০৪:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গাজীপুরে এক অসহায় নারী তার দুই সন্তান নিয়ে স্বামীর কবরের পাশে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন; মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকায় চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাদের।

গাজীপুরে স্বামীর কবরের পাশে দুই সন্তান নিয়ে অসহায় জীবনযাপন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৩৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩০২০ বার পঠিত হয়েছে

গাজীপুরে মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকায় দুই সন্তান নিয়ে স্বামীর কবরের পাশেই অবস্থান নিয়েছেন এক অসহায় নারী। ছবি: দৈনিক সরেজমিন।

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার উত্তর লস্করচালা গ্রামে স্বামীর কবরের পাশে দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছেন সোনিয়া বেগম—এমন একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা এলাকাজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই ও মানবিক সহায়তার অভাবে চরম কষ্টে দিন কাটছে তার। তার সঙ্গে রয়েছে ৯ বছরের কন্যা ছোঁয়া এবং ১৮ মাস বয়সী দুগ্ধপোষ্য পুত্রসন্তান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনিয়া আক্তারের স্বামী সুজন মাহমুদের মৃত্যুর পর থেকেই পরিবারটি গভীর সংকটে পড়ে। সোনিয়ার অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির আর্থিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যথাযথ চিকিৎসার অভাবে তার স্বামী ধুঁকে ধুঁকে মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি জানতে পারেন, শ্বশুরবাড়িতে তার ও সন্তানদের জন্য আর কোনো জায়গা নেই।

সোনিয়ার দাবি, তার শ্বশুর কফিল উদ্দিন ও শাশুড়ি তাকে এবং তার সন্তানদের গ্রহণ করতে রাজি নন। এমনকি স্বামীর দাফনের সময়ও শ্বশুর উপস্থিত না থেকে স্থান ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

স্বামীর মৃত্যুর পর দুই সন্তান নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন সোনিয়া। স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলামের পরিবার মানবিক কারণে কিছুদিন তাকে আশ্রয় দিলেও পরবর্তীতে আইনি জটিলতার আশঙ্কায় সেই আশ্রয় স্থায়ী হয়নি। কোথাও আশ্রয় না পেয়ে শেষ পর্যন্ত স্বামীর কবরের পাশেই বসবাস শুরু করেন তিনি।

অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে সোনিয়া বেগম বলেন, “স্বামীর লাশ ফেলে শ্বশুর চলে গিয়েছিলেন। এখন এই দুই সন্তান নিয়ে কোথায় যাব? আমার আর কোনো জায়গা নেই। তাই বাধ্য হয়ে কবরের পাশেই আছি।”

এলাকাবাসীর অনেকেই মনে করছেন, পারিবারিক বিরোধ ভুলে শিশুদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো উচিত ছিল। স্থানীয় সচেতন মহল ও সমাজকর্মীরা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, সোনিয়া ও তার সন্তানদের নিরাপদ বসবাস ও আইনি অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুজনের মা সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তিনি বলেন, “তোমরা এখন চলে যাও, না হলে মারব।”

কালিয়াকৈর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষকে নিয়ে মীমাংসার চেষ্টা চলছে। সমাধান না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুত্র: দৈনিক যুগান্তর
লিংক: https://www.jugantor.com/country-news/1091997?fbclid=IwY2xjawRUoNlleHRuA2FlbQIxMABicmlkETEzSHJnaE8waU1tQ01USWI4c3J0YwZhcHBfaWQQMjIyMDM5MTc4ODIwMDg5MgABHun-5Wf9vEGvV6QXodkwJSf-g4NtqBx7p9l7yMZh2eDvB7Nt9Z2wogXwOyJJ_aem_UFhQq8lw_4-ZjalhEF0B1Q

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

রংপুরে ডিসি’র সাথে যুবদল সেচ্ছাসেবকদল ও ছাত্রদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

গাজীপুরে এক অসহায় নারী তার দুই সন্তান নিয়ে স্বামীর কবরের পাশে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন; মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকায় চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাদের।

গাজীপুরে স্বামীর কবরের পাশে দুই সন্তান নিয়ে অসহায় জীবনযাপন

Update Time : ১২:৩৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার উত্তর লস্করচালা গ্রামে স্বামীর কবরের পাশে দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছেন সোনিয়া বেগম—এমন একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা এলাকাজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই ও মানবিক সহায়তার অভাবে চরম কষ্টে দিন কাটছে তার। তার সঙ্গে রয়েছে ৯ বছরের কন্যা ছোঁয়া এবং ১৮ মাস বয়সী দুগ্ধপোষ্য পুত্রসন্তান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনিয়া আক্তারের স্বামী সুজন মাহমুদের মৃত্যুর পর থেকেই পরিবারটি গভীর সংকটে পড়ে। সোনিয়ার অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির আর্থিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যথাযথ চিকিৎসার অভাবে তার স্বামী ধুঁকে ধুঁকে মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি জানতে পারেন, শ্বশুরবাড়িতে তার ও সন্তানদের জন্য আর কোনো জায়গা নেই।

সোনিয়ার দাবি, তার শ্বশুর কফিল উদ্দিন ও শাশুড়ি তাকে এবং তার সন্তানদের গ্রহণ করতে রাজি নন। এমনকি স্বামীর দাফনের সময়ও শ্বশুর উপস্থিত না থেকে স্থান ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

স্বামীর মৃত্যুর পর দুই সন্তান নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন সোনিয়া। স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলামের পরিবার মানবিক কারণে কিছুদিন তাকে আশ্রয় দিলেও পরবর্তীতে আইনি জটিলতার আশঙ্কায় সেই আশ্রয় স্থায়ী হয়নি। কোথাও আশ্রয় না পেয়ে শেষ পর্যন্ত স্বামীর কবরের পাশেই বসবাস শুরু করেন তিনি।

অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে সোনিয়া বেগম বলেন, “স্বামীর লাশ ফেলে শ্বশুর চলে গিয়েছিলেন। এখন এই দুই সন্তান নিয়ে কোথায় যাব? আমার আর কোনো জায়গা নেই। তাই বাধ্য হয়ে কবরের পাশেই আছি।”

এলাকাবাসীর অনেকেই মনে করছেন, পারিবারিক বিরোধ ভুলে শিশুদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো উচিত ছিল। স্থানীয় সচেতন মহল ও সমাজকর্মীরা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, সোনিয়া ও তার সন্তানদের নিরাপদ বসবাস ও আইনি অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুজনের মা সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তিনি বলেন, “তোমরা এখন চলে যাও, না হলে মারব।”

কালিয়াকৈর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষকে নিয়ে মীমাংসার চেষ্টা চলছে। সমাধান না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুত্র: দৈনিক যুগান্তর
লিংক: https://www.jugantor.com/country-news/1091997?fbclid=IwY2xjawRUoNlleHRuA2FlbQIxMABicmlkETEzSHJnaE8waU1tQ01USWI4c3J0YwZhcHBfaWQQMjIyMDM5MTc4ODIwMDg5MgABHun-5Wf9vEGvV6QXodkwJSf-g4NtqBx7p9l7yMZh2eDvB7Nt9Z2wogXwOyJJ_aem_UFhQq8lw_4-ZjalhEF0B1Q