
আবুল হোসেন বাবলুঃ
রংপুরের তারাগঞ্জে চাচা শ্বশুর এবং ভাতিজী জামাইকে গণপিটুনিতে খুন করার অভিযোগে দায়ের করা হত্যা মামলার আসামীকে যৌথ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
বাদীর দায়েরকৃত এজাহারের বরাত দিয়ে র্যাব-১৩’র অধিনায়কের পক্ষে সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভিকটিম রুপলাল @ রবিদাস (৪০) বাদীনির স্বামী এবং প্রদীপ লাল (৪৫) সম্পর্কে ভাতিজী জামাই। ঘটনার দিন গত ০৯ আগস্ট রাতে ভ্যান নিয়ে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানাধীন গোপালপুর ছরান বালুয়া গ্রাম থেকে বাদীনির বাড়িতে আসার পথে রাত সাড়ে আটটার দিকে রংপুরের তারাগঞ্জ থানাধীন ০৫ নং সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলা মোড়ে পৌঁছালে এলাকার কিছু মানুষ চোর সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশী করে ব্যাগের ভিতরে থাকা বোতলে দুর্গন্ধযুক্ত পানীয় পাওয়া যায়। সেই পানির গন্ধ উপলব্ধি করতে গিয়ে কয়েকজন তাৎক্ষনিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা ভিকটিমদ্বয়কে বুড়িরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে গিয়ে লাঠি-সোটা ও লোহার রড দ্বারা গণপিটুনী দিলে ভিকটিমদ্বয় গুরুতর জখমপ্রাপ্ত হয়।
ভিকটিমদের অবস্থা আশংকাজনক দেখে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাদেরকে তারাগঞ্জ উপজেলা স্থাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভিকটিম রুপলালকে মৃত বলে ঘোষনা করেন এবং ভিকটিম প্রদীপ লালকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করলে ভিকটিম প্রদীপ লাল পরেরদিন ১০ আগস্ট ভোর ০৪ টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
এ ঘটনায় নিহত রুপলালের স্ত্রী বাদী হয়ে রংপুর জেলার তারাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ০৪/৯৪, তাং- ১০/০৮/২০২৫, ধারা -৩০২/৩৪ পেনাল কোড-১৮৬০।ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক লোমহর্ষক হওয়ায় বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
অপরদিকে আসামীদের গ্রেফতারে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১৩ সদর কোম্পানী রংপুর ক্যাম্প ও র্যাব-১০ সদর কোম্পানী কেরাণীগঞ্জ ক্যাম্পের একটি যৌথ আভিযানিক দল ২৪ জানুয়ারী বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএমপি ঢাকা শাহবাগ থানাধীন শাহবাগ শহীদ ওসমান হাদী চত্ত্বরের সামনে অভিযান চালিয়ে জোড়া হত্যা মামলার পলাতক প্রধান আসামীকে
গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃ আসামী রংপুর জেলার তারাগঞ্জ থানাধীন ফরিদাবাদ গ্রামের ইছাহাক আলীর ছেলে মেহেদী হাসান (৩০)। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ধৃত আসামীকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।



















