
এইচ এম নুরুন্নবী হুসাইন, স্ট্যাফ রিপোর্টারঃ সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে সিটি প্রেসক্লাব ভূরুঙ্গামারী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাইদুল ইসলামকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ২৭ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে প্রেসক্লাব শাখার সভাপতি রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষৰিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রাপ্ত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১ অক্টোবর ২০২৫ ইং সিটি প্রেসক্লাব ভূরুঙ্গামারী উপজেলা শাখার নতুন কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে উলিপুর ডটকম ও হামার কুড়িগ্রাম অনলাইন পোর্টালের ভূরুঙ্গামারী প্রতিনিধি মাইদুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি পদের অপব্যবহারসহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও অপকর্মে জড়িত হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে, যা সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
এ বিষয়ে সিটি প্রেসক্লাব ভূরুঙ্গামারী উপজেলা শাখার সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন—“মাইদুল ইসলাম বিভিন্ন সময়ে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।”
মাইদুলের তীব্র প্রতিবাদ—“বহিষ্কারের নিউজ দেখে প্রথম জানলাম আমি সাধারণ সম্পাদক!
“বহিষ্কারের সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অসত্য ও ষড়যন্ত্রমূলক” আখ্যা দিয়ে বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মাইদুল ইসলাম। তিনি বলেন—
“আমি সিটি প্রেস ক্লাবের সঙ্গে কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রমেই জড়িত নই। আমি একটি কম্পিউটার দোকান পরিচালনা করি এবং পাশাপাশি উলিপুর ডট কম ও তালাশ বিডির উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করি। আমাকে কখন কীভাবে সাধারণ সম্পাদক বানানো হলো—তা আমি জানিই না। আজ একটি নিউজ পোর্টালে ‘বহিষ্কারের খবর’ দেখে প্রথম জানলাম যে আমি নাকি সাধারণ সম্পাদক!”
তিনি আরও বলেন—
“রফিকুল দীর্ঘদিন ধরে আমাকে তার সংগঠনে যুক্ত হওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু আমি রাজি হইনি। কারণ, সে যে সদস্যদের নিয়ে কমিটি করেছে—তাদের অনেকেই সাংবাদিক নন; অনেকের কাছে কোনো প্রেসকার্ডও নেই। কমিটিতে কারা আছে এ তথ্যও কখনো প্রকাশ হয়নি।”
মাইদুল অভিযোগ করে বলেন—
“রফিকুল বিভিন্ন লোকের কার্ড বানিয়ে দিয়ে ব্যক্তিগত সুবিধা নেয়। আমার করা নিউজ সে কপি করে নিজের নামে চালায়। কমিটি গঠনের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা কখনোই ছিল না।”
প্রতিবেদন প্রকাশকে কেন্দ্র করে মনোক্ষুণ্ণতার অভিযোগ
মাইদুল জানান—
“হাসপাতালের অনিয়ম নিয়ে আমি প্রতিবেদন প্রকাশ করলে সাধারণ মানুষ প্রশংসা করে। কিন্তু রফিকুল তা সহ্য করতে পারেনি। এরপর ১৯ নভেম্বর কৃষকদের অভিযোগ—কৃষি অফিস থেকে সঠিক পরামর্শ পাওয়া যাচ্ছে না—এ বিষয়ে রিপোর্ট করতে গেলে সে বাধা দেয়। কৃষকের স্বার্থে আমি প্রতিবেদন করি, আর এরপর থেকেই সে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে থাকে।”
‘বহিষ্কার’ সিদ্ধান্ত অবৈধ—জেলা সভাপতির মত
মাইদুল বলেন—
“বহিষ্কারের বিষয়টি জানার পর আমি জেলা সভাপতির সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি স্পষ্ট বলেছেন—রফিকুল সম্পূর্ণ এককভাবে ও নিয়মবর্হিভূতভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোনো সভা ছাড়াই, জেলা নেতৃত্বকে না জানিয়েই একজন সাধারণ সম্পাদককে বহিষ্কার করার অধিকার তার নেই।”
মাইদুল শেষভাবে বলেন— “যে অভিযোগে আমাকে বহিষ্কার বলা হয়েছে—এগুলো মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও প্রতিহিংসামূলক। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।



















