০৯:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নুজশাতের মৃত্যুর ঘটনায় প্রাইভেট টিউটর সাকিনের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৫৬:৩৫ অপরাহ্ন, রোববার, ২৮ জুন ২০২৬
  • ৩০০০ বার পঠিত হয়েছে

আবুল হোসেন বাবলুঃ

গত ২২ জুন বিকেলে নগরীর হোটেল নর্থ ভিউয়ের ছাদ থেকে পড়ে মারা যায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী নুজশাত জাহান বিন্তি। এ ঘটনায় পরেরদিন রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানায় আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা করেন মৃতের বাবা নজরুল ইসলাম। মামলার প্রেক্ষিতে নিহত শিক্ষার্থীর প্রাইভেট টিউটর রংপুর মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহম্মেদ সাকিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার (২৮ জুন) দুপুরে রংপুর অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাকিনকে নেওয়া হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম রফিক তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করলে বিচারক ড. মুহাম্মদ রাশেদ হোসাইন এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

অপরদিকে সাকিনের আইনজীবীরা তার জামিনের আবেদন করেন। এ সময় পুলিশ আদালতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য ও কাগজপত্র উপস্থাপন করলে, আদালতের বিচারক এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে জামিন আবেদন নাকোচ করে দেন। শুনানি শেষে পুলিশী নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় সাকিনকে।

নুজশাতের সঙ্গে তিন মাসে ১১৮ বার কথোপকথন এবং অসংখ্য মেসেজ আদান-প্রদানসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও কাগজপত্র আদালতে উপস্থাপন করেছে পুলিশ।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আবু হায়দার মো. আব্দুল মুবিন বলেন, মামলার উপাদান, মোবাইলের তথ্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করে নুজশাতের সঙ্গে সাকিনের তিন মাসের বিস্তারিত কথোপকথন এবং অসংখ্য মেসেজ আদান-প্রদানসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও কাগজপত্র আদালতে উপস্থাপন করে রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন বিজ্ঞ আদালত। তিনি বলেন, গত ১৬ জুন সাকিন রাত সাড়ে ৩টার দিকে নুজশাতকে মোবাইলে ফোন করে দীর্ঘ ৫০ মিনিট ১২ সেকেন্ড কথা বলে। এছাড়া গত তিন মাসে ১১৮ বার তাদের মোবাইল ফোনে কথা হয় এবং মেসেজ আদান-প্রদান করা হয়। তিনি বলেন, গভীর রাতে এত দীর্ঘক্ষণ কোনো ছাত্রীর সঙ্গে শিক্ষকের কথা হতে পারে না।

বিবাদী পক্ষের আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুম মণ্ডল বলেন, ৩০৬ ও ১০৯ ধারায় মামলা করার জন্য এজাহারে যে উপাদান থাকতে হয়, তার কিছুই নেই। পুলিশের কাছে দুটি মোবাইল ফোনই ছিল। তারা তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে সব ধরনের তথ্য বের করতে পারবে। এর জন্য রিমান্ডের কোনো প্রয়োজন পড়ে না। আমরা সাকিনের জামিন আবেদন করেছিলাম। আদালত যেহেতু এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে, তাই আমাদের আবেদন নাকোচ করেছে। রিমান্ড শেষে পুনরায় জামিনের আবেদন করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

নুজশাতের মৃত্যুর ঘটনায় প্রাইভেট টিউটর সাকিনের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

নুজশাতের মৃত্যুর ঘটনায় প্রাইভেট টিউটর সাকিনের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

Update Time : ০৯:৫৬:৩৫ অপরাহ্ন, রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

আবুল হোসেন বাবলুঃ

গত ২২ জুন বিকেলে নগরীর হোটেল নর্থ ভিউয়ের ছাদ থেকে পড়ে মারা যায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী নুজশাত জাহান বিন্তি। এ ঘটনায় পরেরদিন রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানায় আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা করেন মৃতের বাবা নজরুল ইসলাম। মামলার প্রেক্ষিতে নিহত শিক্ষার্থীর প্রাইভেট টিউটর রংপুর মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহম্মেদ সাকিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার (২৮ জুন) দুপুরে রংপুর অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাকিনকে নেওয়া হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম রফিক তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করলে বিচারক ড. মুহাম্মদ রাশেদ হোসাইন এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

অপরদিকে সাকিনের আইনজীবীরা তার জামিনের আবেদন করেন। এ সময় পুলিশ আদালতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য ও কাগজপত্র উপস্থাপন করলে, আদালতের বিচারক এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে জামিন আবেদন নাকোচ করে দেন। শুনানি শেষে পুলিশী নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় সাকিনকে।

নুজশাতের সঙ্গে তিন মাসে ১১৮ বার কথোপকথন এবং অসংখ্য মেসেজ আদান-প্রদানসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও কাগজপত্র আদালতে উপস্থাপন করেছে পুলিশ।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আবু হায়দার মো. আব্দুল মুবিন বলেন, মামলার উপাদান, মোবাইলের তথ্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করে নুজশাতের সঙ্গে সাকিনের তিন মাসের বিস্তারিত কথোপকথন এবং অসংখ্য মেসেজ আদান-প্রদানসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও কাগজপত্র আদালতে উপস্থাপন করে রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন বিজ্ঞ আদালত। তিনি বলেন, গত ১৬ জুন সাকিন রাত সাড়ে ৩টার দিকে নুজশাতকে মোবাইলে ফোন করে দীর্ঘ ৫০ মিনিট ১২ সেকেন্ড কথা বলে। এছাড়া গত তিন মাসে ১১৮ বার তাদের মোবাইল ফোনে কথা হয় এবং মেসেজ আদান-প্রদান করা হয়। তিনি বলেন, গভীর রাতে এত দীর্ঘক্ষণ কোনো ছাত্রীর সঙ্গে শিক্ষকের কথা হতে পারে না।

বিবাদী পক্ষের আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুম মণ্ডল বলেন, ৩০৬ ও ১০৯ ধারায় মামলা করার জন্য এজাহারে যে উপাদান থাকতে হয়, তার কিছুই নেই। পুলিশের কাছে দুটি মোবাইল ফোনই ছিল। তারা তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে সব ধরনের তথ্য বের করতে পারবে। এর জন্য রিমান্ডের কোনো প্রয়োজন পড়ে না। আমরা সাকিনের জামিন আবেদন করেছিলাম। আদালত যেহেতু এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে, তাই আমাদের আবেদন নাকোচ করেছে। রিমান্ড শেষে পুনরায় জামিনের আবেদন করা হবে।