০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদকের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিক গোলাম কিবরিয়ার ওপর হামলার অভিযোগ: মাদক সিন্ডিকেট কি ভিন্নমত ও সত্যের কণ্ঠরোধে মরিয়া? প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৩৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, রোববার, ৫ জুলাই ২০২৬
  • ৩০২১ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শাহজাহান বাশার

কুমিল্লার বুড়িচং–ব্রাহ্মণপাড়া অঞ্চলে মাদক কারবার, অপরাধচক্র ও তাদের প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের পর বিশেষ প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, কুমিল্লা জেলা কমিটির নির্বাহী সদস্য মো. গোলাম কিবরিয়া সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সাংবাদিক, সচেতন নাগরিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের অভিযোগ, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং জনস্বার্থে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে মাদক কারবার ও অপরাধের চিত্র তুলে ধরার কারণে পরিকল্পিতভাবে একজন সাংবাদিককে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নীরব করে দেওয়ার অপচেষ্টা। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে মাদকবিরোধী একাধিক সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই সাংবাদিক গোলাম কিবরিয়া বিভিন্ন ধরনের চাপ, হুমকি ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি ছিলেন। হামলার সঙ্গে সেই ঘটনাগুলোর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা জরুরি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, যদি একজন সাংবাদিক জনস্বার্থে মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধের বিরুদ্ধে তথ্য প্রকাশের কারণে প্রকাশ্যে হামলার শিকার হন, তবে তা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আক্রমণ নয়—এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা, আইনের শাসন এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহিতার ভিত্তিকে দুর্বল করার একটি উদ্বেগজনক ইঙ্গিত। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়াই কি এখন সাংবাদিকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে? অপরাধচক্র কি এতটাই শক্তিশালী যে সত্য প্রকাশকারীদের ওপর হামলার সাহস পাচ্ছে?

সাংবাদিক মহলের দাবি, এ ঘটনায় কেবল মামলা দায়ের করেই দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। হামলার নেপথ্যে কোনো সংঘবদ্ধ মাদক সিন্ডিকেট, অর্থের জোগানদাতা বা প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত প্রয়োজন। হামলার পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা এবং প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী—সবার বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সাংবাদিক নেতারা বলেন, দেশে যখন মাদক নির্মূলে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলছে, তখন মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশকারী একজন সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

তারা অন্তর্বর্তী সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান—ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনস্বার্থে দায়িত্ব পালনকারী গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

সাংবাদিক গোলাম কিবরিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তারা বলেন, সত্যকে কখনো হামলা, হুমকি কিংবা সন্ত্রাস দিয়ে স্তব্ধ করা যায় না। অপরাধের বিরুদ্ধে সাংবাদিকের কলম থেমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাষ্ট্র, সমাজ এবং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচারের অধিকার। তাই এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই হবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রকৃত পরীক্ষা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

রংপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে মৌসুমি ফল উৎসব অনুষ্ঠিত

মাদকের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিক গোলাম কিবরিয়ার ওপর হামলার অভিযোগ: মাদক সিন্ডিকেট কি ভিন্নমত ও সত্যের কণ্ঠরোধে মরিয়া? প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন

Update Time : ১১:৩৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, রোববার, ৫ জুলাই ২০২৬

মোঃ শাহজাহান বাশার

কুমিল্লার বুড়িচং–ব্রাহ্মণপাড়া অঞ্চলে মাদক কারবার, অপরাধচক্র ও তাদের প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের পর বিশেষ প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, কুমিল্লা জেলা কমিটির নির্বাহী সদস্য মো. গোলাম কিবরিয়া সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সাংবাদিক, সচেতন নাগরিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের অভিযোগ, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং জনস্বার্থে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে মাদক কারবার ও অপরাধের চিত্র তুলে ধরার কারণে পরিকল্পিতভাবে একজন সাংবাদিককে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নীরব করে দেওয়ার অপচেষ্টা। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে মাদকবিরোধী একাধিক সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই সাংবাদিক গোলাম কিবরিয়া বিভিন্ন ধরনের চাপ, হুমকি ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি ছিলেন। হামলার সঙ্গে সেই ঘটনাগুলোর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা জরুরি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, যদি একজন সাংবাদিক জনস্বার্থে মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধের বিরুদ্ধে তথ্য প্রকাশের কারণে প্রকাশ্যে হামলার শিকার হন, তবে তা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আক্রমণ নয়—এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা, আইনের শাসন এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহিতার ভিত্তিকে দুর্বল করার একটি উদ্বেগজনক ইঙ্গিত। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়াই কি এখন সাংবাদিকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে? অপরাধচক্র কি এতটাই শক্তিশালী যে সত্য প্রকাশকারীদের ওপর হামলার সাহস পাচ্ছে?

সাংবাদিক মহলের দাবি, এ ঘটনায় কেবল মামলা দায়ের করেই দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। হামলার নেপথ্যে কোনো সংঘবদ্ধ মাদক সিন্ডিকেট, অর্থের জোগানদাতা বা প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত প্রয়োজন। হামলার পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা এবং প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী—সবার বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সাংবাদিক নেতারা বলেন, দেশে যখন মাদক নির্মূলে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলছে, তখন মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশকারী একজন সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

তারা অন্তর্বর্তী সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান—ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনস্বার্থে দায়িত্ব পালনকারী গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

সাংবাদিক গোলাম কিবরিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তারা বলেন, সত্যকে কখনো হামলা, হুমকি কিংবা সন্ত্রাস দিয়ে স্তব্ধ করা যায় না। অপরাধের বিরুদ্ধে সাংবাদিকের কলম থেমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাষ্ট্র, সমাজ এবং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচারের অধিকার। তাই এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই হবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রকৃত পরীক্ষা।