০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাভারে দখলবাজির সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় জড়ানোর অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৩৮:০৭ পূর্বাহ্ন, রোববার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩০৫১ বার পঠিত হয়েছে

শান্ত খান ,সাভার (ঢাকা)

সাভারের আশুলিয়া এলাকায় আবারও দখলবাজির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা-১৯ আসনের (সাবেক) সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম, সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মনজুরুল আলম রাজীব এবং আশুলিয়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার রুহুল আমিনের নাম ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরেই দাপট দেখিয়ে আসছেন দিল গণি সরকার ও তাঁর ছেলে শরিফ সরকার।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বর্তমানে এই দিল গণি সরকার ও তাঁর ছেলে শরিফ সরকার রাজনৈতিক পরিচয় বদলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-পরিবার কল্যাণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে নিজেদের প্রভাব খাটাচ্ছেন। বিভিন্ন সময় তাঁর সঙ্গে তোলা ছবি ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার, জমি দখল ও বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী মোঃ পারভেজ সরকার (৩২), পিতা নাছির উদ্দিন সরকার, স্থায়ী ঠিকানা আশুলিয়া থানার গাড়াগাঁও এলাকা, বর্তমান ঠিকানা দামপাড়া (ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সংলগ্ন), থানাঃ সাভার, জেলা ঢাকা— লিখিতভাবে থানায় অভিযোগ করেছেন যে, তিনি দামপাড়া মৌজার আর.এস ৫০, বি.আর.এস ১১৩০ নং খতিয়ানে ৯০ শতাংশ জায়গার বৈধ মালিক ও দীর্ঘদিন ভোগদখলে রয়েছেন।

তাঁর অভিযোগ,রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দিল গণি সরকার ও তাঁর ছেলে শরিফ সরকারসহ আরও কয়েকজন মিলে আমার জমি জবরদখলের চেষ্টা করছে। তারা আমার জমিতে ইট-বালু এনে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ শুরু করে। প্রতিবাদ করতে গেলে দেশীয় অস্ত্রসহ সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়, ভাড়াটিয়ার দোকান ভাঙচুর করে এবং আমার পরিবারকে হত্যার হুমকি দেয়।

 

অভিযোগে অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন, শরিফ সরকার ওরফে পাগলা শরিফ (৩৪), পিতা: দিলগণি সরকার,আরাফাত সরকার (৪০), পিতা: মৃত হাবেজ উদ্দিন সরকার,আদেল সরকার (৩৪), পিতা: মৃত হাবেজ উদ্দিন সরকার,রুবেল সরকার (৩৩), পিতা: দুলাল উদ্দিন সরকার, দিলগণি সরকার (৭৫), পিতা: মৃত রমিজ উদ্দিন,দুলাল উদ্দিন সরকার (৬০), পিতা: মৃত বাবুর উদ্দিন সরকার,ফরিদ উদ্দিন সরকার, পিতা: মৃত বাবুর উদ্দিন সরকার।

অভিযোগে বলা হয়, উপরোক্ত ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিন ও উপজেলা চেয়ারম্যান মনজুরুল আলম রাজীবের অনুসারী হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে। তাদের সঙ্গে আরও ২০-৩০ জন ভাড়াটে সন্ত্রাসী ও শ্রমিক রয়েছে, যারা ভুক্তভোগীর জমিতে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের কাজে অংশ নেয়।

মোঃ পারভেজ সরকার জানান, ১৭ অক্টোবর সকালে (সকাল ৮টার দিকে) তারা পুনরায় আমার জমিতে কাজ শুরু করে। আমি ও আমার পরিবারের লোকজন বাধা দিলে তারা হামলা করে, স্ত্রীকেও হুমকি দেয়। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শের পর থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে বিরুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আব্দুল ওহাব বলেন,জমি-জায়গা সংক্রান্ত অভিযোগ কোর্টের মাধ্যমে করতে হয়। আমরা অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দেখি, প্রয়োজন হলে জমিতে কাজ বন্ধ করে দিতে পারি।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের দখলবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটলেও ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের কার্যকর সহযোগিতা পান না। ফলে সাধারণ মানুষ ক্রমেই আতঙ্কে বসবাস করছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

