০৩:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দকে এগিয়ে আসতে হবে – বিএসপি চেয়ারম্যান শাহসুফি সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৫১:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩০৬৪ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শাহজাহান বাশার

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিভেদ সৃষ্টির যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি)-এর চেয়ারম্যান হযরত শাহসুফি সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর গোবিন্দপুর রহমানিয়া মইনীয়া কমপ্লেক্স ময়দানে আয়োজিত বার্ষিক ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন,“ইসলাম শান্তি-সম্প্রীতির ধর্ম। ইসলাম কখনও অন্য ধর্মের ওপর আঘাত বা বৈষম্য সমর্থন করে না। প্রিয় নবীজী (সা.) ‘মদীনা সনদ’-এর মাধ্যমে সকল ধর্মাবলম্বীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং তাদের নিরাপত্তা দিয়েছেন—এটাই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা।”

তিনি আরও বলেন,“যুগে যুগে সুফি সাধক ও আউলিয়া-এ-কেরাম মানুষকে এই মানবিক ও সহিষ্ণু ইসলামের শিক্ষা দিয়ে গেছেন। তাঁদের নিরলস প্রচেষ্টায় উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আজ হাজার বছরের গৌরবময় ঐতিহ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানালে নিজের ধর্মের সৌন্দর্য আরও উজ্জ্বল হয়।”

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বিএসপি চেয়ারম্যান বলেন,“বর্তমান সরকারের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কিছু মানুষ দেশকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্র করছে। তারা সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে একে অপরের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিচ্ছে। হিংসা-প্রতিহিংসা এখন রাজনীতির চর্চায় পরিণত হয়েছে। একদল উগ্রপন্থী, রক্ষণশীল ও ধর্মীয় উগ্রবাদীকে একত্রিত করে বাকিদের ফ্যাসিবাদী হিসেবে চিহ্নিত করে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই একটি গণতান্ত্রিক সমাজের সংস্কৃতি হতে পারে না।”

তিনি বলেন,“এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সকলের ধৈর্য, সংযম ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমেই আমরা সংকট অতিক্রম করতে পারব।”

মাহফিলের সভাপতিত্ব করেন খলিফা আবুল কালাম আজাদ।
বিশেষ অতিথি ছিলেন আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়া কেন্দ্রীয় পরিষদের মহাসচিব আলহাজ্ব শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খান মাইজভাণ্ডারী।

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা ঘিলাতলা দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন আল্লামা মুফতি বাকিবিল্লাহ আল আজহারী, মইনীয়া নজরুলীয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন মাওলানা শেখ সাদী আব্দুল্লাহ সাধকপুরী, মাওলানা জহিরুল ইসলাম, হাফেজ মাওলানা আব্দুল কাদের ও হাফেজ সোহাগ আল কাদেরী প্রমুখ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম, স্থানীয় খলিফাবৃন্দ, আঞ্জুমান-এ-রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়া ও মইনীয়া যুব ফোরামের নেতৃবৃন্দ।

মিলাদ ও কিয়াম শেষে মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ, দেশ ও বিশ্ববাসীর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন শাহসুফি সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফারিয়া’র ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দকে এগিয়ে আসতে হবে – বিএসপি চেয়ারম্যান শাহসুফি সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী

Update Time : ০৭:৫১:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

মোঃ শাহজাহান বাশার

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিভেদ সৃষ্টির যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি)-এর চেয়ারম্যান হযরত শাহসুফি সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর গোবিন্দপুর রহমানিয়া মইনীয়া কমপ্লেক্স ময়দানে আয়োজিত বার্ষিক ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন,“ইসলাম শান্তি-সম্প্রীতির ধর্ম। ইসলাম কখনও অন্য ধর্মের ওপর আঘাত বা বৈষম্য সমর্থন করে না। প্রিয় নবীজী (সা.) ‘মদীনা সনদ’-এর মাধ্যমে সকল ধর্মাবলম্বীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং তাদের নিরাপত্তা দিয়েছেন—এটাই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা।”

তিনি আরও বলেন,“যুগে যুগে সুফি সাধক ও আউলিয়া-এ-কেরাম মানুষকে এই মানবিক ও সহিষ্ণু ইসলামের শিক্ষা দিয়ে গেছেন। তাঁদের নিরলস প্রচেষ্টায় উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আজ হাজার বছরের গৌরবময় ঐতিহ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানালে নিজের ধর্মের সৌন্দর্য আরও উজ্জ্বল হয়।”

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বিএসপি চেয়ারম্যান বলেন,“বর্তমান সরকারের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কিছু মানুষ দেশকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্র করছে। তারা সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে একে অপরের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিচ্ছে। হিংসা-প্রতিহিংসা এখন রাজনীতির চর্চায় পরিণত হয়েছে। একদল উগ্রপন্থী, রক্ষণশীল ও ধর্মীয় উগ্রবাদীকে একত্রিত করে বাকিদের ফ্যাসিবাদী হিসেবে চিহ্নিত করে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই একটি গণতান্ত্রিক সমাজের সংস্কৃতি হতে পারে না।”

তিনি বলেন,“এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সকলের ধৈর্য, সংযম ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমেই আমরা সংকট অতিক্রম করতে পারব।”

মাহফিলের সভাপতিত্ব করেন খলিফা আবুল কালাম আজাদ।
বিশেষ অতিথি ছিলেন আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়া কেন্দ্রীয় পরিষদের মহাসচিব আলহাজ্ব শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খান মাইজভাণ্ডারী।

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা ঘিলাতলা দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন আল্লামা মুফতি বাকিবিল্লাহ আল আজহারী, মইনীয়া নজরুলীয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন মাওলানা শেখ সাদী আব্দুল্লাহ সাধকপুরী, মাওলানা জহিরুল ইসলাম, হাফেজ মাওলানা আব্দুল কাদের ও হাফেজ সোহাগ আল কাদেরী প্রমুখ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম, স্থানীয় খলিফাবৃন্দ, আঞ্জুমান-এ-রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়া ও মইনীয়া যুব ফোরামের নেতৃবৃন্দ।

মিলাদ ও কিয়াম শেষে মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ, দেশ ও বিশ্ববাসীর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন শাহসুফি সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী।