০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় তেল কারচুপির অপরাধে ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৪৩:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩০৩০ বার পঠিত হয়েছে

মিনারুল ইসলাম,
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ

চুয়াডাঙ্গা জেলার সদর উপজেলার সরোজগঞ্জে গ্রাহকদের জ্বালানি তেল পরিমাপে কম দেওয়ায় মেসার্স মনিরুল ফিলিং স্টেশনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। আজ বৃহস্পতিবার ০৯ এপ্রিল বিকেলে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে এই দণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মেসার্স মনিরুল ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের তেল কম দেওয়ার অভিযোগ ছিল। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরা লিটারপ্রতি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল কম পাচ্ছেন বলে অধিদপ্তরে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দাখিল করেন। এরই প্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে চুয়াডাঙ্গা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে সরোজগঞ্জ বাজার এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালানো হয়।

অভিযান চলাকালীন কর্মকর্তারা পাম্পের নজেলে তেল পরিমাপের স্ট্যান্ডার্ড মেজারমেন্ট কাপ দিয়ে পরীক্ষা করেন। পরীক্ষায় দেখা যায়: প্রতি লিটার জ্বালানি তেলে ২৫ থেকে ৩০ মিলিলিটার পর্যন্ত তেল কম দেওয়া হচ্ছে। হিসাব করলে দেখা যায়, প্রতি ৫ লিটার তেলে গ্রাহক প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ মিলিলিটার তেল থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন।দীর্ঘদিন ধরে এই কারচুপির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

পাম্প কর্তৃপক্ষের এই কারচুপির অপরাধ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন -২০০৯ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মেসার্স মনিরুল ফিলিং স্টেশনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান শেষে সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, সাধারণ মানুষের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা এই অভিযান পরিচালনা করেছি। পরিমাপে কারচুপি করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। একটি ফিলিং স্টেশনে ৫ লিটারে ৩০০ মিলিলিটার কম দেওয়া মানে গ্রাহকের সঙ্গে চরম প্রতারণা। জনস্বার্থে আমাদের এই ধরনের তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযান চলাকালে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের একটি চৌকস টিম সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ড না করার জন্য পাম্প মালিককে সতর্ক করা হয়েছে। ফিলিং স্টেশনের এই জরিমানার খবরে স্থানীয় গ্রাহকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা নিয়মিত এমন তদারকি বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

রংপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে মৌসুমি ফল উৎসব অনুষ্ঠিত

চুয়াডাঙ্গায় তেল কারচুপির অপরাধে ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা

Update Time : ০৯:৪৩:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

মিনারুল ইসলাম,
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ

চুয়াডাঙ্গা জেলার সদর উপজেলার সরোজগঞ্জে গ্রাহকদের জ্বালানি তেল পরিমাপে কম দেওয়ায় মেসার্স মনিরুল ফিলিং স্টেশনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। আজ বৃহস্পতিবার ০৯ এপ্রিল বিকেলে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে এই দণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মেসার্স মনিরুল ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের তেল কম দেওয়ার অভিযোগ ছিল। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরা লিটারপ্রতি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল কম পাচ্ছেন বলে অধিদপ্তরে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দাখিল করেন। এরই প্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে চুয়াডাঙ্গা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে সরোজগঞ্জ বাজার এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালানো হয়।

অভিযান চলাকালীন কর্মকর্তারা পাম্পের নজেলে তেল পরিমাপের স্ট্যান্ডার্ড মেজারমেন্ট কাপ দিয়ে পরীক্ষা করেন। পরীক্ষায় দেখা যায়: প্রতি লিটার জ্বালানি তেলে ২৫ থেকে ৩০ মিলিলিটার পর্যন্ত তেল কম দেওয়া হচ্ছে। হিসাব করলে দেখা যায়, প্রতি ৫ লিটার তেলে গ্রাহক প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ মিলিলিটার তেল থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন।দীর্ঘদিন ধরে এই কারচুপির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

পাম্প কর্তৃপক্ষের এই কারচুপির অপরাধ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন -২০০৯ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মেসার্স মনিরুল ফিলিং স্টেশনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান শেষে সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, সাধারণ মানুষের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা এই অভিযান পরিচালনা করেছি। পরিমাপে কারচুপি করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। একটি ফিলিং স্টেশনে ৫ লিটারে ৩০০ মিলিলিটার কম দেওয়া মানে গ্রাহকের সঙ্গে চরম প্রতারণা। জনস্বার্থে আমাদের এই ধরনের তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযান চলাকালে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের একটি চৌকস টিম সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ড না করার জন্য পাম্প মালিককে সতর্ক করা হয়েছে। ফিলিং স্টেশনের এই জরিমানার খবরে স্থানীয় গ্রাহকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা নিয়মিত এমন তদারকি বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন।