১১:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিবাদের জেরে থমকে আছে শেষ বিদায়; খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে বৃদ্ধের নিথর দেহ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপের অপেক্ষা।

লাশ দাফন নিয়ে টানাপোড়েন: ২০ ঘণ্টা পেরিয়েও কবরস্থ হয়নি বৃদ্ধের মরদেহ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৪৫:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • ৩০৩৪ বার পঠিত হয়েছে

এইচ. এম নূরুন্নবী হুসাইন, স্টাফ রিপোর্টারঃ কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাছারী পায়ড়া ডাঙ্গা বাজার পশ্চিম এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধের মরদেহ প্রায় ২০ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও দাফন করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোঃ আজিজার রহমান ব্যাপারী (৭৫) গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ইন্তেকাল করেন। পরদিন ফজরের নামাজের পর মাইকিং করে সকাল ১১টায় জানাজার সময় নির্ধারণ করা হলেও নির্ধারিত সময়ে দাফন সম্পন্ন করা যায়নি।

মরহুম আজিজার রহমান দুই স্ত্রী, চার মেয়ে ও দুই ছেলের জনক। প্রথম স্ত্রীর ঘরে তিন মেয়ে ও এক ছেলে—মোঃ আব্দুর রহমান (৫০), ওরফে মনভোলা। দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সকল সন্তানই বিবাহিত।

অভিযোগ রয়েছে, জীবদ্দশায় অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে মোঃ টাইগার (৪২) চিকিৎসার অজুহাতে বাবার কাছ থেকে দলিলে স্বাক্ষর নিয়ে আবাদি জমি ও বাড়ির ২১ শতক ভিটা নিজের নামে লিখে নেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে অন্যান্য ভাইবোন আপত্তি জানান এবং কয়েক দফা বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।

বৃদ্ধের মৃত্যুর পর দাফন নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। প্রথম পক্ষের সন্তানরা লাশ দাফনে বাধা দেন। বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। একপর্যায়ে জমির বিরোধ নিষ্পত্তির আশ্বাসে দাফনের অনুমতি মিললেও হঠাৎ মোঃ টাইগার অসুস্থ হয়ে পড়েন।

বর্তমানে তিনি নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত দাফন কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, “আমার ৬০ বছরের জীবনে এলাকায় এমন দুঃখজনক ঘটনা কখনও দেখিনি।”

এ ঘটনায় এলাকায় চরম হতাশা বিরাজ করছে। সকাল থেকেই শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন এবং দ্রুত দাফনের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ডিজিটাল যুগে অনলাইন গণমাধ্যমের ভূমিকা: সম্ভাবনা, সংকট ও দায়বদ্ধতার নতুন দিগন্ত

বিবাদের জেরে থমকে আছে শেষ বিদায়; খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে বৃদ্ধের নিথর দেহ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপের অপেক্ষা।

লাশ দাফন নিয়ে টানাপোড়েন: ২০ ঘণ্টা পেরিয়েও কবরস্থ হয়নি বৃদ্ধের মরদেহ

Update Time : ০৫:৪৫:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এইচ. এম নূরুন্নবী হুসাইন, স্টাফ রিপোর্টারঃ কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাছারী পায়ড়া ডাঙ্গা বাজার পশ্চিম এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধের মরদেহ প্রায় ২০ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও দাফন করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোঃ আজিজার রহমান ব্যাপারী (৭৫) গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ইন্তেকাল করেন। পরদিন ফজরের নামাজের পর মাইকিং করে সকাল ১১টায় জানাজার সময় নির্ধারণ করা হলেও নির্ধারিত সময়ে দাফন সম্পন্ন করা যায়নি।

মরহুম আজিজার রহমান দুই স্ত্রী, চার মেয়ে ও দুই ছেলের জনক। প্রথম স্ত্রীর ঘরে তিন মেয়ে ও এক ছেলে—মোঃ আব্দুর রহমান (৫০), ওরফে মনভোলা। দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সকল সন্তানই বিবাহিত।

অভিযোগ রয়েছে, জীবদ্দশায় অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে মোঃ টাইগার (৪২) চিকিৎসার অজুহাতে বাবার কাছ থেকে দলিলে স্বাক্ষর নিয়ে আবাদি জমি ও বাড়ির ২১ শতক ভিটা নিজের নামে লিখে নেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে অন্যান্য ভাইবোন আপত্তি জানান এবং কয়েক দফা বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।

বৃদ্ধের মৃত্যুর পর দাফন নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। প্রথম পক্ষের সন্তানরা লাশ দাফনে বাধা দেন। বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। একপর্যায়ে জমির বিরোধ নিষ্পত্তির আশ্বাসে দাফনের অনুমতি মিললেও হঠাৎ মোঃ টাইগার অসুস্থ হয়ে পড়েন।

বর্তমানে তিনি নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত দাফন কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, “আমার ৬০ বছরের জীবনে এলাকায় এমন দুঃখজনক ঘটনা কখনও দেখিনি।”

এ ঘটনায় এলাকায় চরম হতাশা বিরাজ করছে। সকাল থেকেই শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন এবং দ্রুত দাফনের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।