০৩:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মাত্র ছয় মাসের সাধারণ প্রশিক্ষণ নিয়ে প্যাডে ‘বিশেষজ্ঞ’ পরিচয়; অপচিকিৎসার আশঙ্কায় স্থানীয় জনমনে ক্ষোভ ও উদ্বেগ।

কোটালীপাড়ায় ‘রতি হোমিও ফার্মেসি’ ঘিরে বিতর্ক; ছয় মাসের প্রশিক্ষণে চলছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা!

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:০৫:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • ৩০৪৮ বার পঠিত হয়েছে

বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকার, বিশেষ প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া পৌর এলাকার পৌর মার্কেটে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত একটি কথিত হোমিও চিকিৎসাকেন্দ্রকে ঘিরে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। “রতি হোমিও ফার্মেসি” নামে দোকানটি (দোকান নং–১১৩, ব্লক–৮, পৌর মার্কেট) পরিচালনা করছেন ডা. রাম কৃষ্ণ গুহ নামে এক ব্যক্তি।

সম্প্রতি সাংবাদিকদের একটি দল সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহে গেলে তিনি জানান, পারিবারিকভাবে চিকিৎসা শিখেছেন এবং ছয় মাসের একটি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তবে চিকিৎসা-সংক্রান্ত কোনো স্বীকৃত ডিগ্রি, নিবন্ধন সনদ বা অনুমোদিত প্রশিক্ষণের প্রমাণপত্র দেখাতে পারেননি,(ডি এইস এম এস/ বি এইস এম এস)তো দূরের কথা । তিনি নিজেকে এলএইচএমপি (LHMP) হিসেবে পরিচয় দিলেও এর পক্ষে কোনো সরকারি বা স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের সনদ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন।

ভুল চিকিৎসার ঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ও অনুমোদন ছাড়াই তিনি নতুন, পুরোনো ও জটিল বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার দাবি করছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে “জার্মানি ঔষধ” ব্যবহার করে জটিল রোগ নিরাময়ের প্রচার সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় এক ভুক্তভোগী বলেন,
“তিনি যদি প্রকৃত ডিগ্রিধারী না হন, তাহলে ভুল চিকিৎসায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তখন এর দায় কে নেবে?”

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

এলাকাবাসীর জোর দাবি—

রতি হোমিও ফার্মেসির বৈধতা যাচাই করা

ডা. রাম কৃষ্ণ গুহর ডিগ্রি ও নিবন্ধন তদন্ত করা

অনুমোদনহীন চিকিৎসা প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুয়া বা অর্ধশিক্ষিত ব্যক্তির হাতে চিকিৎসা নেওয়া জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হতে পারে। তাই বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এখন প্রশ্ন উঠেছে—
কার অনুমতিতে ডিগ্রিবিহীন ব্যক্তি নিজেকে চিকিৎসক পরিচয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন? স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন কি এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে?

এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফারিয়া’র ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

মাত্র ছয় মাসের সাধারণ প্রশিক্ষণ নিয়ে প্যাডে ‘বিশেষজ্ঞ’ পরিচয়; অপচিকিৎসার আশঙ্কায় স্থানীয় জনমনে ক্ষোভ ও উদ্বেগ।

কোটালীপাড়ায় ‘রতি হোমিও ফার্মেসি’ ঘিরে বিতর্ক; ছয় মাসের প্রশিক্ষণে চলছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা!

Update Time : ০৬:০৫:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকার, বিশেষ প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া পৌর এলাকার পৌর মার্কেটে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত একটি কথিত হোমিও চিকিৎসাকেন্দ্রকে ঘিরে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। “রতি হোমিও ফার্মেসি” নামে দোকানটি (দোকান নং–১১৩, ব্লক–৮, পৌর মার্কেট) পরিচালনা করছেন ডা. রাম কৃষ্ণ গুহ নামে এক ব্যক্তি।

সম্প্রতি সাংবাদিকদের একটি দল সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহে গেলে তিনি জানান, পারিবারিকভাবে চিকিৎসা শিখেছেন এবং ছয় মাসের একটি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তবে চিকিৎসা-সংক্রান্ত কোনো স্বীকৃত ডিগ্রি, নিবন্ধন সনদ বা অনুমোদিত প্রশিক্ষণের প্রমাণপত্র দেখাতে পারেননি,(ডি এইস এম এস/ বি এইস এম এস)তো দূরের কথা । তিনি নিজেকে এলএইচএমপি (LHMP) হিসেবে পরিচয় দিলেও এর পক্ষে কোনো সরকারি বা স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের সনদ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন।

ভুল চিকিৎসার ঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ও অনুমোদন ছাড়াই তিনি নতুন, পুরোনো ও জটিল বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার দাবি করছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে “জার্মানি ঔষধ” ব্যবহার করে জটিল রোগ নিরাময়ের প্রচার সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় এক ভুক্তভোগী বলেন,
“তিনি যদি প্রকৃত ডিগ্রিধারী না হন, তাহলে ভুল চিকিৎসায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তখন এর দায় কে নেবে?”

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

এলাকাবাসীর জোর দাবি—

রতি হোমিও ফার্মেসির বৈধতা যাচাই করা

ডা. রাম কৃষ্ণ গুহর ডিগ্রি ও নিবন্ধন তদন্ত করা

অনুমোদনহীন চিকিৎসা প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুয়া বা অর্ধশিক্ষিত ব্যক্তির হাতে চিকিৎসা নেওয়া জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হতে পারে। তাই বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এখন প্রশ্ন উঠেছে—
কার অনুমতিতে ডিগ্রিবিহীন ব্যক্তি নিজেকে চিকিৎসক পরিচয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন? স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন কি এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে?

এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন।