
মোঃ শাহজাহান বাশার
দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারকাজ চললেও পুরান ঢাকার সুভাষ বোস অ্যাভিনিউ এখনো দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ভাঙা রাস্তা, খোঁড়াখুঁড়ি ফেলে রাখা অংশ, ফুটপাতে স্তূপ করে রাখা ইট-পাথর আর ধুলাবালিতে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছে সড়কের দুই পাশের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।
এই সড়কের পাশেই অবস্থিত সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার্স গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিদিন ছোট মেয়েকে স্কুলে আনা-নেওয়া করতে গিয়ে ভোগান্তির কথা জানান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ভাঙা ফুটপাত আর ইটের স্তূপের মধ্য দিয়ে মেয়ের হাত ধরে হাঁটতে হয়। সামান্য অসাবধান হলেই পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বৃষ্টি হলে পুরো সড়ক পানিতে ডুবে কাদা হয়ে যায়, স্কুলড্রেসও নোংরা হয়ে পড়ে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রকৌশল বিভাগ জানায়, ভিক্টোরিয়া পার্ক থেকে লক্ষ্মীবাজার পর্যন্ত প্রায় ৫৮০ মিটার দীর্ঘ এই সড়কটি সংস্কারের কাজ গত জুনে শুরু হয়। সড়ক, ড্রেন ও ফুটপাত উন্নয়নে প্রায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি মাত্র ৩০ শতাংশ। আগামী মে মাসে কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সুভাষ বোস অ্যাভিনিউয়ের দুই পাশে অন্তত নয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজ, সেন্ট গ্রেগরি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও ঢাকা গভর্নমেন্ট মুসলিম হাই স্কুল উল্লেখযোগ্য। আশপাশের অলিগলিতেও রয়েছে আরও কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
সড়কের একাংশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল ও বাংলাবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থাকায় প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। কাদা, পানি আর ধুলোর মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ পথচারীদের। একই সঙ্গে সদরঘাট, ইসলামপুর ও নবাবপুরগামী যানবাহনও এ দুর্ভোগের শিকার।
সড়কজুড়ে রয়েছে খানাখন্দ ও খোলা ম্যানহোল। অনেক জায়গায় কোনো সতর্কতামূলক চিহ্ন না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজ ও ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের সামনেও খোলা নর্দমা চোখে পড়েছে। কোথাও কোথাও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বাঁশ বা কাঠ দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছেন।
এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক রাইসুল ইসলাম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে খোলা নর্দমা রেখে কাজ চলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সামান্য অসাবধানতায় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এটি নগর ব্যবস্থাপনার বড় ধরনের ব্যর্থতার উদাহরণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কাজ চললেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মৌসুমি আক্তার বলেন, বৃষ্টি হলে রাস্তা একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই কলেজে আসতে হয়।
সড়কের পাশে খাবারের দোকান চালানো মামুন হোসেন জানান, বৃষ্টিতে দোকানে পানি ঢুকে যায় আর শুকনো মৌসুমে ধুলার কারণে দোকান খোলা রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। খানাখন্দে রিকশা ও গাড়ি আটকে গিয়ে যানজটও বাড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, একবার রাস্তা কাটলে বছরের পর বছর সংস্কার শেষ হয় না। ধুলো ও কাদার কারণে স্বাভাবিক চলাচল অসম্ভব হয়ে উঠেছে। উপরন্তু ভালো অংশগুলোও হকারদের দখলে চলে গেছে।
সড়ক সংস্কার প্রকল্পের পরিচালক ও ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রাজীব খাদেম জানান, বর্ষা মৌসুমে কাজ ব্যাহত হওয়ায় প্রকল্প পিছিয়ে গেছে। তবে নভেম্বর থেকে কাজের গতি বাড়ানো হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী আজিজুর রহমান বলেন, উন্নয়ন কাজের নামে জনগণের দুর্ভোগ বাড়ানো যাবে না। সংস্কার চলাকালে শিক্ষার্থী ও পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
তার বক্তব্যের পর সড়কের কয়েকটি স্থানে ম্যানহোলের পাশে ঢাকনা বসাতে দেখা গেছে।



















