
আবুল হোসেন বাবলুঃ
রংপুরের গঙ্গাচড়া আলদাদপুর বালাপাড়া (ছয়আনি) হিন্দুপাড়ায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় অভিযুক্ত পাঁচ আসামীকে পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথ ভাবে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে। বুধবার ৩০ জুলাই গ্রেফতারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করেছে থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে যৌথবাহিনী।
বুধবার দুপুরে ধৃত আসামীদের বিরুদ্ধে গঙ্গাচড়া আমলী আদালতে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন, গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল এমরান। বিজ্ঞ আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কৃষ্ণ কমল রায় ৩১ জুলাই রিমান্ড আবেদন শুনানীর তারিখ নির্ধারণ করে তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে, মঙ্গলবার রাতে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় ভুক্তভোগী রবীন্দ্র নাথ রায় বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা এক হাজার ২’শ জনকে আসামী করে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর ভিডিও ফুটেজ, স্থির ছবি এবং তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় গঙ্গাচড়া থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালায়। এতে নিলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের সিংগেরগাড়ি মাঝাপাড়া গ্রামের লাভলু মিয়ার ছেলে ইয়াছিন আলী (২৫), ধনীপাড়ার নুর আলমের ছেলে স্বাধীন মিয়া (২৮), চাঁদখানা মাঝপাড়ার গোলাম মোস্তফার ছেলে আশরাফুল ইসলাম (২৮), পাঠানপাড়ার মৃত বাবুল খানের ছেলে এস এম আতিকুর রহমান খান আতিক (২২) ও চওড়া পাড়ার মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে সাদ্দাম হোসেন সেলিম (২২)কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তারা ঘটনাস্থলের পাশেই নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের বাসিন্দা। অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
কোর্ট ইন্সপেক্টর আমিনুল ইসলাম বলেন, হিন্দু পল্লিতে হামলার ঘটনায় স্থানীয় কেউ জড়িত এমন তথ্য পাওয়া যায়নি এবং স্থানীয় মানুষজন হামলাকারীদের চিনতে পারেনি। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ একত্রিত হয়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটিয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি নির্মাণ করে দেয়ায় ছয়আনি গ্রামের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিজ তদারকিতে ক্ষতিগ্রস্থ ঘরবাড়ি মেরামত করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা সার্বক্ষণিক তাদের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবি ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এলাকা পরিদর্শন করেছে। গ্রামের মানুষদের নিরাপত্তার জন্য সেখানে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। ###

















