০৩:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভাষাসৈনিক আবদুর রাজ্জাক মাস্টার স্মৃতি বৃত্তি প্রদান ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত: শতাধিক শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা, নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৩৯:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
  • ৩০৩৪ বার পঠিত হয়েছে

 

মোঃ শাহজাহান বাশার ,সিনিয়র  স্টাফ রিপোর্টার
৩১ জুলাই ২০২৫

ভাষা আন্দোলনের একজন অগ্রসৈনিক, মরহুম আবদুর রাজ্জাক মাস্টারের স্মৃতিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে “ভাষাসৈনিক আবদুর রাজ্জাক মাস্টার স্মৃতি পরিষদ”-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো বৃত্তি প্রদান ও দোয়া মাহফিল। আজ বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর উপকণ্ঠ সানারপাড়ে অবস্থিত ফাইভ ওয়ে চায়নিজ রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে ৭টি বিদ্যালয়ের ৫২ জন বৃত্তিপ্রাপ্তসহ শতাধিক কৃতি শিক্ষার্থীকে ক্রেস্ট ও সনদ দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে ভাষা আন্দোলন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং মাইলস্টোন বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে এবং ভাষাসৈনিক আবদুর রাজ্জাক মাস্টারের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহামান্য রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ সাগর হোসেন। তিনি বক্তব্যে বলেন,

“শুধু একাডেমিক সাফল্য নয়, নৈতিক শিক্ষাই একটি শিশুকে সত্যিকারের মানুষ করে তোলে। প্রযুক্তির এই সময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে মোবাইল তুলে না দিয়ে বই, নৈতিকতা ও মানবিকতার চর্চা বাড়াতে হবে।”

অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক ছিলেন ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাবের বিশেষ সংবাদদাতা সাঈদ আহমেদ খান। তিনি বলেন—

“শিক্ষার্থীদের মানসিক উৎকর্ষ ও সৃজনশীল বিকাশে এমন ইতিবাচক উদ্যোগ যুগোপযোগী ও সময়ের দাবি। ভাষাসৈনিক আবদুর রাজ্জাক মাস্টার স্মৃতি পরিষদ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভাষাসৈনিক আবদুর রাজ্জাক মাস্টারের সহধর্মিণী মিসেস নহিজা বেগম। বাবার স্মৃতিচারণ করে আবেগঘন বক্তব্য দেন তাঁর পুত্র, দৈনিক ইনকিলাবের সিনিয়র সাব এডিটর এবং পরিষদের সদস্য সচিব মোহাম্মদ আবদুল অদুদ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—মোহাম্মদ নওশাদুল হক, সহকারী প্রকৌশলী, গণপূর্ত অধিদফতর,সিনিয়র সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা রুমী,প্রফেসর নায়লা ইসলাম, ডেমরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ,মাহবুবুল আলম, আমীর, জামায়াতে ইসলামী, সিদ্ধিরগঞ্জ,হাসান মজুমদার বাবলু, এটিএন নিউজ,মোবারক হোসেন খান ও সহিদুল হক খান ঝন্টু, পূর্ব সাহেবপাড়া জামে মসজিদ,সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার সোহেল রানা,সাংবাদিক তরিকুল ইসলাম নয়ন, মাদারল্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল,সমাজসেবক সাজেদুল ইসলাম পনি,আলহাজ আনসার আলী মাস্টার,আমিরুল ইসলাম,মোহাম্মদ মোস্তফা সহ আরো অনেকেই।

বক্তারা বলেন, বৃত্তি বা “এ প্লাস” পাওয়ার পেছনে প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, তবে তা যেন অনৈতিক পথে না গড়ায়। সন্তানদের নৈতিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে অভিভাবকদের সচেতন হবার আহ্বান জানানো হয়।

তারা আবদুর রাজ্জাক মাস্টারের শিক্ষা ও আদর্শকে স্মরণ করে বলেন, তাঁর ছাত্রদের অনেকেই আজ দেশের প্রশাসন, কৃষি, সংস্কৃতি ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এ সময় তাঁরা কুমিল্লায় একটি সড়কের নাম তাঁর নামে নামকরণ ও ভাষাসৈনিকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশের দাবি জানান।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে প্রধান অতিথি মোহাম্মদ সাগর হোসেন এবং অন্যান্য অতিথিরা আল-হেরা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির অর্থ, ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন। দুই কৃতি শিক্ষার্থী নাকিব ও ছিাজিমের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার সময় আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

এই আয়োজন প্রমাণ করে, মূল্যবোধ, ইতিহাসচর্চা ও শিক্ষায় বিনিয়োগ করলে একটি জাতি আদর্শের পথে এগিয়ে যায়। ভাষাসৈনিক আবদুর রাজ্জাক মাস্টার স্মৃতি পরিষদের এ মহৎ উদ্যোগ যুগে যুগে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফারিয়া’র ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

