০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচন সামনে রেখে কুমিল্লার ১১ আসনে ৩৪৭ সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজ শনাক্ত যৌথ বাহিনীর বড় ধরনের অভিযানের প্রস্তুতি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৩৬:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • ৩০৯৯ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শাহজাহান বাশার

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভোটকেন্দ্র দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে প্রশাসন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী তপশিল ঘোষণার পর মাঠপর্যায়ের গোয়েন্দা তথ্য ও থানাভিত্তিক রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে মোট ৩৪৭ জন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তালিকাটি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে পৌঁছেছে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও ভীতিমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করতে খুব শিগগিরই পুলিশসহ যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান শুরু হবে। যাচাই-বাছাই শেষে দাগি সন্ত্রাসী ও পেশাদার চাঁদাবাজদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তালিকার ভিত্তিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও গ্রেপ্তারে জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হবে।

পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন থানাভিত্তিক তালিকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অপরাধীর নাম উঠে এসেছে। চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় সর্বাধিক ৩১ জন সন্ত্রাসীর তথ্য রয়েছে। কোতোয়ালি থানায় ৮ জন সন্ত্রাসী ও ১০ জন চাঁদাবাজ শনাক্ত হয়েছে। সদর দক্ষিণে ৭ জন সন্ত্রাসী ও ৮ জন চাঁদাবাজের নাম তালিকাভুক্ত রয়েছে।

এছাড়া চৌদ্দগ্রাম থানায় ২৬ জন সন্ত্রাসী ও ৫ জন চাঁদাবাজ, নাঙ্গলকোটে ৪ জন সন্ত্রাসী ও ৪ জন চাঁদাবাজ, লাকসামে ৯ জন সন্ত্রাসী ও ৪ জন চাঁদাবাজ, মনোহরগঞ্জে ৩০ জন সন্ত্রাসী, ব্রাহ্মণপাড়ায় ৬ জন সন্ত্রাসী ও ৩ জন চাঁদাবাজের তথ্য রয়েছে।

বরুড়ায় ১৮ জন সন্ত্রাসী ও ৮ জন চাঁদাবাজ, চান্দিনায় ১২ জন সন্ত্রাসী ও ১০ জন চাঁদাবাজ, দাউদকান্দিতে ১০ জন সন্ত্রাসী ও ১০ জন চাঁদাবাজ, তিতাসে মোট ১১ জন সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের নাম উঠে এসেছে। হোমনায় ১২ জন সন্ত্রাসী ও ৪ জন চাঁদাবাজ, মেঘনায় ৩ জন সন্ত্রাসী ও ৬ জন চাঁদাবাজ এবং মুরাদনগরে ২২ জন সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের তথ্য রয়েছে।

দেবিদ্বারে ৯ জন সন্ত্রাসী এবং বাঙ্গরা বাজার এলাকায় ৯ জন সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চিহ্নিত হয়েছে। তবে লালমাই ও বুড়িচং থানার তালিকা এখনো পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন থানায় আরও অন্তত ৭৯ জন সন্ত্রাসীর আলাদা তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

র‍্যাব-১১ সিপিসি-২ কুমিল্লার অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম বলেন, “নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী যে কোনো সময় অভিযান শুরু হতে পারে।”

পুলিশ সুপার আরও জানান, এক জেলা থেকে অন্য জেলায় সন্ত্রাসীদের চলাচল কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ ঠেকাতে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের একমাত্র লক্ষ্য—নির্বাচনকে সহিংসতামুক্ত, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ রাখা।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফারিয়া’র ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

নির্বাচন সামনে রেখে কুমিল্লার ১১ আসনে ৩৪৭ সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজ শনাক্ত যৌথ বাহিনীর বড় ধরনের অভিযানের প্রস্তুতি

Update Time : ০২:৩৬:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

মোঃ শাহজাহান বাশার

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভোটকেন্দ্র দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে প্রশাসন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী তপশিল ঘোষণার পর মাঠপর্যায়ের গোয়েন্দা তথ্য ও থানাভিত্তিক রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে মোট ৩৪৭ জন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তালিকাটি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে পৌঁছেছে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও ভীতিমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করতে খুব শিগগিরই পুলিশসহ যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান শুরু হবে। যাচাই-বাছাই শেষে দাগি সন্ত্রাসী ও পেশাদার চাঁদাবাজদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তালিকার ভিত্তিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও গ্রেপ্তারে জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হবে।

পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন থানাভিত্তিক তালিকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অপরাধীর নাম উঠে এসেছে। চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় সর্বাধিক ৩১ জন সন্ত্রাসীর তথ্য রয়েছে। কোতোয়ালি থানায় ৮ জন সন্ত্রাসী ও ১০ জন চাঁদাবাজ শনাক্ত হয়েছে। সদর দক্ষিণে ৭ জন সন্ত্রাসী ও ৮ জন চাঁদাবাজের নাম তালিকাভুক্ত রয়েছে।

এছাড়া চৌদ্দগ্রাম থানায় ২৬ জন সন্ত্রাসী ও ৫ জন চাঁদাবাজ, নাঙ্গলকোটে ৪ জন সন্ত্রাসী ও ৪ জন চাঁদাবাজ, লাকসামে ৯ জন সন্ত্রাসী ও ৪ জন চাঁদাবাজ, মনোহরগঞ্জে ৩০ জন সন্ত্রাসী, ব্রাহ্মণপাড়ায় ৬ জন সন্ত্রাসী ও ৩ জন চাঁদাবাজের তথ্য রয়েছে।

বরুড়ায় ১৮ জন সন্ত্রাসী ও ৮ জন চাঁদাবাজ, চান্দিনায় ১২ জন সন্ত্রাসী ও ১০ জন চাঁদাবাজ, দাউদকান্দিতে ১০ জন সন্ত্রাসী ও ১০ জন চাঁদাবাজ, তিতাসে মোট ১১ জন সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের নাম উঠে এসেছে। হোমনায় ১২ জন সন্ত্রাসী ও ৪ জন চাঁদাবাজ, মেঘনায় ৩ জন সন্ত্রাসী ও ৬ জন চাঁদাবাজ এবং মুরাদনগরে ২২ জন সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের তথ্য রয়েছে।

দেবিদ্বারে ৯ জন সন্ত্রাসী এবং বাঙ্গরা বাজার এলাকায় ৯ জন সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চিহ্নিত হয়েছে। তবে লালমাই ও বুড়িচং থানার তালিকা এখনো পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন থানায় আরও অন্তত ৭৯ জন সন্ত্রাসীর আলাদা তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

র‍্যাব-১১ সিপিসি-২ কুমিল্লার অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম বলেন, “নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী যে কোনো সময় অভিযান শুরু হতে পারে।”

পুলিশ সুপার আরও জানান, এক জেলা থেকে অন্য জেলায় সন্ত্রাসীদের চলাচল কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ ঠেকাতে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের একমাত্র লক্ষ্য—নির্বাচনকে সহিংসতামুক্ত, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ রাখা।”