০৭:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুরে মোট্রোঃ ডিবি’র পতিতাবৃত্তি প্রতিরোধ অভিযানে ৪ নারীসহ গ্রেফতার-১৩

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৩৩:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩০০০ বার পঠিত হয়েছে

রংপুর ব্যুরোঃ

আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ (পতিতাবৃত্তি) প্রতিরোধে অভিযান চালিয়ে ১৩ জন অভিযুক্ত নারী-পুরুষকে গ্রেফতার করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল দুপুরে) রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর শাপলা চত্বর এলাকার ড্রিমল্যান্ড আবাসিক হোটেলে ঝটিকা অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ।

এ সময় অসামাজিক কার্যকলাপের (পতিতাবৃত্তি) সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ জন খরিদ্দার এবং ৪ জন পতিতা নারীসহ ১৩ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

রংপুর মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাত আনুমানিক সোয়া নয়টার দিকে এসআই আবু সাঈদ বাবলা এবং এসআই মমিনুল ইসলামর নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি দল রংপুর কোতয়ালী থানাধীন শাপলা চত্বর এলাকার ড্রিমল্যান্ড আবাসিক হোটেলে অভিযান চালায়।

এ সময় কয়েকজন দালাল এবং খরিদ্দার ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে গেলেও হোটেল কর্তৃপক্ষের লোক পরিচয়ে নারী ও খরিদ্দার সংগ্রহের মুল হোতাসহ মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসা বাদে জানা গেছে, ধৃত নারীরা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে রংপুরে এসে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে দেহ ব্যবসা করে আসছে।

রংপুরের ড্রিমল্যান্ড আবাসিক এই হোটেলে এদেরকে খরিদ্দার সংগ্রহ করে দেয় ওই হোটেলের সেকেন্দার নামের একজন কর্মচারী। তাকেও গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ থানার অন্তর্ভুক্ত রনচন্ডি মাঝাপাড়া গ্রামের মৃত জয়নাল হোসেন ও মোছাঃ মল্লিকা বেগমের ছেলে রংপুরের ড্রিমল্যান্ড আবাসিক হোটেলের খরিদ্দার সংগ্রহকারী সেকেন্দার আলী (৩৫), একই থানার অন্তর্ভুক্ত উত্তর ভেড়ভেড়ী গ্রামের বিপ্লব রায় চৌধুরী ও ফুলমতি রায় চৌধুরীর ছেলে আকাশ চৌধুরী (২৫), একই থানাধীন রনচন্ডি গ্রামের
লৈক্ষ চন্দ্র ও কানন বালার ছেলে সম্পদ চন্দ্র (২৩), পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ থানাধীন সোনাহার গ্রামের
মনি চন্দ্রের ছেলে অরন্য রায় (২৫), রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া থানাধীন জমচওড়া (বড় রুপাই) গ্রামের সফিকুল ইসলাম ও মোছাঃ নাজমা বেগমের ছেলে নজির হোসেন (২৫), একই থানাধীন মৌভাষা তালেব টারি গ্রামের মৃত রেজাউল করিম বাবু ও মোছাঃ মোসলেমা বেগমের ছেলে
মৃদুল মিয়া (২৩), একই থানাধীন ছোটরুপাই মৌভাষা গ্রামের মৃত নিবারন চন্দ্র ও লিপিকা রাণীর ছেলে চয়ন কুমার শিল (২২),নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানার অন্তর্ভুক্ত সেখেরহাট গ্রামের মৃত বদরুদ্দিন আহম্মেদ ও আসমা বেগমের ছেলে মিনহাজুল ইসলাম তাফিম (২৬),
নরসিংদী জেলার পলাশ থানাধীন পূর্ব পলাশ গ্রামের আলতাফ হোসাইন ও মিনারা বেগমের ছেলে তামিম হোসাইন (২৯)।

পতিতা-দের মধ্যে রয়েছে দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর থানাধীন হিলি খাট্টা ওসনা গ্রামের মাহমুদুল ইসলাম ও মোছাঃ বিউটি আরা বেগমের মেয়ে মোছাঃ মৌসুমী আক্তার @ মুক্তা (২২), খুলনা জেলার রুপসা থানার অন্তর্ভুক্ত বর্তমান ঠিকানা কেরানীগঞ্জ রুপসা বাগমারা গ্রামের কুদ্দুস গাজীর মেয়ে ফারজানা খাতুন (১৯), বগুড়া জেলার শাজাহানপুর থানাধীন সাজাপুর উত্তরপাড়া গ্রামের আব্দুল রাজ্জাক ও মোছাঃ জয়নাব বেগমের মেয়ে মোছাঃ রোকসানা (২৮) এবং নীলফামারী জেলার সদর থানাধীন
টুপামারী ইউনিয়নের সুখধন গ্রামের সুরত আলী শাহ্ ও রোজিনা বেগম এর মেয়ে স্মৃতি আক্তার (২৩)।

ডিসি ডিবি সনাতন চক্রবর্তী বলেন, রংপুর মহানগরীতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।আবাসিক হোটেল, মোটেল কোথাও অনৈতিক কার্যকলাপ করলে তাকেই আইনের আওতায় আনা হবে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

