০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নৃশংসতার শিকার বৃদ্ধ দম্পতি: কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে মারধর ও পিতার দাঁত ভেঙে দেয়ার অভিযোগে পাষণ্ড ২ ছেলেকে গ্রেফতার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:০২:২২ অপরাহ্ন, রোববার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ৩০২৩ বার পঠিত হয়েছে

আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:- রোববার, ০৯ নভেম্বর ২০২৫ ইং ১২:০২ পিএম. কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় চাঞ্চল্যকর এক ঘটনায় বৃদ্ধ মা-বাবাকে মারধর ও বাবার তিনটি দাঁত ভাঙার অভিযোগে দুই ছেলেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ১. মোঃ মাসুদ রানা (৩২) এবং ২. মোঃ কুদরাত-ই-হৃদয় (২২)। তারা ভূরুঙ্গামারী উপজেলার গছিডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আব্দুল বারী ও মনয়ারা বেগমের সন্তান।

ভুক্তভোগী মা মনয়ারা বেগম বাদী হয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন মাসুদ রানার মেয়েকে তার মা প্যান্ট পরিয়ে দেন। এ সময় মেয়েটি বলে, “বাবা এর চেয়ে ভালো করে পড়িয়ে দিতে পারে।” এ কথা শুনে দাদী (মনয়ারা বেগম) নাতনিকে হালকা ধমক দিয়ে বলেন, “তোর বাবার কাছে যা।”

এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে মাসুদ রানা ও তার ছোট ভাই হৃদয় নিজেদের জন্মদাতা মা-বাবার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে নির্দয়ভাবে মারধর করেন। এতে তাদের বাবা আব্দুল বারীর তিনটি দাঁত ভেঙে যায়, এর আগে তার আরও একটি দাঁত ভেঙে দিয়েছিল বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, দুই ভাই মাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং গাছে বেঁধে রাখার উদ্যোগ নেয়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে মনয়ারা বেগমকে উদ্ধার করেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে ভুক্তভোগী মা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে দুই ছেলেকে আটক করে।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আল হেলাল মাহমুদ বলেন, “বৃদ্ধ মা-বাবাকে মারধরের মতো জঘন্য ঘটনায় কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার মোঃ মাহফুজুর রহমান এর নির্দেশে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন এসআই হারুন-অর-রশিদ।”

এ ঘটনায় এলাকায় নিন্দার ঝড় উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, “নিজের জন্মদাতা মা-বাবার ওপর এমন অমানবিক আচরণ সমাজে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি রাখে।”

স্থানীয়রা পুলিশ প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সাফা ফাউন্ডেশনের কার্যনির্বাহী সভা অনুষ্ঠিত

নৃশংসতার শিকার বৃদ্ধ দম্পতি: কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে মারধর ও পিতার দাঁত ভেঙে দেয়ার অভিযোগে পাষণ্ড ২ ছেলেকে গ্রেফতার

Update Time : ০৩:০২:২২ অপরাহ্ন, রোববার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:- রোববার, ০৯ নভেম্বর ২০২৫ ইং ১২:০২ পিএম. কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় চাঞ্চল্যকর এক ঘটনায় বৃদ্ধ মা-বাবাকে মারধর ও বাবার তিনটি দাঁত ভাঙার অভিযোগে দুই ছেলেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ১. মোঃ মাসুদ রানা (৩২) এবং ২. মোঃ কুদরাত-ই-হৃদয় (২২)। তারা ভূরুঙ্গামারী উপজেলার গছিডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আব্দুল বারী ও মনয়ারা বেগমের সন্তান।

ভুক্তভোগী মা মনয়ারা বেগম বাদী হয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন মাসুদ রানার মেয়েকে তার মা প্যান্ট পরিয়ে দেন। এ সময় মেয়েটি বলে, “বাবা এর চেয়ে ভালো করে পড়িয়ে দিতে পারে।” এ কথা শুনে দাদী (মনয়ারা বেগম) নাতনিকে হালকা ধমক দিয়ে বলেন, “তোর বাবার কাছে যা।”

এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে মাসুদ রানা ও তার ছোট ভাই হৃদয় নিজেদের জন্মদাতা মা-বাবার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে নির্দয়ভাবে মারধর করেন। এতে তাদের বাবা আব্দুল বারীর তিনটি দাঁত ভেঙে যায়, এর আগে তার আরও একটি দাঁত ভেঙে দিয়েছিল বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, দুই ভাই মাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং গাছে বেঁধে রাখার উদ্যোগ নেয়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে মনয়ারা বেগমকে উদ্ধার করেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে ভুক্তভোগী মা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে দুই ছেলেকে আটক করে।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আল হেলাল মাহমুদ বলেন, “বৃদ্ধ মা-বাবাকে মারধরের মতো জঘন্য ঘটনায় কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার মোঃ মাহফুজুর রহমান এর নির্দেশে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন এসআই হারুন-অর-রশিদ।”

এ ঘটনায় এলাকায় নিন্দার ঝড় উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, “নিজের জন্মদাতা মা-বাবার ওপর এমন অমানবিক আচরণ সমাজে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি রাখে।”

স্থানীয়রা পুলিশ প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।