০৭:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩৬ জুলাই স্মরণে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে হাজারো মানুষের ঢল।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ আগস্ট ২০২৫
  • ৩০২৯ বার পঠিত হয়েছে

জাতীয় বিদ্যুৎ শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদের ঐক্যজোটের বহিঃপ্রকাশ

মোঃ শাহজাহান বাশার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
মানিক মিয়া এভিনিউ, ঢাকা | ৫ আগস্ট ২০২৪

রাজধানীর বুকে আজ সৃষ্টি হলো এক বিরল দৃষ্টান্ত। ৩৬ জুলাই স্মরণে আজ ৫ আগস্ট সোমবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে এক বিশাল শ্রমিক ঐক্য সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদের ঐক্য, প্রত্যয় এবং জনসম্পৃক্ততা এ সমাবেশকে পরিণত করে এক বিশাল সামাজিক শক্তির বহিঃপ্রকাশে।

সমাবেশ কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয় বিদ্যুৎ শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. নং-বি-১৮৮৬)-এর জাতীয়তাবাদী অংশ। যারা দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক অধিকার আদায়ে আন্দোলন করে আসছেন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে আসা শ্রমিক ও সমর্থকরা ব্যানার-প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে এই জনসমাবেশে অংশ নেন। নেতৃত্বে ছিলেন মোঃ আব্দুল আলীম তালুকদার।

সমাবেশে ছিলেন ইউনিয়নের ঢাকা মহানগর আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল আলীম তালুকদার। তিনি তাঁর আবেগময় বক্তব্যে বলেন—

“৩৬ জুলাই আমাদের শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল দিন। এই দিনটি শুধুই একটি তারিখ নয়, বরং এটি জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদের আত্মত্যাগ, সাহস ও সংগ্রামের প্রতীক। আজকে আমাদের এই মহাসমাবেশ প্রমাণ করে— আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে, বৈষম্যের বিরুদ্ধে এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠে বলছি— আর নয় অন্যায়, এবার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।”

তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, কিভাবে জাতীয় স্বার্থের বিপক্ষে যেকোনো ষড়যন্ত্র বা দুর্নীতিকে প্রতিহত করতে শ্রমিক সমাজকে সংঘবদ্ধ হতে হবে।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিদ্যুৎ শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মরত শ্রমিক প্রতিনিধি, সাবেক ইউনিয়ন নেতা, ছাত্র ও যুব সংগঠনের নেতারাও। এ সময় তাঁরা শ্রমিকবান্ধব নীতিমালা ও দুর্নীতিমুক্ত বিদ্যুৎখাত গঠনের দাবি তুলে ধরেন।

সমাবেশে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচিত হয় তা হলো—
শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, বোনাস ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা
সরকারি নিয়োগ ও পদোন্নতি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব সংস্কার নিশ্চিতকরণ
জাতীয়তাবাদী চেতনায় একটি শক্তিশালী শ্রমিক ঐক্য গড়ে তোলা। নেতৃবৃন্দ বলেন, এখন সময় এসেছে রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে গিয়ে শ্রমিক স্বার্থে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার।

সমাবেশটি ঘিরে এলাকাজুড়ে নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয় যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়। পুরো আয়োজনটি ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ।

সমাবেশ শেষে একটি বিশাল র‍্যালি বের হয়, যা মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে শুরু হয়ে আশেপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে আবার মানিক মিয়ায় এসে শেষ হয়। এই র‍্যালিতে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয় রাজধানীর রাস্তাঘাট।

জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদের এমন সংঘবদ্ধ ও শৃঙ্খলিত উদ্যোগ শ্রমিক মহলে নতুন আশা জাগিয়েছে। অনেকে বলছেন, এই ঐক্যই আগামী দিনের শ্রমিক আন্দোলনের ভিত্তি রচনা করবে। শ্রমিক সমাজ এ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আরও সংগঠিত হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফারিয়া’র ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

৩৬ জুলাই স্মরণে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে হাজারো মানুষের ঢল।

Update Time : ০৭:১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ আগস্ট ২০২৫

জাতীয় বিদ্যুৎ শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদের ঐক্যজোটের বহিঃপ্রকাশ

মোঃ শাহজাহান বাশার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
মানিক মিয়া এভিনিউ, ঢাকা | ৫ আগস্ট ২০২৪

রাজধানীর বুকে আজ সৃষ্টি হলো এক বিরল দৃষ্টান্ত। ৩৬ জুলাই স্মরণে আজ ৫ আগস্ট সোমবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে এক বিশাল শ্রমিক ঐক্য সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদের ঐক্য, প্রত্যয় এবং জনসম্পৃক্ততা এ সমাবেশকে পরিণত করে এক বিশাল সামাজিক শক্তির বহিঃপ্রকাশে।

সমাবেশ কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয় বিদ্যুৎ শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. নং-বি-১৮৮৬)-এর জাতীয়তাবাদী অংশ। যারা দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক অধিকার আদায়ে আন্দোলন করে আসছেন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে আসা শ্রমিক ও সমর্থকরা ব্যানার-প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে এই জনসমাবেশে অংশ নেন। নেতৃত্বে ছিলেন মোঃ আব্দুল আলীম তালুকদার।

সমাবেশে ছিলেন ইউনিয়নের ঢাকা মহানগর আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল আলীম তালুকদার। তিনি তাঁর আবেগময় বক্তব্যে বলেন—

“৩৬ জুলাই আমাদের শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল দিন। এই দিনটি শুধুই একটি তারিখ নয়, বরং এটি জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদের আত্মত্যাগ, সাহস ও সংগ্রামের প্রতীক। আজকে আমাদের এই মহাসমাবেশ প্রমাণ করে— আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে, বৈষম্যের বিরুদ্ধে এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠে বলছি— আর নয় অন্যায়, এবার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।”

তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, কিভাবে জাতীয় স্বার্থের বিপক্ষে যেকোনো ষড়যন্ত্র বা দুর্নীতিকে প্রতিহত করতে শ্রমিক সমাজকে সংঘবদ্ধ হতে হবে।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিদ্যুৎ শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মরত শ্রমিক প্রতিনিধি, সাবেক ইউনিয়ন নেতা, ছাত্র ও যুব সংগঠনের নেতারাও। এ সময় তাঁরা শ্রমিকবান্ধব নীতিমালা ও দুর্নীতিমুক্ত বিদ্যুৎখাত গঠনের দাবি তুলে ধরেন।

সমাবেশে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচিত হয় তা হলো—
শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, বোনাস ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা
সরকারি নিয়োগ ও পদোন্নতি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব সংস্কার নিশ্চিতকরণ
জাতীয়তাবাদী চেতনায় একটি শক্তিশালী শ্রমিক ঐক্য গড়ে তোলা। নেতৃবৃন্দ বলেন, এখন সময় এসেছে রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে গিয়ে শ্রমিক স্বার্থে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার।

সমাবেশটি ঘিরে এলাকাজুড়ে নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয় যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়। পুরো আয়োজনটি ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ।

সমাবেশ শেষে একটি বিশাল র‍্যালি বের হয়, যা মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে শুরু হয়ে আশেপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে আবার মানিক মিয়ায় এসে শেষ হয়। এই র‍্যালিতে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয় রাজধানীর রাস্তাঘাট।

জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদের এমন সংঘবদ্ধ ও শৃঙ্খলিত উদ্যোগ শ্রমিক মহলে নতুন আশা জাগিয়েছে। অনেকে বলছেন, এই ঐক্যই আগামী দিনের শ্রমিক আন্দোলনের ভিত্তি রচনা করবে। শ্রমিক সমাজ এ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আরও সংগঠিত হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।