১২:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দারিদ্র্যমুক্ত বহুমুখী সমবায় সমিতির নামে কুড়িগ্রামে ৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:২৪:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩০২৩ বার পঠিত হয়েছে

আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:-
শনিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৫ ইং ০৫:০০ পিএম.

নিজেদের গচ্ছিত অর্থ ফেরত পেতে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের জোড়গাছ নতুন বাজার এলাকায় বেসরকারি দারিদ্র্যমুক্ত বহুমুখী সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন সহস্রাধিক প্রতারিত ভুক্তভোগী।

শনিবার (০৪ অক্টোবর) বেলা ১১টায় উপজেলার রমনা মডেল ইউনিয়নের জোড়গাছ নতুন বাজারে এ বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন তারা।

জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের জোড়গাছ নতুন বাজার এলাকায় দারিদ্র্যমুক্ত বহুমুখী সমবায় সমিতির নামে একটি সংগঠন ২০০৭ সালের জুন মাসে প্রতিষ্ঠিত হয়।

পরবর্তীতে ওই বছরেই চিলমারী উপজেলা সমবায় অফিস থেকে রেজিস্ট্রেশন পায় সমিতিটি। সমিতির নাম করে একটি চক্র প্রায় ৩ হাজার সদস্য নিয়ে লোক দেখানো ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম শুরু করে। সমিতিতে টাকা রাখলে উচ্চ হারে লভ্যাংশ প্রদানের লোভ দেখিয়ে বিভিন্ন মেয়াদে তারা ৩ থেকে ৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এবং সমিতির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

অর্থ ফেরত নিতে গেলে সদস্যদের অনেক দিন ধরে বিভিন্ন রকম টালবাহানা করে আসছে সমিতির কর্তৃপক্ষ। কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পেতে শনিবার সকালে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে প্রতারিত সহস্রাধিক ভুক্তভোগী।

এ সময় ভুক্তভোগী ছকিনা বেগম (৬০) বলেন, আমি ভিক্ষা করে এবং মাটি কাটার কাজ করে গচ্ছিত সাড়ে ৬ লাখ টাকা ওই সমিতিতে রেখেছিলাম। সেই টাকা ফেরত না পেয়ে আমি প্রায় পাগল হয়ে গেছি।

খড়খড়িয়া এলাকার রিপন মিয়ার ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা, থানাহাট ইউনিয়নের সবুজপাড়া এলাকার জয়ন্ত রায় জয়ন ১ লাখ ২২ হাজার টাকা, সরকারপাড়া এলাকার এরশাদুল হক ৮০ হাজার টাকা, জোড়গাছ সাত ঘড়িপাড়া এলাকার সুফিয়া দেওয়া ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা, একই এলাকার জেলেখা বেওয়া ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা, কসভান বেওয়া ৬০ হাজার টাকা, মিম আক্তার ৩৬ হাজার ৫০০ টাকাসহ প্রায় ৩ হাজার গ্রাহকের নিকট থেকে ৩ থেকে ৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা জানান তারা।

দারিদ্র্যমুক্ত বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুর আলম বলেন, সমিতির পরিচালক আনিসুর রহমান আনিস এবং মিল্টন অর্থ উত্তোলনকারী ১৭ জন কর্মচারীর কাগজপত্র তাদের জিম্মায় নেওয়ায় আমরা হিসাব দিতে পারছি না। তবে গত এক সপ্তাহ আগে সাড়ে ৩৩ শতাংশ জমি ৯৫ লাখ টাকা পরিশোধের জন্য সাতটি দলিল মূলে দেওয়া হয়েছে। বাকি গ্রাহকদের পরিশোধ করার মতো অর্থ সমিতিতে নেই।

দারিদ্র্যমুক্ত বহুমুখী সমবায় সমিতির পরিচালক (ঋণ) আনিসুর রহমান আনিসের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তাকে পাওয়া যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

আরপিএমপি’র অভিযানে ইয়াবা ও হেরোইনসহ গ্রেফতার-২

দারিদ্র্যমুক্ত বহুমুখী সমবায় সমিতির নামে কুড়িগ্রামে ৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

Update Time : ০৬:২৪:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫

আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:-
শনিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৫ ইং ০৫:০০ পিএম.

