০৮:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে কঠোরতা: টুঙ্গিপাড়ায় ঘরে ঘরে থাকা দেশীয় অ’স্ত্র (ঢাল-সুরকি) জমা দিতে পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশ, গ্রাম্য সং’ঘাত বন্ধের উদ্যোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:১৭:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩০৭২ বার পঠিত হয়েছে

বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকার, জেলা প্রতিনিধি গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা

ও দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত গ্রাম্য মারামারি প্রবনতা বন্ধে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেশীয় অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।তবে এ নির্দেশ প্রদান করা হলেও তেমন কার্যকর হয়নি বলে জানা যায়।

ইতোমধ্যে টুঙ্গিপাড়া থানার উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে নিজেদের কাছে থাকা সব ধরনের দেশীয় অস্ত্র—যেমন ঢাল, সরকি, বল্লম, দা, রামদা ইত্যাদী—ইউনিয়ন পরিষদে জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এই নির্দেশ অমান্য করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে যারা স্বেচ্ছায় অস্ত্র জমা দেবেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

টুঙ্গিপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি থানায় যোগদানের পর দেখেছি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামে গ্রামে মারামারি হয়—শ্রীড়ামকান্দি, গিমাডাঙ্গা, পাটগাতি ও গওহরডাঙ্গা গ্রামে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে। ৯ বছরের শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত লাঠিসোটা ও ঢাল-সরকি নিয়ে নেমে পড়ে। এটা দুঃখজনক। একটি ছোট তর্ক বা ভুল বোঝাবুঝির কারণে মানুষ আহত হয়, কখনও মৃত্যুও ঘটে। অথচ দেশে আইন ও আদালত আছে, তারপরও তারা নিজেদের হাতে আইন তুলে নিচ্ছে—এ যেন এক ধরনের সামাজিক কালচার হয়ে গেছে।”

তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের আচরণ সভ্য সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা চাই এই দীর্ঘদিনের গ্রাম্য মারামারি প্রবনতা থেকে সবাই বেরিয়ে আসুক। আমি আইনশৃঙ্খলা সভায় এই বিষয়টি তুলেছি এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে গিয়ে মতবিনিময় করছি—মারামারি করে কোনই লাভ
হয় না, শুধু অনুতাপ আর ক্ষতি।”

সম্প্রতি টুঙ্গিপাড়ার শ্রীড়ামকান্দি, পাটগাতি ও গওহরডাঙ্গা এলাকায় ডাব
কেনা বেচা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষে ৩৫ জন আহত হন। এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে পুলিশ এই বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে।

টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য কাউকে দমন করা নয়; বরং জনগণকে সচেতন করে সহনশীল সমাজ গড়ে তোলা। সবাই যদি আইন মেনে চলে, টুঙ্গিপাড়ায় স্থায়ী শান্তি ফিরে আসবে।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারজানা আক্তার বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এটি অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা পুলিশের সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

রংপুরে মোট্রোঃ ডিবি’র পতিতাবৃত্তি প্রতিরোধ অভিযানে ৪ নারীসহ গ্রেফতার-১৩

আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে কঠোরতা: টুঙ্গিপাড়ায় ঘরে ঘরে থাকা দেশীয় অ’স্ত্র (ঢাল-সুরকি) জমা দিতে পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশ, গ্রাম্য সং’ঘাত বন্ধের উদ্যোগ

Update Time : ০৯:১৭:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকার, জেলা প্রতিনিধি গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা

ও দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত গ্রাম্য মারামারি প্রবনতা বন্ধে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেশীয় অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।তবে এ নির্দেশ প্রদান করা হলেও তেমন কার্যকর হয়নি বলে জানা যায়।

ইতোমধ্যে টুঙ্গিপাড়া থানার উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে নিজেদের কাছে থাকা সব ধরনের দেশীয় অস্ত্র—যেমন ঢাল, সরকি, বল্লম, দা, রামদা ইত্যাদী—ইউনিয়ন পরিষদে জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এই নির্দেশ অমান্য করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে যারা স্বেচ্ছায় অস্ত্র জমা দেবেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

টুঙ্গিপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি থানায় যোগদানের পর দেখেছি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামে গ্রামে মারামারি হয়—শ্রীড়ামকান্দি, গিমাডাঙ্গা, পাটগাতি ও গওহরডাঙ্গা গ্রামে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে। ৯ বছরের শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত লাঠিসোটা ও ঢাল-সরকি নিয়ে নেমে পড়ে। এটা দুঃখজনক। একটি ছোট তর্ক বা ভুল বোঝাবুঝির কারণে মানুষ আহত হয়, কখনও মৃত্যুও ঘটে। অথচ দেশে আইন ও আদালত আছে, তারপরও তারা নিজেদের হাতে আইন তুলে নিচ্ছে—এ যেন এক ধরনের সামাজিক কালচার হয়ে গেছে।”

তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের আচরণ সভ্য সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা চাই এই দীর্ঘদিনের গ্রাম্য মারামারি প্রবনতা থেকে সবাই বেরিয়ে আসুক। আমি আইনশৃঙ্খলা সভায় এই বিষয়টি তুলেছি এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে গিয়ে মতবিনিময় করছি—মারামারি করে কোনই লাভ
হয় না, শুধু অনুতাপ আর ক্ষতি।”

সম্প্রতি টুঙ্গিপাড়ার শ্রীড়ামকান্দি, পাটগাতি ও গওহরডাঙ্গা এলাকায় ডাব
কেনা বেচা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষে ৩৫ জন আহত হন। এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে পুলিশ এই বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে।

টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য কাউকে দমন করা নয়; বরং জনগণকে সচেতন করে সহনশীল সমাজ গড়ে তোলা। সবাই যদি আইন মেনে চলে, টুঙ্গিপাড়ায় স্থায়ী শান্তি ফিরে আসবে।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারজানা আক্তার বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এটি অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা পুলিশের সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।”