০৮:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

র‌্যাবের অভিযানে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা মামলার পলাতক আসামী গ্রেফতার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:১৪:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • ৩০৫৮ বার পঠিত হয়েছে

রংপুরের মিঠাপুকুরে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা মামলার এজাহার ভুক্ত একজন আসামী র‌্যাবের যৌথ অভিযানে ঢাকার উত্তরা থেকে গ্রেফতার।                                                                                                                                 বাদীর দায়ের করা এজাহারের বরাত দিয়ে র‍্যাব-১৩’র অধিনায়কের পক্ষে সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জনৈক হাফিজুর রহমানের বাড়ি থেকে দেড়/দুই মাস আগে একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। সন্দেহবশত ওই চুরির ঘটনায়

জমি চাষ করা ট্রাক্টর-ট্রলি চালক সোহেলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় হাফিজুরের লোকজন। এজাহারে উল্লেখ করা হয় গত ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর সোহেল রানাকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়, মামলার এজাহারে উল্লেখিত ৩নং আসামী মোনারুল ইসলাম। এরপর অভিযুক্ত আসামীরা মোটরসাইকেল উদ্ধারের জন্য সোহেল রানাকে নিয়ে মিঠাপুকুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে ব্যর্থ হয়ে সোহেল রানাকে হাফিজুরের বাড়িতে আটকে রাখে। পরে মোটরসাইকেল চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য সোহেল রানাকে মারধোর ও ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয়।

এদিকে সোহেল রানা বাড়িতে ফিরে না আসায় তার পিতা-মাতা মোনারুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তখন মোনারুল সোহেলের পিতামাতার কাছে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। আসামীদের কথামতো তার পিতা-মাতা বালুয়া বাজারে গেলে আসামীরা তাদেরকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে ১০০ টাকা মূল্যের তিনটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে সোহেল রানাকে গুরুতর আহত অবস্থায় তার পিতা মাতার হাতে তুলে দেয়।

এমতাবস্থায় আহত সোহেল রানাকে ২৯ অক্টোবর ২০২৫ রাত আনুমানিক সাড়ে এগারোটার দিকে চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার প্রস্তুতিকালে সোহেল রানা মৃত্যুবরণ করে।

পরবর্তীতে ৩০ অক্টোবর ২০২৫ সোহেল রানার পিতা বাদী হয়ে পেনাল কোডের ৩০২/৩৬৪/৩৮৭/৩৪ ধারায় মিঠাপুকুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নম্বর ৫৯। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক হওয়ায় এলাকায় ব্যাপকভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

থানায় মামলার প্রেক্ষিতে আসামী গ্রেফতারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে র‍্যাব।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৫ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় ঢাকার উত্তরা পূর্ব থানাধীন সেক্টর-৮, প্লট-৯/এ, উত্তরা বন বিথী কমপ্লেক্স এর সামনে র‍্যাব-১৩ সদর কোম্পানী রংপুর এবং র‌্যাব-১ সদর কোম্পানী উত্তরা ঢাকার একটি যৌথ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এজাহার ভুক্ত একজন আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামী রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানাধীন পূর্ব বড়বালা (ভোলার পাথর) গ্রামের মোজাম্মেল হক এর ছেলে মোনারুল ইসলাম (৩০)। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামীকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

র‍্যাবের অভিযানে ডাকাতি মামলার প্রধান পলাতক আসামী গ্রেফতার

র‌্যাবের অভিযানে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা মামলার পলাতক আসামী গ্রেফতার

Update Time : ০১:১৪:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রংপুরের মিঠাপুকুরে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা মামলার এজাহার ভুক্ত একজন আসামী র‌্যাবের যৌথ অভিযানে ঢাকার উত্তরা থেকে গ্রেফতার।                                                                                                                                 বাদীর দায়ের করা এজাহারের বরাত দিয়ে র‍্যাব-১৩’র অধিনায়কের পক্ষে সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জনৈক হাফিজুর রহমানের বাড়ি থেকে দেড়/দুই মাস আগে একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। সন্দেহবশত ওই চুরির ঘটনায়

জমি চাষ করা ট্রাক্টর-ট্রলি চালক সোহেলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় হাফিজুরের লোকজন। এজাহারে উল্লেখ করা হয় গত ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর সোহেল রানাকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়, মামলার এজাহারে উল্লেখিত ৩নং আসামী মোনারুল ইসলাম। এরপর অভিযুক্ত আসামীরা মোটরসাইকেল উদ্ধারের জন্য সোহেল রানাকে নিয়ে মিঠাপুকুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে ব্যর্থ হয়ে সোহেল রানাকে হাফিজুরের বাড়িতে আটকে রাখে। পরে মোটরসাইকেল চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য সোহেল রানাকে মারধোর ও ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয়।

এদিকে সোহেল রানা বাড়িতে ফিরে না আসায় তার পিতা-মাতা মোনারুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তখন মোনারুল সোহেলের পিতামাতার কাছে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। আসামীদের কথামতো তার পিতা-মাতা বালুয়া বাজারে গেলে আসামীরা তাদেরকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে ১০০ টাকা মূল্যের তিনটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে সোহেল রানাকে গুরুতর আহত অবস্থায় তার পিতা মাতার হাতে তুলে দেয়।

এমতাবস্থায় আহত সোহেল রানাকে ২৯ অক্টোবর ২০২৫ রাত আনুমানিক সাড়ে এগারোটার দিকে চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার প্রস্তুতিকালে সোহেল রানা মৃত্যুবরণ করে।

পরবর্তীতে ৩০ অক্টোবর ২০২৫ সোহেল রানার পিতা বাদী হয়ে পেনাল কোডের ৩০২/৩৬৪/৩৮৭/৩৪ ধারায় মিঠাপুকুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নম্বর ৫৯। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক হওয়ায় এলাকায় ব্যাপকভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

থানায় মামলার প্রেক্ষিতে আসামী গ্রেফতারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে র‍্যাব।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৫ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় ঢাকার উত্তরা পূর্ব থানাধীন সেক্টর-৮, প্লট-৯/এ, উত্তরা বন বিথী কমপ্লেক্স এর সামনে র‍্যাব-১৩ সদর কোম্পানী রংপুর এবং র‌্যাব-১ সদর কোম্পানী উত্তরা ঢাকার একটি যৌথ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এজাহার ভুক্ত একজন আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামী রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানাধীন পূর্ব বড়বালা (ভোলার পাথর) গ্রামের মোজাম্মেল হক এর ছেলে মোনারুল ইসলাম (৩০)। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামীকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।