১০:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আত্মহত্যার প্ররোচনায় গৃহবধূর মৃত্যু ছয় মাস পর গ্রেফতার হলো শাশুড়ি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৩৪:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩০১২ বার পঠিত হয়েছে

রংপুর ব্যুরোঃ

রংপুরের মিঠাপুকুরে স্বামীর বাড়িতে নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে বিষপানে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। তবে ঘটনার প্রায় ৬ মাস পর পলাতক থাকা শাশুড়িকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে মিঠাপুকুর থানা পুলিশ।

প্রায় পাঁচ বছর আগে মিঠাপুকুর উপজেলার ৭নং লতিবপুর ইউপি’র হেতমপুর গ্রামের মোসলেম মিয়ার মেয়ে মোহচেনা আক্তার মীম এর বিয়ে হয়, ২নং রানীপুকুর ইউপি’র কৃষ্ণপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে লিটন মিয়ার সঙ্গে।

এজাহার সুত্রে জানা যায়, বিয়ের পর দীর্ঘদিন সন্তানাদি না হওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী লিটন মিয়া, শ্বশুর আনোয়ার হোসেন ও শাশুড়ি শাহীনুরী বেগম মীমকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করে আসছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট সকালে স্বামীর বাড়িতে মীম “ঘাসমারা” নামক কীটনাশক পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে শ্বশুর বাড়ির লোকজন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে না নিয়ে গ্রামের পল্লি চিকিৎসক দারা চিকিৎসা করান। পরে অবস্থার অবনতি হলে মীম এর বাবা-মা তাকে জোর করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রমেক)এ ভর্তি করালেও ২৯ আগস্ট সকালে মিম এর স্বামী এবং শাশুড়ি জোরপূর্বক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে লিটনের মামা আবু শীষ জানান, কচু শাকের তরকারি পাক করাকে কেন্দ্র করে ঝগড়ার সৃষ্টি। তরকারি ভালো হয়নি এ নিয়ে স্বামীর সাথে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মিম ঘাস মারা ঔষধ খায়। আমরা তাকে হাসপাতালে না নিয়ে এলাকার পল্লী চিকিৎসক দ্বারা চিকিৎসা করে সুস্থ করার চেষ্টা করি। পরে মিমের বাবা-মা রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করায়। তবে বাঁচার সম্ভাবনা নেই জেনে পরদিন মিমের স্বামী এবং শাশুড়ি মিমকে বাড়িতে নিয়ে আসার পরপরই মিমের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা মোসলেম মিয়া বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এ ছাড়াও নিহতের মা ফুলতি বেগম রংপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-১ এ ৮ জনকে আসামি করে আরও একটি মামলা দায়ের করেন।

নিহতের মা ফুলতি বেগম বলেন, “আমরা মিঠাপুকুর থানা ও আদালতে মামলা করেছি। কিন্তু ঘটনার প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে যাবার পর ৩নং আসামি গ্রেফতার হলো। মুল আসামি লিটন মিয়া এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোড় অনুরোধ জানাচ্ছি। আমরা আমাদের মেয়ের হত্যার বিচার চাই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিম এর শ্বশুরবাড়ি এলাকার কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে মীমের ওপর নির্যাতন চলছিল। নির্যাতন করেই তাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে। এলাকার মানুষজনের দাবি, দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুজ্জামান জানান, মামলার পলাতক ৩নং আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। আমরা র‍্যাবের সহযোগিতা চেয়েছি। আসামি যেখানেই থাকুক ধরা পড়তে হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

রংপুরে ইয়াবা ও দেশীয় অস্ত্রসহ মেট্রোঃ ডিবি’র হাতে ছিনতাইকারী গ্রেফতার

আত্মহত্যার প্ররোচনায় গৃহবধূর মৃত্যু ছয় মাস পর গ্রেফতার হলো শাশুড়ি

Update Time : ০৮:৩৪:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

রংপুর ব্যুরোঃ

রংপুরের মিঠাপুকুরে স্বামীর বাড়িতে নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে বিষপানে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। তবে ঘটনার প্রায় ৬ মাস পর পলাতক থাকা শাশুড়িকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে মিঠাপুকুর থানা পুলিশ।

প্রায় পাঁচ বছর আগে মিঠাপুকুর উপজেলার ৭নং লতিবপুর ইউপি’র হেতমপুর গ্রামের মোসলেম মিয়ার মেয়ে মোহচেনা আক্তার মীম এর বিয়ে হয়, ২নং রানীপুকুর ইউপি’র কৃষ্ণপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে লিটন মিয়ার সঙ্গে।

এজাহার সুত্রে জানা যায়, বিয়ের পর দীর্ঘদিন সন্তানাদি না হওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী লিটন মিয়া, শ্বশুর আনোয়ার হোসেন ও শাশুড়ি শাহীনুরী বেগম মীমকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করে আসছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট সকালে স্বামীর বাড়িতে মীম “ঘাসমারা” নামক কীটনাশক পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে শ্বশুর বাড়ির লোকজন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে না নিয়ে গ্রামের পল্লি চিকিৎসক দারা চিকিৎসা করান। পরে অবস্থার অবনতি হলে মীম এর বাবা-মা তাকে জোর করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রমেক)এ ভর্তি করালেও ২৯ আগস্ট সকালে মিম এর স্বামী এবং শাশুড়ি জোরপূর্বক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে লিটনের মামা আবু শীষ জানান, কচু শাকের তরকারি পাক করাকে কেন্দ্র করে ঝগড়ার সৃষ্টি। তরকারি ভালো হয়নি এ নিয়ে স্বামীর সাথে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মিম ঘাস মারা ঔষধ খায়। আমরা তাকে হাসপাতালে না নিয়ে এলাকার পল্লী চিকিৎসক দ্বারা চিকিৎসা করে সুস্থ করার চেষ্টা করি। পরে মিমের বাবা-মা রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করায়। তবে বাঁচার সম্ভাবনা নেই জেনে পরদিন মিমের স্বামী এবং শাশুড়ি মিমকে বাড়িতে নিয়ে আসার পরপরই মিমের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা মোসলেম মিয়া বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এ ছাড়াও নিহতের মা ফুলতি বেগম রংপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-১ এ ৮ জনকে আসামি করে আরও একটি মামলা দায়ের করেন।

নিহতের মা ফুলতি বেগম বলেন, “আমরা মিঠাপুকুর থানা ও আদালতে মামলা করেছি। কিন্তু ঘটনার প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে যাবার পর ৩নং আসামি গ্রেফতার হলো। মুল আসামি লিটন মিয়া এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোড় অনুরোধ জানাচ্ছি। আমরা আমাদের মেয়ের হত্যার বিচার চাই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিম এর শ্বশুরবাড়ি এলাকার কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে মীমের ওপর নির্যাতন চলছিল। নির্যাতন করেই তাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে। এলাকার মানুষজনের দাবি, দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুজ্জামান জানান, মামলার পলাতক ৩নং আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। আমরা র‍্যাবের সহযোগিতা চেয়েছি। আসামি যেখানেই থাকুক ধরা পড়তে হবে।