০৩:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোমর ফাঁসের কারণে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেলো..

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৫০:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৩০৫০ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শাহজাহান বাশার,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ
দুর্গাপূজার আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির বড় ধরনের অনিয়ম ও পাচারের গোপন তথ্য ফাঁস হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে বেনাপোল ও আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে প্রায় ৭০ হাজার কেজি ইলিশ ভারতে রপ্তানি করা হলেও পরবর্তীতে জানা যায়—এসব ইলিশ সরাসরি ভারতীয় বাজারে সীমিত আকারে বিক্রি হলেও, মূলত তৃতীয় দেশে পাচারের জন্যই পাঠানো হচ্ছিল।

দেশীয় বাজারে বর্তমানে এক কেজি ইলিশের দাম ১,৮০০ টাকা পর্যন্ত উঠে গেছে। অথচ সরকার নির্ধারিত রপ্তানি মূল্য মাত্র ১,৫২৫ টাকা। প্যাকেটিং ও পরিবহন খরচ যোগ হলে বৈধ রপ্তানি প্রক্রিয়ায় প্রতি কেজিতে লোকসান গুনতে হচ্ছে কয়েকশ’ টাকা। এই লোকসানের সুযোগেই সক্রিয় হয়েছে পাচার সিন্ডিকেট, যারা বিদেশে উচ্চমূল্যে বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা মুনাফা গড়ছিল।

যুগান্তরের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। কলকাতা ও হাওড়া অঞ্চলে বাংলাদেশি কিছু রপ্তানিকারকের গোপন আড়ত ও গুদামঘর রয়েছে। এসব গোপন কেন্দ্র থেকেই ইলিশ ভারতে প্রবেশ করিয়ে তৃতীয় দেশে পাঠানো হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রক্রিয়া চলছিল বলে স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল নিশ্চিত করেছে। তবে এবার “গোমর ফাঁস” হয়ে যাওয়ায় সরকার তড়িঘড়ি করে রপ্তানি স্থগিত ঘোষণা করেছে।

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গে মৎস্য মন্ত্রণালয় জরুরি তদন্ত শুরু করেছে। সীমান্তে কঠোর নজরদারি জারি করা হয়েছে, যাতে আর কোনোভাবেই পাচার বা অবৈধ রপ্তানি সম্ভব না হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমিত রপ্তানি নীতি মূলত উৎসবকালীন সৌজন্যমূলক উদ্যোগ হলেও এর অপব্যবহার দেশের অর্থনীতি ও ভোক্তা স্বার্থকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

অর্থনীতি ও মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের ভোক্তারা যেখানে চড়া দামে ইলিশ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, সেখানে সরকার নির্ধারিত কম দামে রপ্তানি নীতি কার্যত পাচার সিন্ডিকেটকে উৎসাহিত করছে। তারা সতর্ক করে বলেন—উৎসবকেন্দ্রিক সীমিত রপ্তানি নীতি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হলে দেশের অর্থনীতি, মৎস্যসম্পদ ও বাজার স্থিতিশীলতা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে।

দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় সিনেমা পুস্পা-র মতো বাস্তব জীবনের পাচার কাহিনি নিয়েও বাংলাদেশে আলোচিত সিনেমা নির্মাণের প্রস্তাব উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃতি আমাদের যে সম্পদ দিয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্পকে সমৃদ্ধ করা গেলে সচেতনতা বাড়বে এবং পাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান-শাহসূফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী

গোমর ফাঁসের কারণে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেলো..

Update Time : ১২:৫০:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মোঃ শাহজাহান বাশার,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ
দুর্গাপূজার আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির বড় ধরনের অনিয়ম ও পাচারের গোপন তথ্য ফাঁস হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে বেনাপোল ও আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে প্রায় ৭০ হাজার কেজি ইলিশ ভারতে রপ্তানি করা হলেও পরবর্তীতে জানা যায়—এসব ইলিশ সরাসরি ভারতীয় বাজারে সীমিত আকারে বিক্রি হলেও, মূলত তৃতীয় দেশে পাচারের জন্যই পাঠানো হচ্ছিল।

দেশীয় বাজারে বর্তমানে এক কেজি ইলিশের দাম ১,৮০০ টাকা পর্যন্ত উঠে গেছে। অথচ সরকার নির্ধারিত রপ্তানি মূল্য মাত্র ১,৫২৫ টাকা। প্যাকেটিং ও পরিবহন খরচ যোগ হলে বৈধ রপ্তানি প্রক্রিয়ায় প্রতি কেজিতে লোকসান গুনতে হচ্ছে কয়েকশ’ টাকা। এই লোকসানের সুযোগেই সক্রিয় হয়েছে পাচার সিন্ডিকেট, যারা বিদেশে উচ্চমূল্যে বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা মুনাফা গড়ছিল।

যুগান্তরের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। কলকাতা ও হাওড়া অঞ্চলে বাংলাদেশি কিছু রপ্তানিকারকের গোপন আড়ত ও গুদামঘর রয়েছে। এসব গোপন কেন্দ্র থেকেই ইলিশ ভারতে প্রবেশ করিয়ে তৃতীয় দেশে পাঠানো হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রক্রিয়া চলছিল বলে স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল নিশ্চিত করেছে। তবে এবার “গোমর ফাঁস” হয়ে যাওয়ায় সরকার তড়িঘড়ি করে রপ্তানি স্থগিত ঘোষণা করেছে।

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গে মৎস্য মন্ত্রণালয় জরুরি তদন্ত শুরু করেছে। সীমান্তে কঠোর নজরদারি জারি করা হয়েছে, যাতে আর কোনোভাবেই পাচার বা অবৈধ রপ্তানি সম্ভব না হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমিত রপ্তানি নীতি মূলত উৎসবকালীন সৌজন্যমূলক উদ্যোগ হলেও এর অপব্যবহার দেশের অর্থনীতি ও ভোক্তা স্বার্থকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

অর্থনীতি ও মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের ভোক্তারা যেখানে চড়া দামে ইলিশ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, সেখানে সরকার নির্ধারিত কম দামে রপ্তানি নীতি কার্যত পাচার সিন্ডিকেটকে উৎসাহিত করছে। তারা সতর্ক করে বলেন—উৎসবকেন্দ্রিক সীমিত রপ্তানি নীতি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হলে দেশের অর্থনীতি, মৎস্যসম্পদ ও বাজার স্থিতিশীলতা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে।

দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় সিনেমা পুস্পা-র মতো বাস্তব জীবনের পাচার কাহিনি নিয়েও বাংলাদেশে আলোচিত সিনেমা নির্মাণের প্রস্তাব উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃতি আমাদের যে সম্পদ দিয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্পকে সমৃদ্ধ করা গেলে সচেতনতা বাড়বে এবং পাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।