রংপুরে মোট্রোঃ ডিবি’র পতিতাবৃত্তি প্রতিরোধ অভিযানে ৪ নারীসহ গ্রেফতার-১৩

রংপুরে মোট্রোঃ ডিবি’র পতিতাবৃত্তি প্রতিরোধ অভিযানে ৪ নারীসহ গ্রেফতার-১৩

Update Time : ০৭:৩৩:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

রংপুর ব্যুরোঃ

আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ (পতিতাবৃত্তি) প্রতিরোধে অভিযান চালিয়ে ১৩ জন অভিযুক্ত নারী-পুরুষকে গ্রেফতার করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল দুপুরে) রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর শাপলা চত্বর এলাকার ড্রিমল্যান্ড আবাসিক হোটেলে ঝটিকা অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ।

এ সময় অসামাজিক কার্যকলাপের (পতিতাবৃত্তি) সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ জন খরিদ্দার এবং ৪ জন পতিতা নারীসহ ১৩ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

রংপুর মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাত আনুমানিক সোয়া নয়টার দিকে এসআই আবু সাঈদ বাবলা এবং এসআই মমিনুল ইসলামর নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি দল রংপুর কোতয়ালী থানাধীন শাপলা চত্বর এলাকার ড্রিমল্যান্ড আবাসিক হোটেলে অভিযান চালায়।

এ সময় কয়েকজন দালাল এবং খরিদ্দার ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে গেলেও হোটেল কর্তৃপক্ষের লোক পরিচয়ে নারী ও খরিদ্দার সংগ্রহের মুল হোতাসহ মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসা বাদে জানা গেছে, ধৃত নারীরা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে রংপুরে এসে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে দেহ ব্যবসা করে আসছে।

রংপুরের ড্রিমল্যান্ড আবাসিক এই হোটেলে এদেরকে খরিদ্দার সংগ্রহ করে দেয় ওই হোটেলের সেকেন্দার নামের একজন কর্মচারী। তাকেও গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ থানার অন্তর্ভুক্ত রনচন্ডি মাঝাপাড়া গ্রামের মৃত জয়নাল হোসেন ও মোছাঃ মল্লিকা বেগমের ছেলে রংপুরের ড্রিমল্যান্ড আবাসিক হোটেলের খরিদ্দার সংগ্রহকারী সেকেন্দার আলী (৩৫), একই থানার অন্তর্ভুক্ত উত্তর ভেড়ভেড়ী গ্রামের বিপ্লব রায় চৌধুরী ও ফুলমতি রায় চৌধুরীর ছেলে আকাশ চৌধুরী (২৫), একই থানাধীন রনচন্ডি গ্রামের
লৈক্ষ চন্দ্র ও কানন বালার ছেলে সম্পদ চন্দ্র (২৩), পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ থানাধীন সোনাহার গ্রামের
মনি চন্দ্রের ছেলে অরন্য রায় (২৫), রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া থানাধীন জমচওড়া (বড় রুপাই) গ্রামের সফিকুল ইসলাম ও মোছাঃ নাজমা বেগমের ছেলে নজির হোসেন (২৫), একই থানাধীন মৌভাষা তালেব টারি গ্রামের মৃত রেজাউল করিম বাবু ও মোছাঃ মোসলেমা বেগমের ছেলে
মৃদুল মিয়া (২৩), একই থানাধীন ছোটরুপাই মৌভাষা গ্রামের মৃত নিবারন চন্দ্র ও লিপিকা রাণীর ছেলে চয়ন কুমার শিল (২২),নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানার অন্তর্ভুক্ত সেখেরহাট গ্রামের মৃত বদরুদ্দিন আহম্মেদ ও আসমা বেগমের ছেলে মিনহাজুল ইসলাম তাফিম (২৬),
নরসিংদী জেলার পলাশ থানাধীন পূর্ব পলাশ গ্রামের আলতাফ হোসাইন ও মিনারা বেগমের ছেলে তামিম হোসাইন (২৯)।

পতিতা-দের মধ্যে রয়েছে দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর থানাধীন হিলি খাট্টা ওসনা গ্রামের মাহমুদুল ইসলাম ও মোছাঃ বিউটি আরা বেগমের মেয়ে মোছাঃ মৌসুমী আক্তার @ মুক্তা (২২), খুলনা জেলার রুপসা থানার অন্তর্ভুক্ত বর্তমান ঠিকানা কেরানীগঞ্জ রুপসা বাগমারা গ্রামের কুদ্দুস গাজীর মেয়ে ফারজানা খাতুন (১৯), বগুড়া জেলার শাজাহানপুর থানাধীন সাজাপুর উত্তরপাড়া গ্রামের আব্দুল রাজ্জাক ও মোছাঃ জয়নাব বেগমের মেয়ে মোছাঃ রোকসানা (২৮) এবং নীলফামারী জেলার সদর থানাধীন
টুপামারী ইউনিয়নের সুখধন গ্রামের সুরত আলী শাহ্ ও রোজিনা বেগম এর মেয়ে স্মৃতি আক্তার (২৩)।

ডিসি ডিবি সনাতন চক্রবর্তী বলেন, রংপুর মহানগরীতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।আবাসিক হোটেল, মোটেল কোথাও অনৈতিক কার্যকলাপ করলে তাকেই আইনের আওতায় আনা হবে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।