০৩:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলটির মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের চেতনা অক্ষুণ্ন রাখার ওপর জোর দিয়েছেন।

ছাত্র-জনতার রক্তের সঙ্গে তামাশা করতে কাউকে সংসদে পাঠানো হয়নি- পীর সাহেব চরমোনাই

কুষ্টিয়ায় আয়োজিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন প্রধান অতিথি মাওলানা মুফতী সৈয়দ মুফতী রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)। ছবি: দৈনিক সরেজমিন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হাজারো তরুণ জীবন দিয়েছেন, অনেকে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন এবং স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে জনগণ দেশ ও জাতির সমস্যা, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু সংসদে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

সোমবার (৬ জুলাই) কুষ্টিয়া শিল্পকলা মিলনায়তনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত জেলা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, “সংসদে কেউ ওয়াশিং মেশিন চায়, কেউ একে অপরের সমালোচনায় ব্যস্ত, আবার কেউ ইতিহাসের খেরো খাতা উল্টাচ্ছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, ছাত্র-জনতা জীবন ও রক্ত দিয়ে তামাশা করার জন্য কাউকে সংসদে পাঠায়নি।”

জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মানবসৃষ্ট আইনের মাধ্যমে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নীতিগতভাবে ইসলামের আদর্শভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার কথা বলে। এ আদর্শ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে দলীয় নেতাকর্মীদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমেরিকা আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু—এ কথা কোন বিবেচনায় বলা হয়, সেটিই প্রশ্ন। আমরা সব দেশের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক চাই। তবে কোনো রাষ্ট্র যদি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে, তা প্রতিহত করা হবে।”

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, নতুন সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি দমন, অর্থনীতির উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তার ভাষ্য, নীতির পরিবর্তন ছাড়া শুধু শাসক পরিবর্তনে ইতিবাচক ফল আসে না।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন দলের নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল আউয়াল, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আরিফুল ইসলাম এবং খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আহমেদ আব্দুজ জলিলসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

আলোচনার আশ্বাসে নাগেশ্বরীতে সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন স্থগিত

কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলটির মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের চেতনা অক্ষুণ্ন রাখার ওপর জোর দিয়েছেন।

ছাত্র-জনতার রক্তের সঙ্গে তামাশা করতে কাউকে সংসদে পাঠানো হয়নি- পীর সাহেব চরমোনাই

Update Time : ০২:৫০:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হাজারো তরুণ জীবন দিয়েছেন, অনেকে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন এবং স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে জনগণ দেশ ও জাতির সমস্যা, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু সংসদে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

সোমবার (৬ জুলাই) কুষ্টিয়া শিল্পকলা মিলনায়তনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত জেলা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, “সংসদে কেউ ওয়াশিং মেশিন চায়, কেউ একে অপরের সমালোচনায় ব্যস্ত, আবার কেউ ইতিহাসের খেরো খাতা উল্টাচ্ছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, ছাত্র-জনতা জীবন ও রক্ত দিয়ে তামাশা করার জন্য কাউকে সংসদে পাঠায়নি।”

জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মানবসৃষ্ট আইনের মাধ্যমে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নীতিগতভাবে ইসলামের আদর্শভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার কথা বলে। এ আদর্শ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে দলীয় নেতাকর্মীদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমেরিকা আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু—এ কথা কোন বিবেচনায় বলা হয়, সেটিই প্রশ্ন। আমরা সব দেশের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক চাই। তবে কোনো রাষ্ট্র যদি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে, তা প্রতিহত করা হবে।”

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, নতুন সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি দমন, অর্থনীতির উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তার ভাষ্য, নীতির পরিবর্তন ছাড়া শুধু শাসক পরিবর্তনে ইতিবাচক ফল আসে না।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন দলের নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল আউয়াল, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আরিফুল ইসলাম এবং খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আহমেদ আব্দুজ জলিলসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।