১০:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বকেয়া বেতনের দাবিতে উত্তাল: কালিয়াকৈরে জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের শ্রমিকদের তীব্র বিক্ষোভ, ‘বেতন নয়, কেবল আশ্বাস’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৫৬:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩১৩২ বার পঠিত হয়েছে

শাকিল হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর)প্রতিনিধি: সমবারের সকালটা ছিল অন্য দিনের মতোই। কিন্তু সূর্য ওঠার আগেই মৌচাকের সুরিচালা এলাকায় জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ফটকের সামনে জমে যায় উত্তপ্ত ভিড়। মুখে স্লোগান, হাতে প্ল্যাকার্ড “বেতন দাও, বাঁচার সুযোগ দাও।”

তিন মাসের বেতন, আর এক বছরের ওভারটাইম, এটাই ছিল দাবির মূল কথা। তবে এর পেছনে জমে থাকা ক্ষোভের আগুন যেন অনেক পুরনো।
কারখানার ভেতর সকাল ৯টা থেকেই শুরু হয় কর্মবিরতি। মেশিনের শব্দ থেমে যায়, তার জায়গায় ভেসে আসে প্রতিবাদের সুর।

পুলিশ আসে, তবু কথা হয় না।
শিল্প পুলিশ ও থানা পুলিশের উপস্থিতিতেও শ্রমিকদের মুখ বন্ধ হয়নি। তারা জানায়, কথা আর আশ্বাসে পেট ভরে না, বাজারে চাল-ডাল কেনা যায় না।

“তিন মাস ধরে বেতন পাইনি, দোকানদার বাকি দিচ্ছে না, বাড়িওয়ালা বাসা ছাড়তে বলছে,” বললেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী শ্রমিক, চোখে কান্না আর ক্ষোভ মিশে।
আরেকজন যোগ করলেন, “স্টাফদেরও ৯ মাসের বেতন বকেয়া। এত বড় কোম্পানি হয়ে কেন এই অবস্থা!”

কারখানার অ্যাডমিন অফিসার মোশাররফ হোসেন অবশ্য আশ্বাসের সুরেই বললেন, “২২ অক্টোবরের মধ্যেই সব বকেয়া পরিশোধ হবে। ফান্ডে এখন টাকার ঘাটতি আছে।”
কিন্তু শ্রমিকদের উত্তরে হতাশার সুর— “২২ তারিখে পেট খালি থাকবে, আজ কী খাব?”

কাশিমপুর শিল্প পুলিশের ওসি আকবর হোসেন জানান, “সকাল থেকে শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ করছেন। আমরা বারবার তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি, কিন্তু তারা আপাতত শুনতে রাজি নয়।”

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ফার্মার ফটকের সামনে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
মেশিনের নীরবতা যেন বলছে— যেখানে বেতন থেমে যায়, সেখানেই কাজ থেমে যায়।

তারিখ:- ১৩/১০/২০২৫

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফারিয়া’র ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

বকেয়া বেতনের দাবিতে উত্তাল: কালিয়াকৈরে জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের শ্রমিকদের তীব্র বিক্ষোভ, ‘বেতন নয়, কেবল আশ্বাস’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ

Update Time : ০৫:৫৬:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫

শাকিল হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর)প্রতিনিধি: সমবারের সকালটা ছিল অন্য দিনের মতোই। কিন্তু সূর্য ওঠার আগেই মৌচাকের সুরিচালা এলাকায় জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ফটকের সামনে জমে যায় উত্তপ্ত ভিড়। মুখে স্লোগান, হাতে প্ল্যাকার্ড “বেতন দাও, বাঁচার সুযোগ দাও।”

তিন মাসের বেতন, আর এক বছরের ওভারটাইম, এটাই ছিল দাবির মূল কথা। তবে এর পেছনে জমে থাকা ক্ষোভের আগুন যেন অনেক পুরনো।
কারখানার ভেতর সকাল ৯টা থেকেই শুরু হয় কর্মবিরতি। মেশিনের শব্দ থেমে যায়, তার জায়গায় ভেসে আসে প্রতিবাদের সুর।

পুলিশ আসে, তবু কথা হয় না।
শিল্প পুলিশ ও থানা পুলিশের উপস্থিতিতেও শ্রমিকদের মুখ বন্ধ হয়নি। তারা জানায়, কথা আর আশ্বাসে পেট ভরে না, বাজারে চাল-ডাল কেনা যায় না।

“তিন মাস ধরে বেতন পাইনি, দোকানদার বাকি দিচ্ছে না, বাড়িওয়ালা বাসা ছাড়তে বলছে,” বললেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী শ্রমিক, চোখে কান্না আর ক্ষোভ মিশে।
আরেকজন যোগ করলেন, “স্টাফদেরও ৯ মাসের বেতন বকেয়া। এত বড় কোম্পানি হয়ে কেন এই অবস্থা!”

কারখানার অ্যাডমিন অফিসার মোশাররফ হোসেন অবশ্য আশ্বাসের সুরেই বললেন, “২২ অক্টোবরের মধ্যেই সব বকেয়া পরিশোধ হবে। ফান্ডে এখন টাকার ঘাটতি আছে।”
কিন্তু শ্রমিকদের উত্তরে হতাশার সুর— “২২ তারিখে পেট খালি থাকবে, আজ কী খাব?”

কাশিমপুর শিল্প পুলিশের ওসি আকবর হোসেন জানান, “সকাল থেকে শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ করছেন। আমরা বারবার তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি, কিন্তু তারা আপাতত শুনতে রাজি নয়।”

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ফার্মার ফটকের সামনে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
মেশিনের নীরবতা যেন বলছে— যেখানে বেতন থেমে যায়, সেখানেই কাজ থেমে যায়।

তারিখ:- ১৩/১০/২০২৫