০৯:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাকির নায়েকের বাংলাদেশে আগমন নিয়ে ধোঁয়াশা 

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:২২:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
  • ৩০৭৯ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শাহজাহান বাশার

ভারতীয় বংশোদ্ভূত খ্যাতনামা ইসলামি বক্তা ড. জাকির নায়েকের বাংলাদেশ সফর নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে একপ্রকার ধোঁয়াশা। আয়োজক প্রতিষ্ঠান দাবি করছে, তার আগমন ও ধর্মীয় বক্তৃতার প্রস্তুতি সম্পন্ন; কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, জাকির নায়েকের আগমন বা কোনো ইভেন্ট আয়োজনের অনুমতির আবেদনই এখন পর্যন্ত তারা পায়নি।

গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন ইসলামি সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রচার চলছে যে, আগামী ২৮ নভেম্বর ড. জাকির নায়েক বাংলাদেশে আসছেন। তিনি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ইসলামি মাহফিলে অংশ নেবেন বলেও প্রচারণায় বলা হচ্ছে।

এদিকে, জাকির নায়েকের সম্ভাব্য সফর নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা চলছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সম্প্রতি বলেন, “জাকির নায়েক যদি বাংলাদেশে আসেন, তবে তাকে গ্রেপ্তার করে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া উচিত।” এই মন্তব্যের পর বিষয়টি আরও আলোচিত হয়ে ওঠে।

তবে এ নিয়ে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা স্পষ্ট অবস্থান জানানো হয়নি।

মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠকের পর কয়েকটি স্থানীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বহুমুখী দায়িত্ব ও নিরাপত্তাজনিত ব্যস্ততার কারণে ড. জাকির নায়েককে এখনই বাংলাদেশে আসার অনুমতি দেওয়া হবে না।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে বলেন, “ওই বৈঠকে জাকির নায়েকের সম্ভাব্য আগমন বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়েছে, তবে অনুমতি দেওয়া বা না দেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা মন্তব্য করা হয়নি।”

অন্যদিকে, আয়োজক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, তারা সরকারের সব প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়েই প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের একজন মুখপাত্র বলেন, “আমরা কোনো আইনবহির্ভূত কাজ করছি না। বাংলাদেশে ইসলামি দাওয়াত ও শান্তির বার্তা ছড়াতে ড. জাকির নায়েকের সফর আয়োজন করছি। সব আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।”

সূত্র বলছে, ড. জাকির নায়েকের সফরের আয়োজন করেছে একটি বেসরকারি ইসলামিক প্রতিষ্ঠান, যাদের পৃষ্ঠপোষকতায় রাজধানী ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, সিলেট ও রাজশাহীতে ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জাকির নায়েকের আগমন শুধু ধর্মীয় নয়, কূটনৈতিকভাবেও সংবেদনশীল ইস্যু হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ, তার বিরুদ্ধে ভারতে বিভিন্ন মামলায় অভিযোগ রয়েছে এবং ভারত সরকার দীর্ঘদিন ধরে তাকে ফেরত চেয়ে আসছে।

জাকির নায়েক বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন, যেখানে তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে এমন বিতর্কিত ব্যক্তিত্বের আগমন দেশের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে অপ্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারে।

এ বিষয়ে সরকারি উচ্চপর্যায় থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না আসায় সাধারণ জনগণের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—আসলেই কি জাকির নায়েক ২৮ নভেম্বর বাংলাদেশে আসছেন, নাকি এটি কেবল একটি গুজব বা পরিকল্পনাধীন প্রচারণা?

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফারিয়া’র ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

জাকির নায়েকের বাংলাদেশে আগমন নিয়ে ধোঁয়াশা 

Update Time : ০৩:২২:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

মোঃ শাহজাহান বাশার

ভারতীয় বংশোদ্ভূত খ্যাতনামা ইসলামি বক্তা ড. জাকির নায়েকের বাংলাদেশ সফর নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে একপ্রকার ধোঁয়াশা। আয়োজক প্রতিষ্ঠান দাবি করছে, তার আগমন ও ধর্মীয় বক্তৃতার প্রস্তুতি সম্পন্ন; কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, জাকির নায়েকের আগমন বা কোনো ইভেন্ট আয়োজনের অনুমতির আবেদনই এখন পর্যন্ত তারা পায়নি।

গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন ইসলামি সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রচার চলছে যে, আগামী ২৮ নভেম্বর ড. জাকির নায়েক বাংলাদেশে আসছেন। তিনি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ইসলামি মাহফিলে অংশ নেবেন বলেও প্রচারণায় বলা হচ্ছে।

এদিকে, জাকির নায়েকের সম্ভাব্য সফর নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা চলছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সম্প্রতি বলেন, “জাকির নায়েক যদি বাংলাদেশে আসেন, তবে তাকে গ্রেপ্তার করে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া উচিত।” এই মন্তব্যের পর বিষয়টি আরও আলোচিত হয়ে ওঠে।

তবে এ নিয়ে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা স্পষ্ট অবস্থান জানানো হয়নি।

মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠকের পর কয়েকটি স্থানীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বহুমুখী দায়িত্ব ও নিরাপত্তাজনিত ব্যস্ততার কারণে ড. জাকির নায়েককে এখনই বাংলাদেশে আসার অনুমতি দেওয়া হবে না।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে বলেন, “ওই বৈঠকে জাকির নায়েকের সম্ভাব্য আগমন বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়েছে, তবে অনুমতি দেওয়া বা না দেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা মন্তব্য করা হয়নি।”

অন্যদিকে, আয়োজক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, তারা সরকারের সব প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়েই প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের একজন মুখপাত্র বলেন, “আমরা কোনো আইনবহির্ভূত কাজ করছি না। বাংলাদেশে ইসলামি দাওয়াত ও শান্তির বার্তা ছড়াতে ড. জাকির নায়েকের সফর আয়োজন করছি। সব আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।”

সূত্র বলছে, ড. জাকির নায়েকের সফরের আয়োজন করেছে একটি বেসরকারি ইসলামিক প্রতিষ্ঠান, যাদের পৃষ্ঠপোষকতায় রাজধানী ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, সিলেট ও রাজশাহীতে ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জাকির নায়েকের আগমন শুধু ধর্মীয় নয়, কূটনৈতিকভাবেও সংবেদনশীল ইস্যু হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ, তার বিরুদ্ধে ভারতে বিভিন্ন মামলায় অভিযোগ রয়েছে এবং ভারত সরকার দীর্ঘদিন ধরে তাকে ফেরত চেয়ে আসছে।

জাকির নায়েক বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন, যেখানে তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে এমন বিতর্কিত ব্যক্তিত্বের আগমন দেশের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে অপ্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারে।

এ বিষয়ে সরকারি উচ্চপর্যায় থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না আসায় সাধারণ জনগণের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—আসলেই কি জাকির নায়েক ২৮ নভেম্বর বাংলাদেশে আসছেন, নাকি এটি কেবল একটি গুজব বা পরিকল্পনাধীন প্রচারণা?