
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশিমুল ইউনিয়নের কালিকাপুর বাজারে অবস্থিত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের ভক্ত আবুল মাইজভাণ্ডারীর নিজ বাড়িতে শুক্রবার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাৎসরিক মিলাদ, দোয়া ও ধর্মীয় আলোচনা মাহফিল। প্রতিবছরের মতো এবারও মাহফিলকে ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয় আধ্যাত্মিক পরিবেশ, আশেকান-জাকেরান, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজসেবক, ব্যবসায়ী এবং তরুণদের ঢল নামে অনুষ্ঠানে।
মাহফিলের মূল ধর্মীয় আলোচনা পেশ করেন মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের কালিকাপুর আনজুমানে মঈনিয়া খানকার খলিফাশাহ মোঃ জয়নাল আবেদীন। তিনি তাঁর বক্তৃতায় নৈতিকতা, সামাজিক মূল্যবোধ, মানুষের প্রতি ভালবাসা, এবং ওলি-আওলিয়াদের আদর্শ অনুসরণ করে সমাজ উন্নয়নে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন,
“মাইজভাণ্ডারী তরিকার মূল শিক্ষা মানবসেবা। যে সমাজে ভালোবাসা ও সহমর্মিতা থাকবে, সেই সমাজ কখনো অশান্ত হতে পারে না।”
এছাড়া ফকিরবাজার জালালিয়া দরবার শরীফের বিশিষ্ট বক্তা মোঃ শাহীন জালালীও ধর্মীয় আলোচনা পেশ করেন।
মাহফিলের মিলাদ পরিচালনা করেন দৈনিক মানবাধিকার প্রতিদিনের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার এবং দৈনিক জনতার মতামতের সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ শাহজাহান বাশার আল মাইজভাণ্ডারী। আধ্যাত্মিক কণ্ঠে তার পরিচালিত মিলাদে উপস্থিত সবার মন ভরে ওঠে।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—বাকশিমুল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজি জসিম উদ্দিন,বাকশিমুল ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি একেএম শাহজাহান,আনন্দপুর ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার রফিজুল ইসলাম,বিশিষ্ট সমাজসেবক, ব্যবসায়ী ও মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের ভক্ত জহিরুল ইসলাম,বুড়িচং উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ জালাল উদ্দিন খাঁন,anb24 নেট-এর সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম,
এছাড়াও এলাকার অসংখ্য রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, তরুণসমাজ এবং আশপাশের গ্রাম থেকে আগত আশেকান-জাকেরান মিলে শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মাহফিল শেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোমুগ্ধকর সেমা ও কাওয়ালি পরিবেশনা। আধ্যাত্মিক সুরের মূর্ছনায় পুরো পরিবেশ মাতোয়ারা হয়ে ওঠে। আশেকান-জাকেরান দোলায়িত হয়ে আল্লাহ-নবী এবং ওলি-আওলিয়াদের প্রেমের গানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহ এবং মানবতার কল্যাণ কামনা করে এক বিশেষ আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন খলিফাশাহ মোঃ জয়নাল আবেদীন। তিনি দোয়ার মাধ্যমে দেশের শান্তি, সকল মানুষের সুস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, ঐক্য এবং আগামী প্রজন্মের কল্যাণ কামনা করেন।
মোনাজাতে এলাকার মানুষ চোখের পানি ফেলে দোয়া করেন, যেন হকের পথে সমাজ আরও এগিয়ে যায় এবং মানুষের হৃদয়ে শান্তি ও সদাচরণ আরও বিস্তার লাভ করে।
মাহফিল শেষ হলে সবাইকে তবারক বিতরণ করা হয়। স্থানীয়রা জানান, আবুল মাইজভাণ্ডারীর পরিবারের উদ্যোগে আয়োজিত এ মাহফিল প্রতি বছরই একটি শান্তিপূর্ণ, অনুপ্রেরণাময় ও আধ্যাত্মিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।


















