
মোঃ শাহজাহান বাশার | সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হলো আহাজারিতে। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) ভোররাতে পৌরসভার আরাগ আনন্দপুর উত্তরপাড়ার বড় বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুটি বসতঘর, দুটি গোয়ালঘর, বিয়ের প্যান্ডেল, রান্না করা খাবার, নগদ টাকা, আসবাবপত্রসহ ফ্রিজ সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার মতো বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর আনুমানিক ৩টার দিকে হঠাৎ বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের ঘরে। ঘুমন্ত অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা চিৎকার দিলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে খবর পেয়ে বুড়িচং ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে।
অগ্নিকাণ্ডে নাজমুল, রুবেল, নাছির ও এনামুল পরিবারের সদস্যদের ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এনামুলের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে সাজানো প্যান্ডেল, অতিথিদের জন্য রান্না করা খাবার, ফ্রিজ তিনটি, নগদ টাকা, জামাকাপড়, বিছানাপত্রসহ প্রায় সব আসবাবপত্র আগুনে পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য সালাউদ্দিন বাবু বলেন,“রাত আনুমানিক ৩টার দিকে হঠাৎ আগুনের চিৎকার শুনে ঘুম ভেঙে যায়। বের হয়ে দেখি ঘরে আগুন লেগে গেছে। আমরা প্রাণে বেঁচেছি, কিন্তু সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছি।”
এ বিষয়ে বুড়িচং ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন,“খবর পেয়ে আমাদের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুৎ লাইনের শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। আগুনে দুটি বসতঘর, দুটি গোয়ালঘর, বিয়ের প্যান্ডেল, রান্না করা খাবার ও ফ্রিজসহ বেশ কিছু মূল্যবান জিনিস পুড়ে গেছে।”
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট সাইফুল আলম এবং উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু নাসের মুন্সি। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সান্ত্বনা প্রদান করেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সহযোগিতার আহ্বান জানান।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী বলেন,“বিয়ের আনন্দের ঘরে আগুনে সর্বনাশ নেমে এসেছে। প্রশাসন ও সমাজের সকল স্তরের মানুষ যদি এগিয়ে আসে, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।”
বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় অস্থায়ী আশ্রয় গড়ে তুলেছে।



















