
আবুল হোসেন বাবলুঃ
র্যাবের পৃথক অভিযানে নীলফামারী জেলার পর্নোগ্রাফি মামলায় বগুড়া থেকে একজন, গাইবান্ধা জেলার ধর্ষণ মামলায় গাইবান্ধা সদর থানার অন্তর্ভুক্ত লক্ষীপুর থেকে একজন এবং রংপুর জেলার ধর্ষণ মামলার এক পলাতক আসামীকে নোয়াখালী থেকে মোট ৩ জন পলাতক আসামী গ্রেফতার।
বাদীর দায়েরকৃত এজাহারের বরাত দিয়ে জানানো হয়, ভিকটিমের সাথে ধৃত আসামি শুভ আহমেদের প্রেমের সম্পর্ক থাকাকালীন আসামি শুভ বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার ভিকটিমকে ধর্ষণ করে এবং গোপনে ভিডিও ধারণ করে। পরে ভিকটিমের ছবি এবং ভিডিও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিবে বলে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ১০ মে ২০২৬ ভিন্ন দুইটি ফেসবুক আইডি থেকে আসামিরা ভিকটিমের মেজো বোনের ফেসবুক আইডিতে গোপনে ধারণ করা ছবি ও ভিডিও পাঠায়।
এই ঘটনায় ভিকটিমের ভাই বাদী হয়ে গত ২০ মে ২০২৬ নীলফামারীর ডিমলা থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ এর ৮(১)/৮(২)/৮(৩)/৮(৭) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-১৫।
মামলার প্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ সিপিসি-২ ক্যাম্প নীলফামারী এবং র্যাব-১২ বগুড়া সিপিএসসি ক্যাম্পের একটি যৌথ আভিযানিক দল ১১ জুন সকাল সাড়ে আটটার দিকে বগুড়া জেলার সোনাতলা থানাধীন শিহিপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত মামলার পলাতক আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত আসামী নীলফামারী জেলার ডিমলা থানার অন্তর্ভুক্ত উত্তর তিতপাড়া (সরদারপাড়া) গ্রামের সোলেমান ইসলামের ছেলে শুভ ইসলাম (২০)।
অপর একটি অভিযানে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। বাদী ভিকটিমের মায়ের দায়েরকৃত এজাহারের বরাত দিয়ে জানানো হয়, গত ২০ ফেব্রুয়ারী ভিকটিমকে আসামিরা জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়। এই বিষয়ে মিঠাপুকুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন ভিকটিমের মা। পরবর্তীতে বাদী আসামিদের বাড়িতে মেয়ের খোঁজ করতে গেলে বাদীকে নানারকম হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। আসামিরা পরে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ভিকটিমকে গাজীপুরের বাসন থানা এলাকা হতে ২নং আসামি মোর্শেদা বেগম এবং ৩নং আসামি হাসেন আলীর বাসা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রধান আসামি মুশফিকুর রহমান মোমেন পালিয়ে যায়। ভিকটিমকে উদ্ধারের পর তার পরিবারকে জানান যে, মোর্শেদা বেগম ও হাসেন আলীর বাসায় আটক রেখে মুশফিক তাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। এই বিষয়ে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানায় গত ০৭ এপ্রিল একটি ধর্ষন মামলা রুজু হয়েছে, যার মামলা নং-১৩। ঘটনার পর থেকেই অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। এর একপর্যায়ে
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সিপিএসসি র্যাব-১৩ রংপুর এবং সিপিসি-৩ র্যাব-১১ নোয়াখালী ক্যাম্পের একটি যৌথ আভিযানিক দল (১১ জুন) নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি থানাধীন খলিলুর রহমান ডিগ্রী কলেজের সামনে অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত মামলার পলাতক প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত আসামী রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার অন্তর্ভুক্ত ইমাদপুর পশ্চিমপাড়া (গয়েশপাড়া) গ্রামের মৃত মোজাম্মেল হকের ছেলে মুসফিকুর রহমান মোমিন (৩২)।
এছাড়া গাইবান্ধায় পারিবারিকভাবে বিয়ে ঠিক হওয়ার পরে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে র্যাব-১৩ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে। বাদীর দায়েরকৃত এজাহারের বরাত দিয়ে জানানো হয়, ভিকটিম বাদীর মেয়ে। আসামি উজ্জল মিয়ার সাথে ভিকটিমের পারিবারিকভাবে বিয়ে ঠিক হয়। বিয়ে ঠিক হওয়ার পর আসামি বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত (২৭ মে) সকালে কৌশলে ভিকটিমকে আসামি উজ্জল মিয়া তার নিজ বাড়ীতে নিয়ে গিয়ে পুনরায় ধর্ষণ করে। ভিকটিম ধৃত আসামিকে বিবাহ করার কথা বললে বিবাহ না করে আসামি কৌশলে পালিয়ে যায়। উক্ত ঘটনায় গত ০৭ জুন ভিকটিমের মা বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী অধ্যাদেশ ২০২৫) এর ৯(খ) ধারায় জোরপূর্বক ধর্ষণ করার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন; যার মামলা নং-১৬।
মামলার প্রেক্ষিতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ সিপিসি-৩ গাইবান্ধা এর একটি আভিযানিক দল ১১ জুন রাতে গাইবান্ধা জেলার সদর থানাধীন ১নং লক্ষীপুর ইউপিস্থ ০২নং ওয়ার্ডের গোবিন্দপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে জনৈক শফিকুল ইসলামের মুদি দোকানের সামনে পাকা রাস্তার উপর হতে উল্লেখিত মামলার পলাতক আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। ধৃত আসামী গাইবান্ধা সদর থানাধীন বেড়াডাঙ্গা কুঠি গ্রামের মৃত শাহিন মিয়ার ছেলে উজ্জল মিয়া (২৫)।পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ধৃত আসামিদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


















