
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি মতামত আলোচনায় এসেছে যেখানে বলা হয়েছে, বর্তমানে পুলিশ অনেকটাই নিরপেক্ষ বা নিষ্ক্রিয় অবস্থানে রয়েছে। মতদাতার ভাষ্য, অতীতের তুলনায় পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা কমে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। তাঁর মতে, অপরাধ দমনে আরও দৃঢ় ও কার্যকর ভূমিকা নিলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
তবে একই বক্তব্যে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, তথাকথিত ক্রসফায়ার এবং সাদা পোশাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার মতো পদ্ধতি পুনরায় চালুর আহ্বানও জানানো হয়েছে। এখানেই বিতর্কের সূত্রপাত। কারণ অপরাধ দমন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলেও তা অবশ্যই সংবিধান, প্রচলিত আইন এবং মানবাধিকার নীতিমালার মধ্যে থেকেই পরিচালিত হওয়া উচিত।
একটি রাষ্ট্রে পুলিশ বাহিনীর কার্যকারিতা যেমন অপরিহার্য, তেমনি জবাবদিহিতা ও আইনের শাসনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা, নিরপেক্ষ তদন্ত, দক্ষ প্রসিকিউশন এবং আদালতের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করাই টেকসই সমাধান। অন্যদিকে বিচারবহির্ভূত কোনো ব্যবস্থা স্বল্পমেয়াদে কার্যকর মনে হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে আইনের শাসন, জনআস্থা এবং মানবাধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
বর্তমান বাস্তবতায় অনেক নাগরিক কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জানাচ্ছেন, আবার অনেকে মানবাধিকার ও আইনি প্রক্রিয়া অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন। এই দুই অবস্থানের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
সবশেষে বলা যায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য পুলিশের দক্ষতা, নিরপেক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও কার্যকর উপস্থিতি যেমন জরুরি, তেমনি প্রতিটি পদক্ষেপ আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল হওয়াও সমানভাবে অপরিহার্য।























