০৬:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার লড়াই: চুয়াডাঙ্গায় কনস্টেবল নিয়োগে জেলা পুলিশের কঠোর প্রস্তুতি

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:১৮:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩০০৫ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ মিনারুল ইসলাম
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি
১৭/০৪/২০২৬ ইং শুক্রবার

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদের নিয়োগ পরীক্ষা। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে শতভাগ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং প্রভাবমুক্ত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখ বিকেল ০৫:০০ ঘটিকায় পুলিশ লাইন্স ড্রিলশেডে নিয়োগ ডিউটিতে নিয়োজিত অফিসার ও ফোর্সদের এক বিশেষ ব্রিফিং সেশন অনুষ্ঠিত হয়।

ব্রিফিং সেশনে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। সভায় তিনি কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও সততার সাথে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, নিয়োগ কার্যক্রমে কোনো প্রকার শিথিলতা বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।

পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনার মূল দিকগুলো হলো:

ড্রেসরুল ও সময়ানুবর্তিতা: সকল অফিসার ও ফোর্সকে নির্দিষ্ট সময়ের আগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে পূর্ণাঙ্গ ড্রেসরুল মেনে ইউনিফর্ম পরিধান করে প্যারেড গ্রাউন্ডে উপস্থিত হতে হবে।

শাস্তিমূলক সর্তকতা: যদি কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, অবৈধ সহযোগিতা বা স্বজনপ্রীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাসহ বিভাগীয় কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিচক্ষণতা: অর্পিত দায়িত্ব পালনে অত্যন্ত সতর্ক ও বিচক্ষণ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন কোনো বহিরাগত বা অশুভ শক্তি নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে না পারে।

নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ও পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে এক জোরালো বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, কনস্টেবল পদে নিয়োগ হবে অত্যন্ত স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত।

“শুধুমাত্র তারাই পুলিশে যোগ দেবে যারা নিজেদের যোগ্যতায় উত্তীর্ণ হবে। প্রার্থীদের পরিবার যেন কোনো প্রতারক বা দালাল চক্রের প্রলোভনে পা না দেন। মনে রাখবেন, মেধা ও শারীরিক যোগ্যতাই এখানে একমাত্র মানদণ্ড।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শারীরিক পরীক্ষায় যোগ্য বিবেচিত হয়ে যারা পরবর্তী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সেরা ফলাফল করবে, তারাই নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ পাবে।

আগামী ১৮, ১৯ ও ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ প্রতিদিন সকাল ০৮:০০ ঘটিকা হতে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইন্স প্যারেড গ্রাউন্ডে শারীরিক মাপ ও Physical Endurance Test (PET) অনুষ্ঠিত হবে।

পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা:

প্রবেশ সময়: নারী ও পুরুষ প্রার্থীদের পৃথক লাইনে সকাল ০৮:০০ টার পূর্বেই মাঠে প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

নিষিদ্ধ সামগ্রী: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, কলম এবং পরিধেয় বস্ত্র ছাড়া অন্য কোনো ব্যাগ বা মোবাইল ফোন সাথে রাখা যাবে না। এসব সরঞ্জাম পুলিশ লাইন্সের নির্ধারিত জায়গায় জমা রাখতে হবে।

প্রতিযোগিতা: চুয়াডাঙ্গা জেলার প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিটি ইভেন্টে কঠোর প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চূড়ান্ত মেধা তালিকা তৈরি করা হবে।

এদিনের ব্রিফিং সেশনে উপস্থিত ছিলেন জেলার শীর্ষস্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাগণ, যারা সরাসরি এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার তদারকি করবেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
মোঃ মিনহাজ-উল-ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ)। জামাল আল নাসের, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্)।
সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিস) যথাক্রমে অনির্বাণ দাস, মো: সোয়েব আহমেদ এবং হিমন বিশ্বাস।

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের এই ব্যাপক প্রস্তুতির মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে, যোগ্য ও মেধাবী তরুণ-তরুণীদের পুলিশ বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করতে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। কোনো প্রকার অবৈধ লেনদেন বা তদবিরের সুযোগ নেই—এই বার্তাটিই এখন চুয়াডাঙ্গার সাধারণ মানুষ ও চাকরিপ্রত্যাশীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার লড়াই: চুয়াডাঙ্গায় কনস্টেবল নিয়োগে জেলা পুলিশের কঠোর প্রস্তুতি

যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার লড়াই: চুয়াডাঙ্গায় কনস্টেবল নিয়োগে জেলা পুলিশের কঠোর প্রস্তুতি

Update Time : ১২:১৮:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

মোঃ মিনারুল ইসলাম
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি
১৭/০৪/২০২৬ ইং শুক্রবার

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদের নিয়োগ পরীক্ষা। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে শতভাগ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং প্রভাবমুক্ত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখ বিকেল ০৫:০০ ঘটিকায় পুলিশ লাইন্স ড্রিলশেডে নিয়োগ ডিউটিতে নিয়োজিত অফিসার ও ফোর্সদের এক বিশেষ ব্রিফিং সেশন অনুষ্ঠিত হয়।

ব্রিফিং সেশনে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। সভায় তিনি কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও সততার সাথে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, নিয়োগ কার্যক্রমে কোনো প্রকার শিথিলতা বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।

পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনার মূল দিকগুলো হলো:

ড্রেসরুল ও সময়ানুবর্তিতা: সকল অফিসার ও ফোর্সকে নির্দিষ্ট সময়ের আগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে পূর্ণাঙ্গ ড্রেসরুল মেনে ইউনিফর্ম পরিধান করে প্যারেড গ্রাউন্ডে উপস্থিত হতে হবে।

শাস্তিমূলক সর্তকতা: যদি কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, অবৈধ সহযোগিতা বা স্বজনপ্রীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাসহ বিভাগীয় কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিচক্ষণতা: অর্পিত দায়িত্ব পালনে অত্যন্ত সতর্ক ও বিচক্ষণ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন কোনো বহিরাগত বা অশুভ শক্তি নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে না পারে।

নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ও পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে এক জোরালো বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, কনস্টেবল পদে নিয়োগ হবে অত্যন্ত স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত।

“শুধুমাত্র তারাই পুলিশে যোগ দেবে যারা নিজেদের যোগ্যতায় উত্তীর্ণ হবে। প্রার্থীদের পরিবার যেন কোনো প্রতারক বা দালাল চক্রের প্রলোভনে পা না দেন। মনে রাখবেন, মেধা ও শারীরিক যোগ্যতাই এখানে একমাত্র মানদণ্ড।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শারীরিক পরীক্ষায় যোগ্য বিবেচিত হয়ে যারা পরবর্তী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সেরা ফলাফল করবে, তারাই নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ পাবে।

আগামী ১৮, ১৯ ও ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ প্রতিদিন সকাল ০৮:০০ ঘটিকা হতে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইন্স প্যারেড গ্রাউন্ডে শারীরিক মাপ ও Physical Endurance Test (PET) অনুষ্ঠিত হবে।

পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা:

প্রবেশ সময়: নারী ও পুরুষ প্রার্থীদের পৃথক লাইনে সকাল ০৮:০০ টার পূর্বেই মাঠে প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

নিষিদ্ধ সামগ্রী: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, কলম এবং পরিধেয় বস্ত্র ছাড়া অন্য কোনো ব্যাগ বা মোবাইল ফোন সাথে রাখা যাবে না। এসব সরঞ্জাম পুলিশ লাইন্সের নির্ধারিত জায়গায় জমা রাখতে হবে।

প্রতিযোগিতা: চুয়াডাঙ্গা জেলার প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিটি ইভেন্টে কঠোর প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চূড়ান্ত মেধা তালিকা তৈরি করা হবে।

এদিনের ব্রিফিং সেশনে উপস্থিত ছিলেন জেলার শীর্ষস্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাগণ, যারা সরাসরি এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার তদারকি করবেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
মোঃ মিনহাজ-উল-ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ)। জামাল আল নাসের, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্)।
সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিস) যথাক্রমে অনির্বাণ দাস, মো: সোয়েব আহমেদ এবং হিমন বিশ্বাস।

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের এই ব্যাপক প্রস্তুতির মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে, যোগ্য ও মেধাবী তরুণ-তরুণীদের পুলিশ বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করতে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। কোনো প্রকার অবৈধ লেনদেন বা তদবিরের সুযোগ নেই—এই বার্তাটিই এখন চুয়াডাঙ্গার সাধারণ মানুষ ও চাকরিপ্রত্যাশীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।