০৭:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় ডাকাতি: অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে লুট, দেশি অস্ত্রসহ এক ডাকাত আটক

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:০০:৪৪ পূর্বাহ্ন, রোববার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
  • ৩০৫৬ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ মিনারুল ইসলাম
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি

আজ শনিবার (২২ নভেম্বর) ভোরে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দর্শনা থানাধীন দর্শনা–উজলপুর সড়কে একদল সশস্ত্র ডাকাত ভ্যানযাত্রীদের ওপর হামলা চালিয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোন লুট করেছে।

তবে সাহসী এলাকাবাসীর তৎপরতায় গণধোলাইয়ের পর একটি দেশি অস্ত্রসহ ডাকাত দলের এক সদস্যকে হাতেনাতে আটক করা সম্ভব হয়েছে।শনিবার ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। দর্শনা–উজলপুর সড়কটি যখন দিনের আলো ফোটার অপেক্ষায়, ঠিক সেই সময় একদল সশস্ত্র ডাকাত সড়কের একটি অংশে ওঁত পেতে থাকে।

এ সময় বেশ কয়েকটি ভ্যানযোগে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রীদের পথরোধ করে তারা।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ডাকাতরা যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে এবং তাদের কাছ থেকে নগদ অর্থ, মূল্যবান স্বর্ণের গয়না এবং বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোন সেট জোরপূর্বক কেড়ে নেয়। আকস্মিক এই হামলার মুখে যাত্রীরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন।

ডাকাতির শিকার ভ্যানযাত্রীদের তীব্র চিৎকার ও আর্তনাদ শুনে আশপাশের এলাকার মানুষজন দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে আসেন। এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রতিরোধ দেখে ডাকাত দলের অন্য সদস্যরা লুটের মালপত্র নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

তবে, পালানোর সময় ডাকাত দলের সদস্য রাজু (২৮)-কে একটি দেশি অস্ত্রের সঙ্গে হাতেনাতে ধরে ফেলেন স্থানীয়রা। আটক রাজু সদর উপজেলার বেলগাছি গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে বলে জানা গেছে।

এলাকাবাসী তাৎক্ষণিকভাবে রাজুর কাছ থেকে লুটের কিছু নগদ টাকা ও কয়েকটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করতে সক্ষম হন। উত্তেজিত জনতা ডাকাতির প্রতিবাদে তাকে গণধোলাই দেয়।

এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দর্শনা থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।খবর পেয়ে দর্শনা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ গিয়ে এলাকাবাসীর হাত থেকে গণধোলাইয়ের শিকার ডাকাত সদস্য রাজুকে উদ্ধার করে এবং তাকে থানায় নিয়ে আসে।

এ বিষয়ে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) সুলতান মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, আটক রাজু একজন পেশাদার চোর ও অপরাধী।তিনি নিশ্চিত করেন, রাজুর বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
ওসি তদন্ত আরও জানান, এই ডাকাতি এবং অস্ত্রসহ আটকের ঘটনায় রাজুর বিরুদ্ধে দর্শনা থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

পলাতক অন্যান্য ডাকাত সদস্যদের চিহ্নিত করে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

আরপিএমপি’র অভিযানে ইয়াবা ও হেরোইনসহ গ্রেফতার-২

চুয়াডাঙ্গায় ডাকাতি: অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে লুট, দেশি অস্ত্রসহ এক ডাকাত আটক

Update Time : ১০:০০:৪৪ পূর্বাহ্ন, রোববার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

মোঃ মিনারুল ইসলাম
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি

আজ শনিবার (২২ নভেম্বর) ভোরে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দর্শনা থানাধীন দর্শনা–উজলপুর সড়কে একদল সশস্ত্র ডাকাত ভ্যানযাত্রীদের ওপর হামলা চালিয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোন লুট করেছে।

তবে সাহসী এলাকাবাসীর তৎপরতায় গণধোলাইয়ের পর একটি দেশি অস্ত্রসহ ডাকাত দলের এক সদস্যকে হাতেনাতে আটক করা সম্ভব হয়েছে।শনিবার ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। দর্শনা–উজলপুর সড়কটি যখন দিনের আলো ফোটার অপেক্ষায়, ঠিক সেই সময় একদল সশস্ত্র ডাকাত সড়কের একটি অংশে ওঁত পেতে থাকে।

এ সময় বেশ কয়েকটি ভ্যানযোগে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রীদের পথরোধ করে তারা।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ডাকাতরা যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে এবং তাদের কাছ থেকে নগদ অর্থ, মূল্যবান স্বর্ণের গয়না এবং বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোন সেট জোরপূর্বক কেড়ে নেয়। আকস্মিক এই হামলার মুখে যাত্রীরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন।

ডাকাতির শিকার ভ্যানযাত্রীদের তীব্র চিৎকার ও আর্তনাদ শুনে আশপাশের এলাকার মানুষজন দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে আসেন। এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রতিরোধ দেখে ডাকাত দলের অন্য সদস্যরা লুটের মালপত্র নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

তবে, পালানোর সময় ডাকাত দলের সদস্য রাজু (২৮)-কে একটি দেশি অস্ত্রের সঙ্গে হাতেনাতে ধরে ফেলেন স্থানীয়রা। আটক রাজু সদর উপজেলার বেলগাছি গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে বলে জানা গেছে।

এলাকাবাসী তাৎক্ষণিকভাবে রাজুর কাছ থেকে লুটের কিছু নগদ টাকা ও কয়েকটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করতে সক্ষম হন। উত্তেজিত জনতা ডাকাতির প্রতিবাদে তাকে গণধোলাই দেয়।

এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দর্শনা থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।খবর পেয়ে দর্শনা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ গিয়ে এলাকাবাসীর হাত থেকে গণধোলাইয়ের শিকার ডাকাত সদস্য রাজুকে উদ্ধার করে এবং তাকে থানায় নিয়ে আসে।

এ বিষয়ে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) সুলতান মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, আটক রাজু একজন পেশাদার চোর ও অপরাধী।তিনি নিশ্চিত করেন, রাজুর বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
ওসি তদন্ত আরও জানান, এই ডাকাতি এবং অস্ত্রসহ আটকের ঘটনায় রাজুর বিরুদ্ধে দর্শনা থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

পলাতক অন্যান্য ডাকাত সদস্যদের চিহ্নিত করে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।