
মো. শাহজাহান বাশার
কুমিল্লার লাকসামের গণ্ডামারা এলাকার রেললাইনের পাশ থেকে ১৮ বছরের যুবক মইন উদ্দিন অন্তরের লাশ উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১১ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে মোট ০৯ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ০৬টি মোবাইল ফোন।
এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হলে র্যাব-১১ দ্রুত গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে এবং একের পর এক অভিযান চালিয়ে ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতারে সক্ষম হয়।
র্যাব-১১ জানায়, ০৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে অদ্যাবধি দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর অভিযানে তারা—
২৯২ জন চাঞ্চল্যকর অপরাধী গ্রেফতার,শীর্ষ সন্ত্রাসী ০১ জন,আরসা সদস্য ১৫ জন,জঙ্গি ০২ জন,হত্যা মামলায় ১৯০ জন,ধর্ষণ মামলায় ১০০ জন,অস্ত্র মামলায় ৪০ জন গ্রেফতার,১২৫টি অস্ত্র ও ১৩৯৫ রাউন্ড গুলাবারুদ উদ্ধার,৪৭৮ জনের বেশি মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার,৮৩ জন অপহরণকারী গ্রেফতার ও ৯৩ জন ভিকটিম উদ্ধার,ছিনতাইকারী ও ডাকাত ৯৬ জন,জেল পলাতক ৩৯ জন,প্রতারণার মামলার আসামি ১৮ জনসহ মোট প্রায় ৫৯৩ জন অপরাধীকে আইনের আওতায় এনেছে।
র্যাব-১১ এর ধারাবাহিক এ সাফল্যে জনগণের আস্থা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি।
গত ২৫ নভেম্বর ২০২৫, সোমবার সকালে লাকসাম থানাধীন গণ্ডামারা এলাকার জবাইখানা সংলগ্ন ঢাকা–চট্টগ্রাম রেললাইনের পাশে স্থানীয় লোকজন এক যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়।
লাকসাম রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত যুবকের মুখমণ্ডল, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে নৃশংস আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরে মরদেহের সুরতহাল শেষে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়।
নিহত যুবক মইন উদ্দিন অন্তর (১৮), কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের নুরুন্নবীর ছেলে।
এ ঘটনায় নিহতের মা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে লাকসাম রেলওয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
হত্যাকাণ্ডটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক/প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচারিত হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পরপরই র্যাব-১১ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে এবং তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো—মোহাম্মদ রবিউল হোসেন ওরফে ক্যামেল (৩২) ,মো. ইসমাইল খান (২৫) ,মিলন হোসেন ওরফে ছোট মিলন (১৫),মো. হাসান ওরফে এমআই হাসান (২২)
৫–৯. একই চক্রের আরও পাঁচ সদস্য
এরা সবাই কুমিল্লার লাকসাম থানার গণ্ডামারা, নরপাটি, কাদরা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দা।এসময় তাদের কাছ থেকে ০৬টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার সদস্যরা স্বীকার করেছে—নিহত মইন উদ্দিন অন্তর স্থানীয় ‘গণ্ডামারা এতিমখানা’ এলাকায় একটি ভাঙারি দোকানে কাজ করতো।সে আগে থেকেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, চুরি, ছিনতাই ও মাদক লেনদেনে জড়িত ছিল এবং গ্রেফতারকৃতদের সাথেও তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। চুরি করা মালামালের ভাগবণ্টন এবং মাদক লেনদেন নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও শত্রুতার সৃষ্টি হয়।
ঘটনার দিন কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে অভিযুক্তরা তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে এবং লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে রেললাইনের পাশে ফেলে রেখে আসে।
গ্রেফতার হওয়া ৯ জনকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লাকসাম রেলওয়ে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব জানায়, হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো গোপন কারণ বা চক্রের সম্পৃক্ততা আছে কিনা তাও তদন্তে যাচাই করা হচ্ছে।
মইন উদ্দিন অন্তরের হত্যাকাণ্ডে জড়িত চক্রকে গ্রেফতারের মাধ্যমে র্যাব-১১ লাকসামসহ পুরো কুমিল্লা অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। স্থানীয়রা র্যাবের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন—এই মামলার তদন্তে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হবে এবং দোষীদের দ্রুত বিচার হবে।


