নিজেদের গচ্ছিত অর্থ ফেরত পেতে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের জোড়গাছ নতুন বাজার এলাকায় বেসরকারি দারিদ্র্যমুক্ত বহুমুখী সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন সহস্রাধিক প্রতারিত ভুক্তভোগী।

শনিবার (০৪ অক্টোবর) বেলা ১১টায় উপজেলার রমনা মডেল ইউনিয়নের জোড়গাছ নতুন বাজারে এ বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন তারা।

জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের জোড়গাছ নতুন বাজার এলাকায় দারিদ্র্যমুক্ত বহুমুখী সমবায় সমিতির নামে একটি সংগঠন ২০০৭ সালের জুন মাসে প্রতিষ্ঠিত হয়।

পরবর্তীতে ওই বছরেই চিলমারী উপজেলা সমবায় অফিস থেকে রেজিস্ট্রেশন পায় সমিতিটি। সমিতির নাম করে একটি চক্র প্রায় ৩ হাজার সদস্য নিয়ে লোক দেখানো ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম শুরু করে। সমিতিতে টাকা রাখলে উচ্চ হারে লভ্যাংশ প্রদানের লোভ দেখিয়ে বিভিন্ন মেয়াদে তারা ৩ থেকে ৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এবং সমিতির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

অর্থ ফেরত নিতে গেলে সদস্যদের অনেক দিন ধরে বিভিন্ন রকম টালবাহানা করে আসছে সমিতির কর্তৃপক্ষ। কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পেতে শনিবার সকালে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে প্রতারিত সহস্রাধিক ভুক্তভোগী।

এ সময় ভুক্তভোগী ছকিনা বেগম (৬০) বলেন, আমি ভিক্ষা করে এবং মাটি কাটার কাজ করে গচ্ছিত সাড়ে ৬ লাখ টাকা ওই সমিতিতে রেখেছিলাম। সেই টাকা ফেরত না পেয়ে আমি প্রায় পাগল হয়ে গেছি।

খড়খড়িয়া এলাকার রিপন মিয়ার ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা, থানাহাট ইউনিয়নের সবুজপাড়া এলাকার জয়ন্ত রায় জয়ন ১ লাখ ২২ হাজার টাকা, সরকারপাড়া এলাকার এরশাদুল হক ৮০ হাজার টাকা, জোড়গাছ সাত ঘড়িপাড়া এলাকার সুফিয়া দেওয়া ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা, একই এলাকার জেলেখা বেওয়া ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা, কসভান বেওয়া ৬০ হাজার টাকা, মিম আক্তার ৩৬ হাজার ৫০০ টাকাসহ প্রায় ৩ হাজার গ্রাহকের নিকট থেকে ৩ থেকে ৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা জানান তারা।

দারিদ্র্যমুক্ত বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুর আলম বলেন, সমিতির পরিচালক আনিসুর রহমান আনিস এবং মিল্টন অর্থ উত্তোলনকারী ১৭ জন কর্মচারীর কাগজপত্র তাদের জিম্মায় নেওয়ায় আমরা হিসাব দিতে পারছি না। তবে গত এক সপ্তাহ আগে সাড়ে ৩৩ শতাংশ জমি ৯৫ লাখ টাকা পরিশোধের জন্য সাতটি দলিল মূলে দেওয়া হয়েছে। বাকি গ্রাহকদের পরিশোধ করার মতো অর্থ সমিতিতে নেই।

দারিদ্র্যমুক্ত বহুমুখী সমবায় সমিতির পরিচালক (ঋণ) আনিসুর রহমান আনিসের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তাকে পাওয়া যায়নি।