আলোচনার আশ্বাসে নাগেশ্বরীতে সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন স্থগিত

সাভারে দখলবাজির সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় জড়ানোর অভিযোগ

Update Time : ১০:৩৮:০৭ পূর্বাহ্ন, রোববার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫

শান্ত খান ,সাভার (ঢাকা)

সাভারের আশুলিয়া এলাকায় আবারও দখলবাজির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা-১৯ আসনের (সাবেক) সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম, সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মনজুরুল আলম রাজীব এবং আশুলিয়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার রুহুল আমিনের নাম ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরেই দাপট দেখিয়ে আসছেন দিল গণি সরকার ও তাঁর ছেলে শরিফ সরকার।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বর্তমানে এই দিল গণি সরকার ও তাঁর ছেলে শরিফ সরকার রাজনৈতিক পরিচয় বদলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-পরিবার কল্যাণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে নিজেদের প্রভাব খাটাচ্ছেন। বিভিন্ন সময় তাঁর সঙ্গে তোলা ছবি ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার, জমি দখল ও বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী মোঃ পারভেজ সরকার (৩২), পিতা নাছির উদ্দিন সরকার, স্থায়ী ঠিকানা আশুলিয়া থানার গাড়াগাঁও এলাকা, বর্তমান ঠিকানা দামপাড়া (ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সংলগ্ন), থানাঃ সাভার, জেলা ঢাকা— লিখিতভাবে থানায় অভিযোগ করেছেন যে, তিনি দামপাড়া মৌজার আর.এস ৫০, বি.আর.এস ১১৩০ নং খতিয়ানে ৯০ শতাংশ জায়গার বৈধ মালিক ও দীর্ঘদিন ভোগদখলে রয়েছেন।

তাঁর অভিযোগ,রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দিল গণি সরকার ও তাঁর ছেলে শরিফ সরকারসহ আরও কয়েকজন মিলে আমার জমি জবরদখলের চেষ্টা করছে। তারা আমার জমিতে ইট-বালু এনে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ শুরু করে। প্রতিবাদ করতে গেলে দেশীয় অস্ত্রসহ সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়, ভাড়াটিয়ার দোকান ভাঙচুর করে এবং আমার পরিবারকে হত্যার হুমকি দেয়।

 

অভিযোগে অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন, শরিফ সরকার ওরফে পাগলা শরিফ (৩৪), পিতা: দিলগণি সরকার,আরাফাত সরকার (৪০), পিতা: মৃত হাবেজ উদ্দিন সরকার,আদেল সরকার (৩৪), পিতা: মৃত হাবেজ উদ্দিন সরকার,রুবেল সরকার (৩৩), পিতা: দুলাল উদ্দিন সরকার, দিলগণি সরকার (৭৫), পিতা: মৃত রমিজ উদ্দিন,দুলাল উদ্দিন সরকার (৬০), পিতা: মৃত বাবুর উদ্দিন সরকার,ফরিদ উদ্দিন সরকার, পিতা: মৃত বাবুর উদ্দিন সরকার।

অভিযোগে বলা হয়, উপরোক্ত ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিন ও উপজেলা চেয়ারম্যান মনজুরুল আলম রাজীবের অনুসারী হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে। তাদের সঙ্গে আরও ২০-৩০ জন ভাড়াটে সন্ত্রাসী ও শ্রমিক রয়েছে, যারা ভুক্তভোগীর জমিতে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের কাজে অংশ নেয়।

মোঃ পারভেজ সরকার জানান, ১৭ অক্টোবর সকালে (সকাল ৮টার দিকে) তারা পুনরায় আমার জমিতে কাজ শুরু করে। আমি ও আমার পরিবারের লোকজন বাধা দিলে তারা হামলা করে, স্ত্রীকেও হুমকি দেয়। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শের পর থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে বিরুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আব্দুল ওহাব বলেন,জমি-জায়গা সংক্রান্ত অভিযোগ কোর্টের মাধ্যমে করতে হয়। আমরা অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দেখি, প্রয়োজন হলে জমিতে কাজ বন্ধ করে দিতে পারি।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের দখলবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটলেও ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের কার্যকর সহযোগিতা পান না। ফলে সাধারণ মানুষ ক্রমেই আতঙ্কে বসবাস করছেন।