০৭:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী শ্রমিকলীগের দপ্তর সম্পাদক থেকে রাতারাতি ‘বিএনপিপন্থী শ্রমিক নেতা’— তিতাস গ্যাসে বড় ধরনের লেনদেন ও আঁতাতের গন্ধ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:০৩:০১ অপরাহ্ন, রোববার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
  • ৩০৭৮ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শাহজাহান বাশার

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি–এর শ্রমিক সংগঠন ঘিরে চলছে তীব্র সমালোচনা, বিস্ময় এবং ক্ষোভ। সোনারগাঁও আঞ্চলিক কমিটিতে আওয়ামী শ্রমিকলীগের দপ্তর সম্পাদক পদে বহাল থাকা মোঃ ফয়জুল কীভাবে, কোন স্বার্থের টানে এবং কার ছত্রছায়ায় রাতারাতি “জাতীয়তাবাদী শ্রমিক নেতা” হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন—তা নিয়ে এখন সংগঠনের ভেতরে উত্তাল বিরোধ।

একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়—“বড় অঙ্কের টাকা–পয়সার বিনিময়ে ফয়জুলকে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের পতাকাতলে সক্রিয় করে তোলা হয়েছে।” এ অভিযোগ সংগঠনের অভ্যন্তরে আরও বিস্ফোরণ সৃষ্টি করেছে।
সূত্রদের দাবি, এ লেনদেনের পেছনে তিতাসের জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের শীর্ষ নেতাদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে।

“সভাপতি মতিন ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীরের সরাসরি আশীর্বাদ ছাড়া ফয়জুলের এমন রূপান্তর অসম্ভব।” ফয়জুলের হঠাৎ প্রভাবশালী চলাফেরা, দু’পক্ষের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং অফিসে দাপট—সবকিছুই প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র আরও জানায়—“ফয়জুল নিয়মিত তিতাস গ্যাস সোনারগাঁও এবং কাওরানবাজার তিতাস গ্যাস অফিসে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করছেন।”

৫ আগস্ট ২০২৪ সালের সরকার পরিবর্তনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকা ফয়জুল এখন আবার প্রকাশ্যে সক্রিয়। তিতাস গ্যাস সিবিএর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক নেতাদের মধ্যে অনেকে মনে করেন—“এটি রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার সর্বোচ্চ উদাহরণ, যেখানে টাকার লেনদেন ও ভবিষ্যৎ লাভের হিসাব সবচেয়ে বেশি।”

বিষয়টি জানতে—তিতাস গ্যাস সিবিএর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক নেতা সভাপতি মতিন, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর এবং অভিযুক্ত মোঃ ফয়জুল—তাদের বারবার কল করা হলেও কেউই ফোন ধরেননি। মোঃ ফয়জুল ফোন সংযোগ কেটে দেন—যা কর্মচারীদের সন্দেহকে আরও গাঢ় করেছে।

তিতাস গ্যাস সিবিএর একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন—“যে ব্যক্তি আওয়ামী শ্রমিকলীগের দায়িত্বে আছে, সে কীভাবে টাকার লোভে প্রতিপক্ষ শ্রমিক দলে ঢুকে পড়ে? এটি শ্রমিক সংগঠনকে দুর্বল করার নোংরা খেলা ছাড়া কিছুই নয়।”

তারা আরও অভিযোগ করেন—সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি আড়াল করছেন। গোপন তথ্য বলছে—“বিষয়টি যাতে মিডিয়ায় ফাঁস না হয়, সে জন্য কিছু অনলাইন সাংবাদিককে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা হয়েছে।”

এ অভিযোগ পুরো তিতাসকে নাড়িয়ে দিয়েছে। কর্মচারীদের প্রশ্ন—এই দুর্নীতি ও বিশ্বাসঘাতকতার জবাব দেবে কে? তারা জানতে চান—কত টাকার বিনিময়ে ফয়জুল রাজনৈতিক দল বদলালেন? কারা এ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত? সংগঠন দখলের এই নাটক কে পরিচালনা করছে? সভাপতি–সম্পাদক কেন নির্বিকার?

