০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঐকমত্য কমিশন ও সরকারের ভূমিকায় গভীর হতাশা বিএনপির

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৪০:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩০৩৪ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শাহজাহান বাশার
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কর্মকাণ্ড ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেছেন, কমিশন কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রস্তাব জোরপূর্বক চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। এতে করে ঐকমত্য নয়, বরং জাতিতে বিভক্তি সৃষ্টি হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানের হোটেল লেকশোরে এক সেমিনারে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
সেমিনারে বিএনপির নীতিনির্ধারক, রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ গণমাধ্যমের কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “গত ১৭ অক্টোবর যে দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেখানে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে যে সুপারিশ হওয়ার কথা ছিল, তা আমরা পুরোপুরি পাইনি। বরং দেখা যাচ্ছে, ৪৮ দফা বিষয়ে গণভোটের প্রস্তাব এসেছে— অথচ এ নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। এটি একতরফা সিদ্ধান্ত, যা কমিশনের মূল উদ্দেশ্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।”

তিনি আরও বলেন, “কমিশনের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু তারা যে প্রস্তাব দিয়েছে, তাতে ঐক্যের পরিবর্তে অনৈক্য বাড়বে। জাতি বিভক্ত হবে। আমরা বুঝতে পারছি না, এর মাধ্যমে তারা কী অর্জন করতে চায়। কমিশন ও সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড আমাদের জন্য গভীর হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন, কমিশনের দলিল ও সুপারিশে দলীয় মতামত যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। তিনি বলেন, “যে প্রস্তাবগুলোতে ঐকমত্য হওয়ার কথা ছিল, সেগুলো কার্যত উপেক্ষিত। বরং কমিশন ও এক-দুটি দল নিজেদের মতামত চাপিয়ে দিয়েছে। এটি গণতান্ত্রিক আচরণ নয়।”

আরপিও (Representation of the People Order) সংশোধন ও জোটের প্রতীক ব্যবহারের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ সরকারের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এখন বলা হচ্ছে, জোটবদ্ধ দলগুলোকে নিজেদের প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে— এটি সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত। আগে প্রতিটি জোট তাদের সুবিধা অনুযায়ী নিজেদের বা জোটের প্রতীক ব্যবহার করতে পারত। কিন্তু সরকার এখন একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি চাপিয়ে দিয়েছে, যা গণতন্ত্রবিরোধী ও পক্ষপাতমূলক।”

তিনি আরও বলেন, “দেখলাম, আরেকটি রাজনৈতিক দল সরকারের এই অগণতান্ত্রিক অবস্থানকে সমর্থন করছে। আমরা এটি আশা করিনি। সরকার যদি সত্যিই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকা রাখতে চায়, তবে তাদের নিরপেক্ষ আচরণ করতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা এমন কোনো ইঙ্গিত দেখছি না।”

সালাহউদ্দিন আহমদ শেষ পর্যন্ত আশা প্রকাশ করেন, সরকার ও কমিশন উভয়েই জনগণের মতামতকে সম্মান জানাবে এবং প্রকৃত অর্থে একটি সর্বজনগ্রাহ্য জাতীয় ঐকমত্য গঠনে উদ্যোগী হবে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি মনে করছে, কমিশনের বর্তমান পদক্ষেপ জাতিকে ঐক্যের বদলে বিভক্তির পথে নিয়ে যেতে পারে। এখন রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টি— সরকার ও কমিশন কীভাবে এই বিরোধের পথ মসৃণ করবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

আলোচনার আশ্বাসে নাগেশ্বরীতে সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন স্থগিত

ঐকমত্য কমিশন ও সরকারের ভূমিকায় গভীর হতাশা বিএনপির

Update Time : ০১:৪০:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

মোঃ শাহজাহান বাশার
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কর্মকাণ্ড ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেছেন, কমিশন কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রস্তাব জোরপূর্বক চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। এতে করে ঐকমত্য নয়, বরং জাতিতে বিভক্তি সৃষ্টি হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানের হোটেল লেকশোরে এক সেমিনারে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
সেমিনারে বিএনপির নীতিনির্ধারক, রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ গণমাধ্যমের কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “গত ১৭ অক্টোবর যে দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেখানে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে যে সুপারিশ হওয়ার কথা ছিল, তা আমরা পুরোপুরি পাইনি। বরং দেখা যাচ্ছে, ৪৮ দফা বিষয়ে গণভোটের প্রস্তাব এসেছে— অথচ এ নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। এটি একতরফা সিদ্ধান্ত, যা কমিশনের মূল উদ্দেশ্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।”

তিনি আরও বলেন, “কমিশনের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু তারা যে প্রস্তাব দিয়েছে, তাতে ঐক্যের পরিবর্তে অনৈক্য বাড়বে। জাতি বিভক্ত হবে। আমরা বুঝতে পারছি না, এর মাধ্যমে তারা কী অর্জন করতে চায়। কমিশন ও সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড আমাদের জন্য গভীর হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন, কমিশনের দলিল ও সুপারিশে দলীয় মতামত যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। তিনি বলেন, “যে প্রস্তাবগুলোতে ঐকমত্য হওয়ার কথা ছিল, সেগুলো কার্যত উপেক্ষিত। বরং কমিশন ও এক-দুটি দল নিজেদের মতামত চাপিয়ে দিয়েছে। এটি গণতান্ত্রিক আচরণ নয়।”

আরপিও (Representation of the People Order) সংশোধন ও জোটের প্রতীক ব্যবহারের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ সরকারের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এখন বলা হচ্ছে, জোটবদ্ধ দলগুলোকে নিজেদের প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে— এটি সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত। আগে প্রতিটি জোট তাদের সুবিধা অনুযায়ী নিজেদের বা জোটের প্রতীক ব্যবহার করতে পারত। কিন্তু সরকার এখন একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি চাপিয়ে দিয়েছে, যা গণতন্ত্রবিরোধী ও পক্ষপাতমূলক।”

তিনি আরও বলেন, “দেখলাম, আরেকটি রাজনৈতিক দল সরকারের এই অগণতান্ত্রিক অবস্থানকে সমর্থন করছে। আমরা এটি আশা করিনি। সরকার যদি সত্যিই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকা রাখতে চায়, তবে তাদের নিরপেক্ষ আচরণ করতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা এমন কোনো ইঙ্গিত দেখছি না।”

সালাহউদ্দিন আহমদ শেষ পর্যন্ত আশা প্রকাশ করেন, সরকার ও কমিশন উভয়েই জনগণের মতামতকে সম্মান জানাবে এবং প্রকৃত অর্থে একটি সর্বজনগ্রাহ্য জাতীয় ঐকমত্য গঠনে উদ্যোগী হবে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি মনে করছে, কমিশনের বর্তমান পদক্ষেপ জাতিকে ঐক্যের বদলে বিভক্তির পথে নিয়ে যেতে পারে। এখন রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টি— সরকার ও কমিশন কীভাবে এই বিরোধের পথ মসৃণ করবে।