
আবুল হোসেন বাবলুঃ
জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে বিমাতা ভাই অর্থাৎ সৎ ভাইকে হত্যার অভিযোগে মামলার প্রেক্ষিতে র্যাব-১৩’র অভিযানে মামলার প্রধান পলাতক আসামী কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার।
বাদীর দায়ের করা এজাহারের বরাত দিয়ে র্যাব-১৩’র অধিনায়কের পক্ষে সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিমাতা ভাই অর্থাৎ সৎ ভাই আব্দুল কুদ্দুস এর সাথে অপর বিমাতা ভাই আব্দুল মান্নান এর দীর্ঘদিন যাবত জমি-জমা সংক্রান্ত পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩১ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে সাতটার দিকে আব্দুল কুদ্দুস এর ছেলে রাসেল মিয়া তাদের পৈতিক আবাদী জমিতে ধান রোপন করতে গেলে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক আব্দুল মান্নান ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধান রোপনে বাধা নিষেধ করে। আব্দুল কুদ্দুস উক্ত বাধার প্রতিবাদ করলে আঃ মান্নান ও তার সহযোগীরা ক্ষিপ্ত হয়ে কুড়াল দিয়ে আব্দুল কুদ্দুসের মাথায় আঘাত করলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। স্থানীয়দের সহায়তায় তার পরিবার কুদ্দুসকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রমেক)এ রেফার্ড করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই তারিখ বিকাল পৌনে চারটায় মৃত্যুবরণ করেন কুদ্দুস।
এ ঘটনায় আব্দুল কুদ্দুসের স্ত্রী বাদী হয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-০২, তারিখ: ০২/০১/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা: ৪৪৭/ ৩২৬/৩০৭/৩০২/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০।
ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক, লোমহর্ষক হত্যা হওয়ায় এলাকায় ব্যাপকভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচারিত হয়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলো, আঃ মান্নান ও তার সহযোগীরা। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামীদের গ্রেফতারে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১৩ সদর কোম্পানী রংপুর ক্যাম্প ও র্যাব-১১ সিপিসি-২ কুমিল্লা ক্যাম্পের একটি যৌথ আভিযানিক দল ০৭ জানুয়ারী সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানার অন্তর্ভুক্ত সাওড়াতলী (পূর্ব পাড়া) এলাকায় অভিযান চালিয়ে আত্মগোপন থাকা প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী কুড়িগ্রাম জেলার সদর থানাধীন মধ্য কুমরপুর (বড়পাক) গ্রামের মৃত তছুমদ্দিনের ছেলে আব্দুল মান্নান (৩০)। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। 














