০৭:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুরে মুক্তিযোদ্ধা দম্পতিকে হত্যা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে ডিআইজি ও পুলিশ সুপার

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:০৯:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৩০৭৩ বার পঠিত হয়েছে

আবুল হোসেন বাবলুঃ

রংপুরের মুক্তিযোদ্ধা ও তার স্ত্রী কে হত্যার ঘটনায়, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে, ডিআইজি ও পুলিশ সুপার।
খুনিদের গ্রেফতারে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার।

রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলার
কুর্শা ইউনিয়নের উত্তর রহিমাপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় (৭৫) ও তার স্ত্রী সুর্বণা রায় (৬০) কে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

শনিবার ৬ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে কুর্শা ইউনিয়নের উত্তর রহিমাপুর গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলী হোসেন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত করে হত্যাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুসিয়ারী দিয়েছেন।

তারাগঞ্জ থানার এস আই আবু ছাইয়ুম বলেছেন, দু’জনেরই মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। ঘটনার পর রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন এবং তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

নিহত যোগেশ চন্দ্র রায়ের বাড়ির দেখাশোনা করা পরিবারের সদস্য দীপক চন্দ্র রায় জানান, তার পরিবার ৪০-৫০ বছর ধরে যোগেশ চন্দ্র রায়ের বাড়ির দেখাশোনার কাজ করেন। তিনি প্রতিদিনের মতো রোববার ৭ ডিসেম্বর সকালে কাজ করতে সেখানে যান। সকাল ৭টা পর্যন্ত ঘর থেকে কেউ বের না হলে আমার সন্দেহ হয়। পরে ডাকাডাকি করেও সারা না পেয়ে আশপাশের লোকজনকে ডেকে মই বেয়ে উপর দিয়ে ঢুকে দেখা যায় ঘরে কেউ নেই। পরে ডাইনিং রুমের দরজা খুলে দেখেন যোগেশ চন্দ্রের রক্তাক্ত মরদেহ, আর রান্না ঘরে তার স্ত্রী সুর্বণা রায় এর মরদেহ পড়ে আছে। এরপর পুলিশে খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। স্থানীয়রা জানান, নিহত যোগেশ চন্দ্র রায় পেশায় একজন শিক্ষক ছিলেন। তিনি ২০১৭ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ থেকে অবসরে যান। তার দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে শোভেন চন্দ্র রায় থাকেন জয়পুরহাটে এবং ছোট ছেলে রাজেশ চন্দ্র রায় থাকেন ঢাকায়। তারা দুজনেই পুলিশে চাকরি করেন। গ্রামের বাড়িতে শুধু স্বামী-স্ত্রী দুজনই থাকতেন। সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার

রংপুরে মুক্তিযোদ্ধা দম্পতিকে হত্যা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে ডিআইজি ও পুলিশ সুপার

Update Time : ১০:০৯:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

আবুল হোসেন বাবলুঃ

রংপুরের মুক্তিযোদ্ধা ও তার স্ত্রী কে হত্যার ঘটনায়, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে, ডিআইজি ও পুলিশ সুপার।
খুনিদের গ্রেফতারে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার।

রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলার
কুর্শা ইউনিয়নের উত্তর রহিমাপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় (৭৫) ও তার স্ত্রী সুর্বণা রায় (৬০) কে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

শনিবার ৬ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে কুর্শা ইউনিয়নের উত্তর রহিমাপুর গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলী হোসেন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত করে হত্যাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুসিয়ারী দিয়েছেন।

তারাগঞ্জ থানার এস আই আবু ছাইয়ুম বলেছেন, দু’জনেরই মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। ঘটনার পর রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন এবং তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

নিহত যোগেশ চন্দ্র রায়ের বাড়ির দেখাশোনা করা পরিবারের সদস্য দীপক চন্দ্র রায় জানান, তার পরিবার ৪০-৫০ বছর ধরে যোগেশ চন্দ্র রায়ের বাড়ির দেখাশোনার কাজ করেন। তিনি প্রতিদিনের মতো রোববার ৭ ডিসেম্বর সকালে কাজ করতে সেখানে যান। সকাল ৭টা পর্যন্ত ঘর থেকে কেউ বের না হলে আমার সন্দেহ হয়। পরে ডাকাডাকি করেও সারা না পেয়ে আশপাশের লোকজনকে ডেকে মই বেয়ে উপর দিয়ে ঢুকে দেখা যায় ঘরে কেউ নেই। পরে ডাইনিং রুমের দরজা খুলে দেখেন যোগেশ চন্দ্রের রক্তাক্ত মরদেহ, আর রান্না ঘরে তার স্ত্রী সুর্বণা রায় এর মরদেহ পড়ে আছে। এরপর পুলিশে খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। স্থানীয়রা জানান, নিহত যোগেশ চন্দ্র রায় পেশায় একজন শিক্ষক ছিলেন। তিনি ২০১৭ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ থেকে অবসরে যান। তার দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে শোভেন চন্দ্র রায় থাকেন জয়পুরহাটে এবং ছোট ছেলে রাজেশ চন্দ্র রায় থাকেন ঢাকায়। তারা দুজনেই পুলিশে চাকরি করেন। গ্রামের বাড়িতে শুধু স্বামী-স্ত্রী দুজনই থাকতেন। সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।