
মোঃ শাহজাহান বাশার
গুলিবিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা ওসমান হাদীর ঘটনার দিনেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখার সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লা-হিল-গালিবের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি এই হুমকি দেন বলে জানা গেছে। ওই পোস্টে সরাসরি সালাহউদ্দিন আম্মারকে লক্ষ্য করে ভয়ংকর ও উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার করা হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
ফেসবুক পোস্টে আসাদুল্লা-হিল-গালিব লেখেন,
“দয়া করে আমার ক্যাম্পাসের টাকে কেউ কিছু করবেন না। অনুরোধ রইলো। ওইটা শুধু আমার আর আমার ভাই মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর ভাগ।”
পরে তিনি সালাহউদ্দিন আম্মারকে উদ্দেশ্য করে আরও লেখেন,
“ছোটভাই, প্রটেকশন বাড়াও। ৮০ সিসি বাইক নিয়ে একা একা ঘুরাঘুরি করো না। তোমার আব্বা সাদিক কায়েম হেলিকপ্টারে যাতায়াত করে, তুমি অন্তত প্লেনে ঢাকা যাওয়া শুরু করো। তা না হলে যমুনার আগে বা পরে একটা কিছু হলেও হতে পারে। আমি চাই তুমি বেঁচে থাকো—অনেক হিসাব আছে।”
এই পোস্টে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়ে মন্তব্য করেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাবি শাখার সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুসহ আরও কয়েকজন। মোস্তাফিজুর রহমান বাবু মন্তব্যে লেখেন,
“আল্লাহর কাছে দোয়া করো যেন ওকে বাঁচিয়ে রাখে।”
একজন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রনেতাকে লক্ষ্য করে এ ধরনের প্রকাশ্য হত্যার হুমকি ও তাতে সমর্থন জানানোকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেকেই বিষয়টিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য মারাত্মক হুমকি বলে মন্তব্য করছেন।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন,
“আমি পোস্টটি নিজে দেখিনি, তবে একজন আমাকে বিষয়টি জানিয়েছে। আওয়ামী লীগ–ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেজ থেকে মাঝেমধ্যেই এ ধরনের পোস্ট আসে, যেখানে বলা হয়—নেক্সট টার্গেট আমি। এগুলোকে আমি খুব একটা গুরুত্ব দিই না।”
তিনি আরও বলেন,
“আল্লাহ যে জীবন দিয়েছেন, আল্লাহই তা নিয়ে যাবেন। এজন্য ঘর থেকে বের হবো না বা আলাদা করে প্রোটোকল বাড়াবো—এমন চিন্তা আমার নেই। এসব হুমকিতে আমি ন্যূনতম ভীত বা সন্ত্রস্ত নই।”
এদিকে সচেতন মহল মনে করছেন, প্রকাশ্য সামাজিক মাধ্যমে হত্যার হুমকি দেওয়ার বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সহিংসতা ও অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।





















