১১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাসের অবৈধ সংযোগ উচ্ছেদে তিতাসের সাঁড়াশি অভিযান: তিন জেলায় একযোগে অভিযান, জরিমানা ও মামলা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:১১:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫
  • ৩০২৬ বার পঠিত হয়েছে

 

মোঃ শাহজাহান বাশার
স্টাফ রিপোর্টার ২১ জুলাই ২০২৫, সোমবার

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি সারাদেশে অবৈধ গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে চলেছে। এই ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে গতকাল রবিবার (২০ জুলাই ২০২৫) ঢাকা, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জে পরিচালিত একাধিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, আরোপ করা হয়েছে অর্থদণ্ড এবং দায়ের করা হয়েছে মামলা।

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার চর বাউশিয়া ফরাজিকান্দি (পাখির মোড়, ইঞ্জিনিয়ারিং স্টাফ কলেজের বিপরীতে), চর বাউশিয়া পশ্চিমকান্দি (দাউদকান্দি ফিলিং স্টেশনের বিপরীতে) ও ভাটেরচর নতুন রাস্তায় তিতাস গ্যাসের জোবিঅ-মেঘনাঘাটের আওতায় অভিযান পরিচালিত হয়। এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর ফারুক।

অভিযানকালে তিনটি চুন কারখানা, যাতে মোট ১২টি চুল্লি রয়েছে, অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করছিল। কারখানাগুলোতে ব্যবহৃত ২০টি এয়ার মিক্স বার্নার ও ৪০০ ফুট হোজ পাইপ উৎসস্থলে কেটে বিনষ্ট করা হয়। এতে প্রায় ৩,৯১,৪৫০ টাকা মূল্যের মাসিক গ্যাস চুরি রোধ করা সম্ভব হয়েছে। অভিযানে কারখানার মালিক বা পরিচালকগণ উপস্থিত না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে দণ্ড দেওয়া সম্ভব হয়নি, তবে তাদের বিরুদ্ধে গজারিয়া থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

একই দিন, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন রায়ের নেতৃত্বে তিতাস গ্যাসের টঙ্গী জোবিঅ-আবিবি জয়দেবপুর আওতায় টঙ্গীর দত্তপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়।

৩০টি আবাসিক গ্রাহকের আঙ্গিনা পরিদর্শনের মাধ্যমে ২টি বাড়িতে অবৈধভাবে বুস্টার ব্যবহারের বিষয়টি শনাক্ত করা হয়। একটি গ্রাহকের অতিরিক্ত অনুমোদনবহির্ভূত চুলা ব্যবহারের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। অভিযানে ওই ২ গ্রাহকের কাছ থেকে মোট ২৫,০০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈকত রায়হানের নেতৃত্বে ঢাকার নন্দীপাড়া, খিলগাঁও এলাকায় তিতাস গ্যাসের মেট্রো ঢাকা বিক্রয় বিভাগ-৩ এর আওতায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে ১০৩টি অবৈধ ডাবল চুলার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। একইসঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মোট ৮০,০০০ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে।

এছাড়া, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও গাজীপুরের সাভার এলাকায় অবস্থিত মেসার্স সান টেক্স ডাইং এবং মেসার্স ডার্ড কম্পোজিট কারখানায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে স্থাপিত গ্যাসের বাইপাস লাইন শনাক্ত করে তা কেটে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ২০ জুলাই পর্যন্ত সারাদেশব্যাপী পরিচালিত অভিযানে ২৮০টি শিল্প, ২৯০টি বাণিজ্যিক ও ৪৯,৫১১টি আবাসিক সংযোগসহ মোট ৫০,০৮১টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এসময় ১,০৬,৮১৪টি অবৈধ বার্নার জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে এবং ১৯৮ কিলোমিটার গ্যাস পাইপলাইন অপসারণ করা হয়েছে।

তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপক (মিডিয়া ও জনসংযোগ) মো. আল আমিন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারী এবং সংযোগদাতাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরণের অভিযান আরও জোরালোভাবে চলবে বলেও জানান তিনি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ডিজিটাল যুগে অনলাইন গণমাধ্যমের ভূমিকা: সম্ভাবনা, সংকট ও দায়বদ্ধতার নতুন দিগন্ত

