১০:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দীর্ঘ পাঁচ বছর আইনি লড়াই শেষে মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন বুড়িচংয়ের কবির হোসেন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:১৫:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩১০৩ বার পঠিত হয়েছে
মোঃ শাহজাহান বাশার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

দীর্ঘ পাঁচ বছর আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে মিথ্যা মামলার শিকল থেকে মুক্তি পেয়েছেন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশিমুল ইউনিয়নের বাকশিমুল গ্রামের বাসিন্দা মো. কবির হোসেন। ন্যায়বিচারের এই রায়টি দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২৬ এর বিচারক আওলাদ হোসেন মোহাম্মদ জুনায়েদ।

গত ৬ অক্টোবর (রবিবার) আদালত তার রায়ে কবির হোসেনকে দায়মুক্ত ঘোষণা করেন এবং মামলাটি স্থায়ীভাবে বন্ধের আদেশ দেন।

রায়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের জিআর মামলা নং ১০৪৭/২০ এ কবির হোসেনকে আসামি করা হয়েছিল। ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর মামলার অভিযোগ গঠন করা হলেও এরপর রাষ্ট্রপক্ষ কোনো সাক্ষী আদালতে হাজির করতে পারেনি।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ গঠনের পর থেকে মোট ১৩ বার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও একবারও কোনো সাক্ষী হাজির হয়নি। এতে মামলার কার্যক্রম বছরের পর বছর স্থবির হয়ে পড়ে।

রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৩৯(গ)(১) ধারা অনুযায়ী, একটি ফৌজদারি মামলার বিচারিক সময়সীমা ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া উচিত। এছাড়া বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের স্মারক নং ১৭০৫৪(১৬), তারিখ: ৩০ আগস্ট ২০১৫ অনুযায়ী, তিন বছরের অধিক পুরোনো মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া রয়েছে।

তবে এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণে বারবার ব্যর্থতা এবং মামলার দীর্ঘসূত্রতার কারণে আদালত মনে করেন—এর আর কোনো অগ্রগতি সম্ভব নয়। তাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে মামলাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং আসামি কবির হোসেনকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।

রায়ে আরও বলা হয়, আসামির নামে পূর্বে জারি করা কোনো প্রসেস থাকলে তা রিকল করার নির্দেশ প্রদান করা হলো।

অব্যাহতি পাওয়ার পর স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন কবির হোসেন। তিনি বলেন,“আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে কিছু ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে এই মিথ্যা মামলা করেছিল। দেরিতে হলেও বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি। আমি আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞ।”

স্থানীয়দের অনেকে মনে করছেন, এ রায় প্রমাণ করেছে—মিথ্যা অভিযোগ ও হয়রানির বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান-শাহসূফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী

দীর্ঘ পাঁচ বছর আইনি লড়াই শেষে মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন বুড়িচংয়ের কবির হোসেন

Update Time : ১১:১৫:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫
মোঃ শাহজাহান বাশার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

দীর্ঘ পাঁচ বছর আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে মিথ্যা মামলার শিকল থেকে মুক্তি পেয়েছেন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশিমুল ইউনিয়নের বাকশিমুল গ্রামের বাসিন্দা মো. কবির হোসেন। ন্যায়বিচারের এই রায়টি দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২৬ এর বিচারক আওলাদ হোসেন মোহাম্মদ জুনায়েদ।

গত ৬ অক্টোবর (রবিবার) আদালত তার রায়ে কবির হোসেনকে দায়মুক্ত ঘোষণা করেন এবং মামলাটি স্থায়ীভাবে বন্ধের আদেশ দেন।

রায়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের জিআর মামলা নং ১০৪৭/২০ এ কবির হোসেনকে আসামি করা হয়েছিল। ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর মামলার অভিযোগ গঠন করা হলেও এরপর রাষ্ট্রপক্ষ কোনো সাক্ষী আদালতে হাজির করতে পারেনি।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ গঠনের পর থেকে মোট ১৩ বার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও একবারও কোনো সাক্ষী হাজির হয়নি। এতে মামলার কার্যক্রম বছরের পর বছর স্থবির হয়ে পড়ে।

রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৩৯(গ)(১) ধারা অনুযায়ী, একটি ফৌজদারি মামলার বিচারিক সময়সীমা ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া উচিত। এছাড়া বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের স্মারক নং ১৭০৫৪(১৬), তারিখ: ৩০ আগস্ট ২০১৫ অনুযায়ী, তিন বছরের অধিক পুরোনো মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া রয়েছে।

তবে এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণে বারবার ব্যর্থতা এবং মামলার দীর্ঘসূত্রতার কারণে আদালত মনে করেন—এর আর কোনো অগ্রগতি সম্ভব নয়। তাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে মামলাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং আসামি কবির হোসেনকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।

রায়ে আরও বলা হয়, আসামির নামে পূর্বে জারি করা কোনো প্রসেস থাকলে তা রিকল করার নির্দেশ প্রদান করা হলো।

অব্যাহতি পাওয়ার পর স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন কবির হোসেন। তিনি বলেন,“আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে কিছু ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে এই মিথ্যা মামলা করেছিল। দেরিতে হলেও বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি। আমি আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞ।”

স্থানীয়দের অনেকে মনে করছেন, এ রায় প্রমাণ করেছে—মিথ্যা অভিযোগ ও হয়রানির বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পায়।