাবী সে কারণেই পরীক্ষামূলক হলেও আগামী নির্বাচন পি আর পদ্ধতিতে করা হোক।





















