০৩:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিথ্যা মামলায় ১১ বছর জেল খেটে যুবদল কর্মী মিজুর সংবাদ সম্মেলন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৫২:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫
  • ৩০৬৫ বার পঠিত হয়েছে

মো. রিয়াজুল সোহাগ,নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের যুবদল কর্মী মিজানুর রহমান ওরফে মিজু দীর্ঘ ১১ বছর কারাগারে কাটিয়েছেন মিথ্যা মামলায়। তিনি অভিযোগ করেছেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে শুধুমাত্র ছাত্রদল করার কারণেই তার ওপর নেমে আসে জেল-জুলুম, নির্যাতন ও হয়রানির খড়গ।

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) সকালে জেলা শহর মাইজদীর ইউরো শপিং কমপ্লেক্সে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন মিজানুর রহমান মিজু।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “২০১৪ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আমাকে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে যায়। টানা ৮ দিন আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়—হাত-পায়ের নখ উপড়ে ফেলা হয়, গোপনাঙ্গে ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয়।”

তিনি আরও জানান, “এরপর জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ নিষাদ সেলিম হত্যা মামলা, অস্ত্র মামলা ও পুলিশ ফাইটসহ পাঁচটি মামলায় আমাকে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখিয়ে চালান দেওয়া হয়। দুই বছর জেল খেটে বের হওয়ার পর আবারও ২০১৬ সালে তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।”

মিজুর দাবি, আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনামলে তিনি মোট ১১ বছর কারাগারে বন্দি ছিলেন। এই সময়ের মধ্যে মানসিক যন্ত্রণায় তার বাবা ২০২২ সালে স্ট্রোক করে মারা যান।

তিনি বলেন, “খুনি হাসিনার বন্দিশালায় যাওয়ার পর একটি সাজানো অস্ত্র মামলায় তদবির করে আমাকে ১৭ বছরের সাজা দেওয়া হয়। ওই মামলায় আমি টানা সাত বছর কারাভোগ করেছি। বারবার জামিনের আবেদন করলেও আদালত তা প্রত্যাখ্যান করে। অবশেষে ২০২৩ সালের ৯ জানুয়ারি জামিনে মুক্তি পাই, কিন্তু দুই মাস পর আবার ষড়যন্ত্রমূলকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়।”

মিজানুর রহমান মিজু অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালের নির্বাচন ঘিরে তাকে তিনবার গ্রেপ্তার করা হয়। এমনকি পিতার মৃত্যুর পর প্যারোলে জামিন চেয়েও মুক্তি পাননি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউনূস এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

আলোচনার আশ্বাসে নাগেশ্বরীতে সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন স্থগিত

মিথ্যা মামলায় ১১ বছর জেল খেটে যুবদল কর্মী মিজুর সংবাদ সম্মেলন

Update Time : ০৫:৫২:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

মো. রিয়াজুল সোহাগ,নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের যুবদল কর্মী মিজানুর রহমান ওরফে মিজু দীর্ঘ ১১ বছর কারাগারে কাটিয়েছেন মিথ্যা মামলায়। তিনি অভিযোগ করেছেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে শুধুমাত্র ছাত্রদল করার কারণেই তার ওপর নেমে আসে জেল-জুলুম, নির্যাতন ও হয়রানির খড়গ।

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) সকালে জেলা শহর মাইজদীর ইউরো শপিং কমপ্লেক্সে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন মিজানুর রহমান মিজু।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “২০১৪ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আমাকে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে যায়। টানা ৮ দিন আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়—হাত-পায়ের নখ উপড়ে ফেলা হয়, গোপনাঙ্গে ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয়।”

তিনি আরও জানান, “এরপর জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ নিষাদ সেলিম হত্যা মামলা, অস্ত্র মামলা ও পুলিশ ফাইটসহ পাঁচটি মামলায় আমাকে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখিয়ে চালান দেওয়া হয়। দুই বছর জেল খেটে বের হওয়ার পর আবারও ২০১৬ সালে তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।”

মিজুর দাবি, আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনামলে তিনি মোট ১১ বছর কারাগারে বন্দি ছিলেন। এই সময়ের মধ্যে মানসিক যন্ত্রণায় তার বাবা ২০২২ সালে স্ট্রোক করে মারা যান।

তিনি বলেন, “খুনি হাসিনার বন্দিশালায় যাওয়ার পর একটি সাজানো অস্ত্র মামলায় তদবির করে আমাকে ১৭ বছরের সাজা দেওয়া হয়। ওই মামলায় আমি টানা সাত বছর কারাভোগ করেছি। বারবার জামিনের আবেদন করলেও আদালত তা প্রত্যাখ্যান করে। অবশেষে ২০২৩ সালের ৯ জানুয়ারি জামিনে মুক্তি পাই, কিন্তু দুই মাস পর আবার ষড়যন্ত্রমূলকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়।”

মিজানুর রহমান মিজু অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালের নির্বাচন ঘিরে তাকে তিনবার গ্রেপ্তার করা হয়। এমনকি পিতার মৃত্যুর পর প্যারোলে জামিন চেয়েও মুক্তি পাননি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউনূস এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।