০১:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান: দর্শনার চিহ্নিত ‘মাদক সম্রাট’ মগরব গ্রেফতার, ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার, এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:১২:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩০৮০ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ মিনারুল ইসলাম চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা থানা পুলিশের মাদকবিরোধী এক বিশেষ অভিযানে অবশেষে ধরা পড়েছেন মাদক নেটওয়ার্কের চিহ্নিত নেতা ও স্বঘোষিত ‘মাদক সম্রাট’ মগরব আলী।

আজ সোমবার (১৩ অক্টোবর) ২০২৫ সকালে পরিচালিত এই সফল অভিযানে তার কাছ থেকে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বাজারমূল্যের ৪ (চার) কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলা, বিপিএম-সেবা মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনা এবং দর্শনা থানার চৌকস অফিসার ইনচার্জ মুহম্মদ শহীদ তিতুমীর-এর নিবিড় তত্ত্বাবধানে এই গুরুত্বপূর্ণ অভিযান পরিচালিত হয়।

পুলিশের এই ধারাবাহিক ও কঠোর মাদকবিরোধী পদক্ষেপে এলাকায় ব্যাপক স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে সোমবার সকালে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়।

সকাল ০৯ টা ৫০ মিনিটে দর্শনা থানাধীন দক্ষিণ চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ডপাড়া এলাকার মিঠাই ঘর নামক দোকানের সামনে অভিযান চালায় পুলিশ দল।
এসআই (নিঃ) মোঃ মাসুদুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্সসহ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে ওত পেতে ছিল পুলিশ। একপর্যায়ে জয়নগর গ্রামের মৃত আজাদ আলীর ছেলে চিহ্নিত মাদক কারবারি মোঃ মগরব আলী (৪৪)-কে হাতেনাতে আটক করা হয়।

তল্লাশির সময় তাঁর হেফাজতে থাকা ৪ (চার) কেজি গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ মুহম্মদ শহীদ তিতুমীর এই সফল অভিযান প্রসঙ্গে বলেন, “মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে দর্শনা থানা পুলিশ বদ্ধপরিকর এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত যেই হোক না কেন, তাদের জন্য দর্শনার মাটিতে কোনো ছাড় নেই।

মাদক নেটওয়ার্কের মূল হোতাদের নির্মূল না করা পর্যন্ত আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকর করা হচ্ছে এবং এই ধরনের অভিযানে স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।

দীর্ঘদিন ধরে এলাকার চিহ্নিত এই মাদক কারবারি মোঃ মগরব আলীর অবৈধ কার্যকলাপের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা অতিষ্ঠ ছিলেন। মাদক ব্যবসা ও এর সংশ্লিষ্ট অপরাধ কর্মকাণ্ড এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছিল।

মাদক সম্রাট মগরব আলীর গ্রেফতারের খবরে দক্ষিণ চাঁদপুরসহ আশপাশের এলাকায় স্বস্তি ও আনন্দ বিরাজ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ এবং দর্শনা থানা পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “পুলিশের এই ধারাবাহিক মাদকবিরোধী অভিযান আমাদের সন্তানদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।

আমরা আশা করি, এই ধরনের কঠোরতা অব্যাহত থাকবে।” মাদকমুক্ত সমাজের প্রত্যয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ যে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে, এই সফল অভিযান তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিশের এই জিরো টলারেন্স নীতি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করছেন সাধারণ মানুষ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

র‍্যাবের অভিযানে ভুট্টার খড়ির মধ্য থেকে মিললো গাঁজা গ্রেফতার-৩

মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান: দর্শনার চিহ্নিত ‘মাদক সম্রাট’ মগরব গ্রেফতার, ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার, এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি

Update Time : ১০:১২:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫

মোঃ মিনারুল ইসলাম চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা থানা পুলিশের মাদকবিরোধী এক বিশেষ অভিযানে অবশেষে ধরা পড়েছেন মাদক নেটওয়ার্কের চিহ্নিত নেতা ও স্বঘোষিত ‘মাদক সম্রাট’ মগরব আলী।

আজ সোমবার (১৩ অক্টোবর) ২০২৫ সকালে পরিচালিত এই সফল অভিযানে তার কাছ থেকে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বাজারমূল্যের ৪ (চার) কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলা, বিপিএম-সেবা মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনা এবং দর্শনা থানার চৌকস অফিসার ইনচার্জ মুহম্মদ শহীদ তিতুমীর-এর নিবিড় তত্ত্বাবধানে এই গুরুত্বপূর্ণ অভিযান পরিচালিত হয়।

পুলিশের এই ধারাবাহিক ও কঠোর মাদকবিরোধী পদক্ষেপে এলাকায় ব্যাপক স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে সোমবার সকালে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়।

সকাল ০৯ টা ৫০ মিনিটে দর্শনা থানাধীন দক্ষিণ চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ডপাড়া এলাকার মিঠাই ঘর নামক দোকানের সামনে অভিযান চালায় পুলিশ দল।
এসআই (নিঃ) মোঃ মাসুদুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্সসহ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে ওত পেতে ছিল পুলিশ। একপর্যায়ে জয়নগর গ্রামের মৃত আজাদ আলীর ছেলে চিহ্নিত মাদক কারবারি মোঃ মগরব আলী (৪৪)-কে হাতেনাতে আটক করা হয়।

তল্লাশির সময় তাঁর হেফাজতে থাকা ৪ (চার) কেজি গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ মুহম্মদ শহীদ তিতুমীর এই সফল অভিযান প্রসঙ্গে বলেন, “মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে দর্শনা থানা পুলিশ বদ্ধপরিকর এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত যেই হোক না কেন, তাদের জন্য দর্শনার মাটিতে কোনো ছাড় নেই।

মাদক নেটওয়ার্কের মূল হোতাদের নির্মূল না করা পর্যন্ত আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকর করা হচ্ছে এবং এই ধরনের অভিযানে স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।

দীর্ঘদিন ধরে এলাকার চিহ্নিত এই মাদক কারবারি মোঃ মগরব আলীর অবৈধ কার্যকলাপের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা অতিষ্ঠ ছিলেন। মাদক ব্যবসা ও এর সংশ্লিষ্ট অপরাধ কর্মকাণ্ড এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছিল।

মাদক সম্রাট মগরব আলীর গ্রেফতারের খবরে দক্ষিণ চাঁদপুরসহ আশপাশের এলাকায় স্বস্তি ও আনন্দ বিরাজ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ এবং দর্শনা থানা পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “পুলিশের এই ধারাবাহিক মাদকবিরোধী অভিযান আমাদের সন্তানদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।

আমরা আশা করি, এই ধরনের কঠোরতা অব্যাহত থাকবে।” মাদকমুক্ত সমাজের প্রত্যয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ যে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে, এই সফল অভিযান তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিশের এই জিরো টলারেন্স নীতি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করছেন সাধারণ মানুষ।