০৬:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাউনিয়া চর ঢুষমারা সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়টি পূর্বের স্থানে বহাল রাখার দাবিতে মানববন্ধন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৩৭:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
  • ৩০৪৩ বার পঠিত হয়েছে

আবুল হোসেন বাবলুঃ

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার চর ঢুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পূর্বের স্থানে বহাল রাখার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী। মঙ্গলবার দুপুরে বিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

এ সময় বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষিকার বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরে মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রায় এক বছর ধরে চর ঢুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

বিদ্যালয়ে তালা ঝুলছে, শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাস করতে পারছে না। এ ছাড়া প্রায় ৩ বছর ধরে বিদ্যালয়ের কোনো পরিচালনা কমিটিও নেই। বিষয়টি নিয়ে এর আগে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বর্তমানে বিদ্যালয়টি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। ১৯৬০ সালে সরকারি হওয়া এই বিদ্যালয়টি কাউনিয়া থানার ৪০ নম্বর স্কুল হিসেবে পরিচিত। এই বিদ্যালয়টির আশপাশে প্রায় ২০০টি পরিবার বসবাস করে এবং এখানে ১০৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। অথচ গত এক বছর ধরে বিদ্যালয়টি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, বিদ্যালয়টি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলে এলাকার কোমলমতি শিশুদের নদী পাড়ি দিয়ে অন্য গ্রামে গিয়ে পড়াশোনা করতে হবে, যা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করেন, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক আসাদুজ্জামান তোতা ও মুকুল ইসলামসহ কিছু বহিরাগত ব্যক্তি যোগসাজশ করে বিদ্যালয়টি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাদের বাধা দিলে তারা বিদ্যালয় স্থানান্তরের অনুমতি পত্র দেখিয়ে বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয়টি সরিয়ে নেওয়া হবে।মানববন্ধনে উপস্থিত অভিযোগকারী নজরুল ইসলাম বলেন, “বিদ্যালয়টি যদি কখনো স্থানান্তরের প্রয়োজন হয়, তাহলে আমরা এলাকাবাসী বিদ্যালয়ের জন্য জমি দিতে প্রস্তুত আছি। তবে সরেজমিনে তদন্ত করে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম পূর্বের স্থানেই চালু রাখার ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

মানববন্ধনের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানার কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এ সময় তিনি বলেন, “বিদ্যালয়টি বন্ধ আছে কিনা বিষয়টি আমার জানা নেই। সরেজমিনে তদন্ত করে বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হবে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, “বিদ্যালয়টি পূর্বের স্থানে রাখার দাবিতে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

আইসিটি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণে সাইফুল হাসানকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ HSC-৯৫ ব্যাচের ফুলেল শুভেচ্ছা

কাউনিয়া চর ঢুষমারা সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়টি পূর্বের স্থানে বহাল রাখার দাবিতে মানববন্ধন

Update Time : ০৭:৩৭:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

আবুল হোসেন বাবলুঃ

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার চর ঢুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পূর্বের স্থানে বহাল রাখার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী। মঙ্গলবার দুপুরে বিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

এ সময় বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষিকার বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরে মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রায় এক বছর ধরে চর ঢুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

বিদ্যালয়ে তালা ঝুলছে, শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাস করতে পারছে না। এ ছাড়া প্রায় ৩ বছর ধরে বিদ্যালয়ের কোনো পরিচালনা কমিটিও নেই। বিষয়টি নিয়ে এর আগে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বর্তমানে বিদ্যালয়টি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। ১৯৬০ সালে সরকারি হওয়া এই বিদ্যালয়টি কাউনিয়া থানার ৪০ নম্বর স্কুল হিসেবে পরিচিত। এই বিদ্যালয়টির আশপাশে প্রায় ২০০টি পরিবার বসবাস করে এবং এখানে ১০৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। অথচ গত এক বছর ধরে বিদ্যালয়টি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, বিদ্যালয়টি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলে এলাকার কোমলমতি শিশুদের নদী পাড়ি দিয়ে অন্য গ্রামে গিয়ে পড়াশোনা করতে হবে, যা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করেন, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক আসাদুজ্জামান তোতা ও মুকুল ইসলামসহ কিছু বহিরাগত ব্যক্তি যোগসাজশ করে বিদ্যালয়টি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাদের বাধা দিলে তারা বিদ্যালয় স্থানান্তরের অনুমতি পত্র দেখিয়ে বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয়টি সরিয়ে নেওয়া হবে।মানববন্ধনে উপস্থিত অভিযোগকারী নজরুল ইসলাম বলেন, “বিদ্যালয়টি যদি কখনো স্থানান্তরের প্রয়োজন হয়, তাহলে আমরা এলাকাবাসী বিদ্যালয়ের জন্য জমি দিতে প্রস্তুত আছি। তবে সরেজমিনে তদন্ত করে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম পূর্বের স্থানেই চালু রাখার ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

মানববন্ধনের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানার কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এ সময় তিনি বলেন, “বিদ্যালয়টি বন্ধ আছে কিনা বিষয়টি আমার জানা নেই। সরেজমিনে তদন্ত করে বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হবে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, “বিদ্যালয়টি পূর্বের স্থানে রাখার দাবিতে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।