তারা দ্রুত স্বচ্ছ তদন্ত, সংগঠন পুনর্গঠন এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

আরপিএমপি’র অভিযানে ইয়াবা ও হেরোইনসহ গ্রেফতার-২

আওয়ামী শ্রমিকলীগের দপ্তর সম্পাদক থেকে রাতারাতি ‘বিএনপিপন্থী শ্রমিক নেতা’— তিতাস গ্যাসে বড় ধরনের লেনদেন ও আঁতাতের গন্ধ

Update Time : ০১:০৩:০১ অপরাহ্ন, রোববার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

মোঃ শাহজাহান বাশার

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি–এর শ্রমিক সংগঠন ঘিরে চলছে তীব্র সমালোচনা, বিস্ময় এবং ক্ষোভ। সোনারগাঁও আঞ্চলিক কমিটিতে আওয়ামী শ্রমিকলীগের দপ্তর সম্পাদক পদে বহাল থাকা মোঃ ফয়জুল কীভাবে, কোন স্বার্থের টানে এবং কার ছত্রছায়ায় রাতারাতি “জাতীয়তাবাদী শ্রমিক নেতা” হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন—তা নিয়ে এখন সংগঠনের ভেতরে উত্তাল বিরোধ।

একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়—“বড় অঙ্কের টাকা–পয়সার বিনিময়ে ফয়জুলকে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের পতাকাতলে সক্রিয় করে তোলা হয়েছে।” এ অভিযোগ সংগঠনের অভ্যন্তরে আরও বিস্ফোরণ সৃষ্টি করেছে।
সূত্রদের দাবি, এ লেনদেনের পেছনে তিতাসের জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের শীর্ষ নেতাদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে।

“সভাপতি মতিন ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীরের সরাসরি আশীর্বাদ ছাড়া ফয়জুলের এমন রূপান্তর অসম্ভব।” ফয়জুলের হঠাৎ প্রভাবশালী চলাফেরা, দু’পক্ষের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং অফিসে দাপট—সবকিছুই প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র আরও জানায়—“ফয়জুল নিয়মিত তিতাস গ্যাস সোনারগাঁও এবং কাওরানবাজার তিতাস গ্যাস অফিসে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করছেন।”

৫ আগস্ট ২০২৪ সালের সরকার পরিবর্তনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকা ফয়জুল এখন আবার প্রকাশ্যে সক্রিয়। তিতাস গ্যাস সিবিএর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক নেতাদের মধ্যে অনেকে মনে করেন—“এটি রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার সর্বোচ্চ উদাহরণ, যেখানে টাকার লেনদেন ও ভবিষ্যৎ লাভের হিসাব সবচেয়ে বেশি।”

বিষয়টি জানতে—তিতাস গ্যাস সিবিএর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক নেতা সভাপতি মতিন, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর এবং অভিযুক্ত মোঃ ফয়জুল—তাদের বারবার কল করা হলেও কেউই ফোন ধরেননি। মোঃ ফয়জুল ফোন সংযোগ কেটে দেন—যা কর্মচারীদের সন্দেহকে আরও গাঢ় করেছে।

তিতাস গ্যাস সিবিএর একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন—“যে ব্যক্তি আওয়ামী শ্রমিকলীগের দায়িত্বে আছে, সে কীভাবে টাকার লোভে প্রতিপক্ষ শ্রমিক দলে ঢুকে পড়ে? এটি শ্রমিক সংগঠনকে দুর্বল করার নোংরা খেলা ছাড়া কিছুই নয়।”

তারা আরও অভিযোগ করেন—সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি আড়াল করছেন। গোপন তথ্য বলছে—“বিষয়টি যাতে মিডিয়ায় ফাঁস না হয়, সে জন্য কিছু অনলাইন সাংবাদিককে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা হয়েছে।”

এ অভিযোগ পুরো তিতাসকে নাড়িয়ে দিয়েছে। কর্মচারীদের প্রশ্ন—এই দুর্নীতি ও বিশ্বাসঘাতকতার জবাব দেবে কে? তারা জানতে চান—কত টাকার বিনিময়ে ফয়জুল রাজনৈতিক দল বদলালেন? কারা এ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত? সংগঠন দখলের এই নাটক কে পরিচালনা করছে? সভাপতি–সম্পাদক কেন নির্বিকার?

তারা দ্রুত স্বচ্ছ তদন্ত, সংগঠন পুনর্গঠন এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।