১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বুড়িচংয়ে প্রেমের ফাঁদে অপহরণ নাটক: তরুণীকে তুলে নিয়ে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ, আটক ৪

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৫৪:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • ৩০৯০ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শাহজাহান বাশার

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় ঘুরতে আসা এক যুগলকে টার্গেট করে প্রেমিককে আটকে রেখে তার প্রেমিকাকে অপহরণ এবং ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী প্রেমিক আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে চারজন গ্রেপ্তারকৃতসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে বুড়িচং থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল সাড়ে ১১টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার দুপুরে কুমিল্লা শহর থেকে প্রেমিক আনোয়ার হোসেন (২১) ও তার প্রেমিকা শান্তা আক্তার (১৮) ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে বাকশীমূল ইউনিয়নের খারেরা ক্যাম্প সংলগ্ন আনন্দপুর হাড়ভাঙা কবিরাজের কাছে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র তাদের গতিরোধ করে।

এ সময় অভিযুক্তরা প্রেমিক আনোয়ার হোসেনকে মারধর করে এবং জোরপূর্বক প্রেমিকাকে তুলে নেয়। পরে প্রেমিক আনোয়ার হোসেন ও অটোরিকশাচালক রাকিবুল হাসানকে কালিকাপুর-ফকির বাজারগামী মনোহরপুর পাকা সড়কের মোহনের দোকানের সামনে আটকে রেখে মারধর করা হয়। একই সঙ্গে তাদের কাছ থেকে নগদ ৪ হাজার টাকা, একটি মোবাইল ফোন ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয় চক্রটি।

অন্যদিকে অপহৃত তরুণীকে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা ঘুরিয়ে শহরের একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রেমিকের পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। একই সঙ্গে টাকা পরিশোধ করলে প্রেমিক-প্রেমিকার বিয়ে পড়িয়ে ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাসও দেয় অপহরণকারীরা।

ঘটনার দিন বিকেলে বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে বুড়িচং থানায় জানানো হলে এসআই মিজানুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান চালিয়ে প্রেমিক-প্রেমিকাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত চারজনকে আটক করা হয়।

রবিবার সকালে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—বাকশীমূল ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে মো. জসিম (৩০), একই এলাকার আঃ বারেক মিয়ার ছেলে মো. হাবিব (২২), আনন্দপুর পূর্বপাড়ার শাহ আলমের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪০) এবং জঙ্গলবাড়ি পশ্চিম পাড়ার আঃ মান্নানের ছেলে মো. সাগর (১৯)।

ভুক্তভোগী প্রেমিক আনোয়ার হোসেন লাকসাম উপজেলার গোবিন্দপুর বেপারী বাড়ির মো. আব্দুল রহিমের ছেলে। অপহৃত তরুণী শান্তা আক্তার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার আশ্রাফপুর গ্রামের সোহাগ মিয়ার মেয়ে। অটোরিকশাচালক রাকিবুল হাসান কুমিল্লা সদর টমছমব্রীজ রামমালা এলাকার হুমায়ুন কবিরের ছেলে।

পুলিশ জানায়, সময়মতো অভিযান চালানো না হলে ভিকটিমের সঙ্গে গুরুতর অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারত।

এ বিষয়ে বুড়িচং থানার ওসি মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, “অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে শনাক্ত করার কাজ চলছে। দ্রুত তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

জামায়াতের মিথ্যাচার জনগণ ক্ষমা করবে না: মির্জা ফখরুল

বুড়িচংয়ে প্রেমের ফাঁদে অপহরণ নাটক: তরুণীকে তুলে নিয়ে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ, আটক ৪

Update Time : ০৩:৫৪:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মোঃ শাহজাহান বাশার

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় ঘুরতে আসা এক যুগলকে টার্গেট করে প্রেমিককে আটকে রেখে তার প্রেমিকাকে অপহরণ এবং ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী প্রেমিক আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে চারজন গ্রেপ্তারকৃতসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে বুড়িচং থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল সাড়ে ১১টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার দুপুরে কুমিল্লা শহর থেকে প্রেমিক আনোয়ার হোসেন (২১) ও তার প্রেমিকা শান্তা আক্তার (১৮) ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে বাকশীমূল ইউনিয়নের খারেরা ক্যাম্প সংলগ্ন আনন্দপুর হাড়ভাঙা কবিরাজের কাছে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র তাদের গতিরোধ করে।

এ সময় অভিযুক্তরা প্রেমিক আনোয়ার হোসেনকে মারধর করে এবং জোরপূর্বক প্রেমিকাকে তুলে নেয়। পরে প্রেমিক আনোয়ার হোসেন ও অটোরিকশাচালক রাকিবুল হাসানকে কালিকাপুর-ফকির বাজারগামী মনোহরপুর পাকা সড়কের মোহনের দোকানের সামনে আটকে রেখে মারধর করা হয়। একই সঙ্গে তাদের কাছ থেকে নগদ ৪ হাজার টাকা, একটি মোবাইল ফোন ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয় চক্রটি।

অন্যদিকে অপহৃত তরুণীকে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা ঘুরিয়ে শহরের একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রেমিকের পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। একই সঙ্গে টাকা পরিশোধ করলে প্রেমিক-প্রেমিকার বিয়ে পড়িয়ে ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাসও দেয় অপহরণকারীরা।

ঘটনার দিন বিকেলে বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে বুড়িচং থানায় জানানো হলে এসআই মিজানুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান চালিয়ে প্রেমিক-প্রেমিকাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত চারজনকে আটক করা হয়।

রবিবার সকালে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—বাকশীমূল ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে মো. জসিম (৩০), একই এলাকার আঃ বারেক মিয়ার ছেলে মো. হাবিব (২২), আনন্দপুর পূর্বপাড়ার শাহ আলমের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪০) এবং জঙ্গলবাড়ি পশ্চিম পাড়ার আঃ মান্নানের ছেলে মো. সাগর (১৯)।

ভুক্তভোগী প্রেমিক আনোয়ার হোসেন লাকসাম উপজেলার গোবিন্দপুর বেপারী বাড়ির মো. আব্দুল রহিমের ছেলে। অপহৃত তরুণী শান্তা আক্তার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার আশ্রাফপুর গ্রামের সোহাগ মিয়ার মেয়ে। অটোরিকশাচালক রাকিবুল হাসান কুমিল্লা সদর টমছমব্রীজ রামমালা এলাকার হুমায়ুন কবিরের ছেলে।

পুলিশ জানায়, সময়মতো অভিযান চালানো না হলে ভিকটিমের সঙ্গে গুরুতর অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারত।

এ বিষয়ে বুড়িচং থানার ওসি মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, “অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে শনাক্ত করার কাজ চলছে। দ্রুত তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।”