ভাষাসৈনিক আবদুর রাজ্জাক মাস্টার স্মৃতি বৃত্তি প্রদান ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত: শতাধিক শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা, নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ

Update Time : ০৪:৩৯:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫

 

মোঃ শাহজাহান বাশার ,সিনিয়র  স্টাফ রিপোর্টার
৩১ জুলাই ২০২৫

ভাষা আন্দোলনের একজন অগ্রসৈনিক, মরহুম আবদুর রাজ্জাক মাস্টারের স্মৃতিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে “ভাষাসৈনিক আবদুর রাজ্জাক মাস্টার স্মৃতি পরিষদ”-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো বৃত্তি প্রদান ও দোয়া মাহফিল। আজ বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর উপকণ্ঠ সানারপাড়ে অবস্থিত ফাইভ ওয়ে চায়নিজ রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে ৭টি বিদ্যালয়ের ৫২ জন বৃত্তিপ্রাপ্তসহ শতাধিক কৃতি শিক্ষার্থীকে ক্রেস্ট ও সনদ দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে ভাষা আন্দোলন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং মাইলস্টোন বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে এবং ভাষাসৈনিক আবদুর রাজ্জাক মাস্টারের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহামান্য রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ সাগর হোসেন। তিনি বক্তব্যে বলেন,

“শুধু একাডেমিক সাফল্য নয়, নৈতিক শিক্ষাই একটি শিশুকে সত্যিকারের মানুষ করে তোলে। প্রযুক্তির এই সময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে মোবাইল তুলে না দিয়ে বই, নৈতিকতা ও মানবিকতার চর্চা বাড়াতে হবে।”

অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক ছিলেন ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাবের বিশেষ সংবাদদাতা সাঈদ আহমেদ খান। তিনি বলেন—

“শিক্ষার্থীদের মানসিক উৎকর্ষ ও সৃজনশীল বিকাশে এমন ইতিবাচক উদ্যোগ যুগোপযোগী ও সময়ের দাবি। ভাষাসৈনিক আবদুর রাজ্জাক মাস্টার স্মৃতি পরিষদ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভাষাসৈনিক আবদুর রাজ্জাক মাস্টারের সহধর্মিণী মিসেস নহিজা বেগম। বাবার স্মৃতিচারণ করে আবেগঘন বক্তব্য দেন তাঁর পুত্র, দৈনিক ইনকিলাবের সিনিয়র সাব এডিটর এবং পরিষদের সদস্য সচিব মোহাম্মদ আবদুল অদুদ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—মোহাম্মদ নওশাদুল হক, সহকারী প্রকৌশলী, গণপূর্ত অধিদফতর,সিনিয়র সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা রুমী,প্রফেসর নায়লা ইসলাম, ডেমরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ,মাহবুবুল আলম, আমীর, জামায়াতে ইসলামী, সিদ্ধিরগঞ্জ,হাসান মজুমদার বাবলু, এটিএন নিউজ,মোবারক হোসেন খান ও সহিদুল হক খান ঝন্টু, পূর্ব সাহেবপাড়া জামে মসজিদ,সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার সোহেল রানা,সাংবাদিক তরিকুল ইসলাম নয়ন, মাদারল্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল,সমাজসেবক সাজেদুল ইসলাম পনি,আলহাজ আনসার আলী মাস্টার,আমিরুল ইসলাম,মোহাম্মদ মোস্তফা সহ আরো অনেকেই।

বক্তারা বলেন, বৃত্তি বা “এ প্লাস” পাওয়ার পেছনে প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, তবে তা যেন অনৈতিক পথে না গড়ায়। সন্তানদের নৈতিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে অভিভাবকদের সচেতন হবার আহ্বান জানানো হয়।

তারা আবদুর রাজ্জাক মাস্টারের শিক্ষা ও আদর্শকে স্মরণ করে বলেন, তাঁর ছাত্রদের অনেকেই আজ দেশের প্রশাসন, কৃষি, সংস্কৃতি ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এ সময় তাঁরা কুমিল্লায় একটি সড়কের নাম তাঁর নামে নামকরণ ও ভাষাসৈনিকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশের দাবি জানান।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে প্রধান অতিথি মোহাম্মদ সাগর হোসেন এবং অন্যান্য অতিথিরা আল-হেরা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির অর্থ, ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন। দুই কৃতি শিক্ষার্থী নাকিব ও ছিাজিমের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার সময় আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

এই আয়োজন প্রমাণ করে, মূল্যবোধ, ইতিহাসচর্চা ও শিক্ষায় বিনিয়োগ করলে একটি জাতি আদর্শের পথে এগিয়ে যায়। ভাষাসৈনিক আবদুর রাজ্জাক মাস্টার স্মৃতি পরিষদের এ মহৎ উদ্যোগ যুগে যুগে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।