০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লকডাউন’ রুখে দেওয়ার ঘোষণা পুলিশের, কী করবে আওয়ামী লীগ?

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:১৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
  • ৩০৩২ বার পঠিত হয়েছে

শেখ হাসিনার ঘোষিত কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা–নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশ প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে

মো. শাহজাহান বাশার

শেখ হাসিনার ঘোষিত কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা–নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশ প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে

বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগ ঘোষিত ‘লকডাউন’ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আগামী বৃহস্পতিবারের এ কর্মসূচি সামনে রেখে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, যে কোনো ধরনের অরাজকতা, নাশকতা বা জনজীবনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ নেতারা ঘোষণা দিয়েছেন—“যে পরিস্থিতিই আসুক, এই লকডাউন সফল করেই ছাড়বেন।”

আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, “লকডাউন কর্মসূচি শেখ হাসিনা নিজেই ঘোষণা করেছেন।” তাঁর নির্দেশেই দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মাঠে নেমেছেন। তিনি বলেন, “এটি আমাদের রাজনৈতিক দাবি প্রতিষ্ঠার অংশ। জনগণের সঙ্গে আমরা আছি, জনগণকেই সঙ্গে নিয়েই আমরা এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করব।”

তবে সরকার বলছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের নামে ‘লকডাউন’ আহ্বান করে দেশে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে কড়া নজরদারি শুরু করেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার জানিয়েছেন, “রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছি। কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা ইতোমধ্যে মোতায়েন হয়েছেন, বিশেষ করে গুলশান, পল্টন, মতিঝিল, শাহবাগ, ফার্মগেট ও মোহাম্মদপুরসহ সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে বাড়ানো হয়েছে টহল।

গত কয়েকদিনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার ঘটনাগুলোর জন্য সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরাসরি আওয়ামী লীগকেই দায়ী করছে। পুলিশ বলছে, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

তবে আওয়ামী লীগ নেতারা এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছেন, “সরকারই তার মদদপুষ্ট সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীগুলো দিয়ে এসব ঘটনা ঘটিয়ে দোষ চাপাচ্ছে আওয়ামী লীগের ঘাড়ে।”

একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, “সরকার আমাদের দমন করতে নতুন নাটক সাজাচ্ছে। প্রকৃত সত্য হচ্ছে, জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে—এটাই তাদের ভয়।”

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টের আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আরও দুই জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণার তারিখ ১৩ই নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) নির্ধারণ করেছে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনাল গত ২৩শে অক্টোবর জানিয়েছিল, ওই দিনই রায় ঘোষণার তারিখ ঘোষণা করা হবে। এরপর থেকেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্ফোরণ ও আগুনের ঘটনা ঘটতে থাকায় জনমনে নতুন করে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী বৃহস্পতিবার দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এক কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে যাচ্ছে। শেখ হাসিনার ঘোষিত ‘লকডাউন’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও পুলিশের কঠোর অবস্থান—দুইয়ের মুখোমুখি সংঘাত কতটা তীব্র হবে, সেটিই এখন সবার নজরে।

বাংলাদেশের রাজনীতি আজ এক অচলাবস্থার দিকে এগোচ্ছে। জনগণের ভোটাধিকার, রাজনৈতিক স্বাধীনতা, আর মতপ্রকাশের পথ যখন সংকুচিত, তখন ‘লকডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তপ্ত হতে চলেছে রাজপথ। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—এ লড়াই কি গণতন্ত্রের, নাকি ক্ষমতার?

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফারিয়া’র ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

লকডাউন’ রুখে দেওয়ার ঘোষণা পুলিশের, কী করবে আওয়ামী লীগ?

Update Time : ১০:১৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫

মো. শাহজাহান বাশার

শেখ হাসিনার ঘোষিত কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা–নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশ প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে

বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগ ঘোষিত ‘লকডাউন’ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আগামী বৃহস্পতিবারের এ কর্মসূচি সামনে রেখে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, যে কোনো ধরনের অরাজকতা, নাশকতা বা জনজীবনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ নেতারা ঘোষণা দিয়েছেন—“যে পরিস্থিতিই আসুক, এই লকডাউন সফল করেই ছাড়বেন।”

আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, “লকডাউন কর্মসূচি শেখ হাসিনা নিজেই ঘোষণা করেছেন।” তাঁর নির্দেশেই দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মাঠে নেমেছেন। তিনি বলেন, “এটি আমাদের রাজনৈতিক দাবি প্রতিষ্ঠার অংশ। জনগণের সঙ্গে আমরা আছি, জনগণকেই সঙ্গে নিয়েই আমরা এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করব।”

তবে সরকার বলছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের নামে ‘লকডাউন’ আহ্বান করে দেশে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে কড়া নজরদারি শুরু করেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার জানিয়েছেন, “রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছি। কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা ইতোমধ্যে মোতায়েন হয়েছেন, বিশেষ করে গুলশান, পল্টন, মতিঝিল, শাহবাগ, ফার্মগেট ও মোহাম্মদপুরসহ সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে বাড়ানো হয়েছে টহল।

গত কয়েকদিনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার ঘটনাগুলোর জন্য সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরাসরি আওয়ামী লীগকেই দায়ী করছে। পুলিশ বলছে, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

তবে আওয়ামী লীগ নেতারা এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছেন, “সরকারই তার মদদপুষ্ট সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীগুলো দিয়ে এসব ঘটনা ঘটিয়ে দোষ চাপাচ্ছে আওয়ামী লীগের ঘাড়ে।”

একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, “সরকার আমাদের দমন করতে নতুন নাটক সাজাচ্ছে। প্রকৃত সত্য হচ্ছে, জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে—এটাই তাদের ভয়।”

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টের আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আরও দুই জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণার তারিখ ১৩ই নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) নির্ধারণ করেছে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনাল গত ২৩শে অক্টোবর জানিয়েছিল, ওই দিনই রায় ঘোষণার তারিখ ঘোষণা করা হবে। এরপর থেকেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্ফোরণ ও আগুনের ঘটনা ঘটতে থাকায় জনমনে নতুন করে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী বৃহস্পতিবার দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এক কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে যাচ্ছে। শেখ হাসিনার ঘোষিত ‘লকডাউন’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও পুলিশের কঠোর অবস্থান—দুইয়ের মুখোমুখি সংঘাত কতটা তীব্র হবে, সেটিই এখন সবার নজরে।

বাংলাদেশের রাজনীতি আজ এক অচলাবস্থার দিকে এগোচ্ছে। জনগণের ভোটাধিকার, রাজনৈতিক স্বাধীনতা, আর মতপ্রকাশের পথ যখন সংকুচিত, তখন ‘লকডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তপ্ত হতে চলেছে রাজপথ। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—এ লড়াই কি গণতন্ত্রের, নাকি ক্ষমতার?