
মোঃ শাহজাহান বাশার
বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন যথাযোগ্য শৃঙ্খলা, মর্যাদা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে সম্পন্ন হওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “আপনারা ছিলেন সেই শক্তি, যার কারণে জাতি মর্যাদার সঙ্গে মায়ের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে পেরেছে।”
তারেক রহমান উল্লেখ করেছেন, দেশনেত্রীর শেষ বিদায় ছিল এক ঐতিহাসিক বিদায়। তিনি জানান, দেশের মানুষজনের জন্য যথাযথ শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে এই বিদায় সম্পন্ন হয়েছে। পোস্টে তিনি আরও লিখেছেন, “গতকাল, আমার জীবনের এক গভীর শোকের মুহূর্তে, আমি আমার মায়ের শেষ বিদায় দিতে পেরেছি। এটি এমন এক ঐতিহাসিক বিদায়, যা দেশের মানুষের জন্য যথাযথ শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। আর এটি সম্ভব হয়েছে যাঁদের যত্ন, দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্বের কারণে; তাদের সবাইকে আমি অন্তরের গভীর থেকে ধন্যবাদ জানাই।”
দেশনেত্রীর অন্তিম যাত্রায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যরা অবিরত দায়িত্ব পালন করেছেন। তারেক রহমান বলেন, “আপনারা শুধু শৃঙ্খলা বজায় রাখেননি, শোকময় পরিবেশেও মানবিকতার উদাহরণ দেখিয়েছেন। আপনারা আমাদের সবাইকে নিরাপদে রেখেছেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে জানাজায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়েছেন।”
নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সকল নারী ও পুরুষ সদস্য, যার মধ্যে রয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, র্যাব এবং এপিবিএন, তাদের ধৈর্য, সততা ও দায়িত্ববোধের জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, “আপনাদের কারণে লক্ষ-লক্ষ মানুষ নিরাপদে একত্রিত হতে পেরেছে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে শোক প্রকাশ ও শ্রদ্ধা জানাতে পেরেছে, এবং শান্তিপূর্ণভাবে ফিরে যেতে পেরেছে।”
তিনি ডিজিএফআই, এনএসআই ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের নিবেদিত সদস্যদেরও সমানভাবে কৃতজ্ঞতা জানান। এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পিএসও, ডিজি এসএসএফ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত, তথ্য ও সম্প্রচার, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক, সংস্কৃতি ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়সমূহের উপদেষ্টাদের অবদানও বিশেষভাবে স্মরণ করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদেরও ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “তাঁদের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণে বিদেশি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা সরাসরি উপস্থিত হয়ে সমবেদনা জানাতে পেরেছেন। এটি প্রমাণ করে, দেশের সীমানার বাইরে থেকেও আমার মা’র প্রতি গভীর সম্মান ছিল।”
জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানের পুরো বিষয়টি কভার করা সাংবাদিকদের উদ্দেশেও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারেক রহমান বলেন, “এত বিশাল জনসমুদ্রের মধ্যেও মিডিয়াকর্মীরা আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সংবাদ, ছবি ও ভিডিও সারা বিশ্বে পৌঁছে দিয়েছেন।”
অবশেষে তারেক রহমান প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সকল সদস্যদেরও ধন্যবাদ জানান। “জাতীয় শোকের এই কঠিন সময়ে তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থেকে শান্তি ও যত্ন বজায় রাখতে সাহায্য করেছেন, যা আমাদের পরিবারের জন্য অমূল্য সমর্থন হিসেবে অনুভূত হয়েছে।”
তারেক রহমান পোস্টের শেষ অংশে বলেন, “আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই; প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে। গভীর শোকের এই সময়ে আপনারা যে সহমর্মিতা, সম্মান এবং দায়িত্ববোধ দেখিয়েছেন, তা আমাদের হৃদয় স্পর্শ করেছে। আলহামদুলিল্লাহ।”



