গ্যাসের অবৈধ সংযোগ উচ্ছেদে তিতাসের সাঁড়াশি অভিযান: তিন জেলায় একযোগে অভিযান, জরিমানা ও মামলা

Update Time : ১০:১১:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫

 

মোঃ শাহজাহান বাশার
স্টাফ রিপোর্টার ২১ জুলাই ২০২৫, সোমবার

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি সারাদেশে অবৈধ গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে চলেছে। এই ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে গতকাল রবিবার (২০ জুলাই ২০২৫) ঢাকা, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জে পরিচালিত একাধিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, আরোপ করা হয়েছে অর্থদণ্ড এবং দায়ের করা হয়েছে মামলা।

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার চর বাউশিয়া ফরাজিকান্দি (পাখির মোড়, ইঞ্জিনিয়ারিং স্টাফ কলেজের বিপরীতে), চর বাউশিয়া পশ্চিমকান্দি (দাউদকান্দি ফিলিং স্টেশনের বিপরীতে) ও ভাটেরচর নতুন রাস্তায় তিতাস গ্যাসের জোবিঅ-মেঘনাঘাটের আওতায় অভিযান পরিচালিত হয়। এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর ফারুক।

অভিযানকালে তিনটি চুন কারখানা, যাতে মোট ১২টি চুল্লি রয়েছে, অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করছিল। কারখানাগুলোতে ব্যবহৃত ২০টি এয়ার মিক্স বার্নার ও ৪০০ ফুট হোজ পাইপ উৎসস্থলে কেটে বিনষ্ট করা হয়। এতে প্রায় ৩,৯১,৪৫০ টাকা মূল্যের মাসিক গ্যাস চুরি রোধ করা সম্ভব হয়েছে। অভিযানে কারখানার মালিক বা পরিচালকগণ উপস্থিত না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে দণ্ড দেওয়া সম্ভব হয়নি, তবে তাদের বিরুদ্ধে গজারিয়া থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

একই দিন, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন রায়ের নেতৃত্বে তিতাস গ্যাসের টঙ্গী জোবিঅ-আবিবি জয়দেবপুর আওতায় টঙ্গীর দত্তপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়।

৩০টি আবাসিক গ্রাহকের আঙ্গিনা পরিদর্শনের মাধ্যমে ২টি বাড়িতে অবৈধভাবে বুস্টার ব্যবহারের বিষয়টি শনাক্ত করা হয়। একটি গ্রাহকের অতিরিক্ত অনুমোদনবহির্ভূত চুলা ব্যবহারের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। অভিযানে ওই ২ গ্রাহকের কাছ থেকে মোট ২৫,০০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈকত রায়হানের নেতৃত্বে ঢাকার নন্দীপাড়া, খিলগাঁও এলাকায় তিতাস গ্যাসের মেট্রো ঢাকা বিক্রয় বিভাগ-৩ এর আওতায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে ১০৩টি অবৈধ ডাবল চুলার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। একইসঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মোট ৮০,০০০ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে।

এছাড়া, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও গাজীপুরের সাভার এলাকায় অবস্থিত মেসার্স সান টেক্স ডাইং এবং মেসার্স ডার্ড কম্পোজিট কারখানায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে স্থাপিত গ্যাসের বাইপাস লাইন শনাক্ত করে তা কেটে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ২০ জুলাই পর্যন্ত সারাদেশব্যাপী পরিচালিত অভিযানে ২৮০টি শিল্প, ২৯০টি বাণিজ্যিক ও ৪৯,৫১১টি আবাসিক সংযোগসহ মোট ৫০,০৮১টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এসময় ১,০৬,৮১৪টি অবৈধ বার্নার জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে এবং ১৯৮ কিলোমিটার গ্যাস পাইপলাইন অপসারণ করা হয়েছে।

তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপক (মিডিয়া ও জনসংযোগ) মো. আল আমিন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারী এবং সংযোগদাতাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরণের অভিযান আরও জোরালোভাবে চলবে বলেও জানান তিনি।