১১:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রংপুরের জনসভায় ধানের শীষের পাশাপাশি হ্যাঁ ভোট চাইলেন তারেক রহমান

  • Update Time : ১২:৪৬:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
  • ৩০১৪ বার পঠিত হয়েছে
আবুল হোসেন বাবলুঃ

আবুল হোসেন বাবলুঃ

রংপুর জেলা প্রতিনিধি

রংপুরে ধানের শীষের পাশাপাশি হ্যাঁ ভোট চাইলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী ধানের শীষে ভোট দিন। আমরা যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি, সেই সনদকে সম্মান করতে হবে। আপনাদের সকলকে অনুরোধ করব ধানের শীষে যেমন সিলটা দেবেন, একই সাথে দ্বিতীয় যেই ব্যালট পেপারটা দিবে হ্যাঁ এবং না-এর, সেখানে হ্যাঁ-এর পক্ষে আপনারা রায় দেবেন। জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ মূল্যায়নে অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ ভোট দিবেন। 

তারেক রহমান বলেন, রংপুর আবু সাঈদের পবিত্র রক্ত মেশানো মাটি। আবু সাঈদ ও ওয়াসিমসহ প্রায় ১৪০০ শহীদ যে স্বপ্ন নিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই জুলাই সনদ রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারী) রংপুরের ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ঈদগাঁ মাঠে বিএনপি আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রংপুর বাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা আগামী ১২ তারিখ সকালে ভোট কেন্দে গিয়ে ভোট দিবেন। অবশ্যই ফজরের পরে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে লাইন ধরে ভোট দিবেন। বিগত ১৬ বছরে দিনের ভোট রাতে হয়েছে। আগামীতে আর এ রকম ভোট হতে দিবো না, তাই সকলকে সজাগ থাকতে হবে।

রংপুরের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, রংপুরকে অনেকে গরিব অঞ্চল বললেও রংপুর অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা। আমাদের লক্ষ্য রংপুরকে ঢেলে সাজানো। এখানে কৃষিজাত পণ্যের শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হবে।

তিনি এও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের হাতে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। অন্তত এক ফসলের বীজ ও কীটনাশক বিনা মূল্যে দেওয়া হবে। এছাড়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে।তিনি বলেন, মানুষ চায় নিজে ইনকাম করে বড় বড় বিল্ডিং করে পরিবার নিয়ে থাকতে। মানুষ একটু সুখে শান্তিতে জীবন পার করতে চায়। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা চায় মানুষ, কিন্তু কাঙ্খিত সেই কর্মসংস্থানই নাই। বিএনপিই একমাত্র কর্মসংস্থানতৈরি করতে পারে। বিএনপির এ অভিজ্ঞতা রয়েছে, আপনারা বিগত দিনে তা দেখেছেন।

তারেক রহমান বলেন,জুলাই-আগষ্টে শহিদ আবু সাঈদসহ যাদের হত্যা করা হয়েছে, যারা শহিদ হয়েছেন। সে হত্যাকান্ডের বিচার করতে হবে। পাশাপাশি বিগত ১৬ বছরে যারা মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দূর্ণীতি করে বিদেশে টাকা পাচার করেছে, তাদেরও বিচার করতে হবে। আর এইসব বিচার একমাত্র বিএনপিই করতে পারবে। কেনোনা বিএনপির এই অভিজ্ঞতা রয়েছে। পাচার করা অর্থ বিদেশ থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে সেটাও শুধু বিএনপির পক্ষে সম্ভব। পাচার করা অর্থ এনে দেশের ও দেশের মানুষের কাজে লাগাতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, বিগত দিনের একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী ২০০১ সাল থেকে বিএনপি যখন ক্ষমতায় তখন থেকে দূর্ণীতি র‌্যাঙ্ক নিচ থেকে উপরের দিকে উঠতে শুরু করেছে। এতেই প্রমাণিত হয় যে বিএনপি একমাত্র দল যে দুর্ণীতি থেকে দেশকে বের করতে পারে।

জামাতকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, একটি দল রয়েছে যারা বলছে আমরা নাকি খারাপ। তাদের বলতে চাই ২০০১ সাল থেকে ৫ বছর তারা বিএনপির সাথে ছিলো। তাদের মনে করে দিতে চাই তখন বিএনপির মনোবল ও কার্যক্রম ভালো জন্যই তারা আমাদের সাথেই ছিলো এবং কাজ করেছে। তখন বিএনপি ভালো ছিলো। তাহলে তারা আজ আমাদের খারাপ বলছে কেনো। আমি মনে করি তাদের মাথা খারাপ হয়েছে বা পাগল হয়ে গেছে। তাদের আমাদের সাথে থাকাটাই প্রমান করে যে বিএনপি একমাত্র দল যে দূর্ণীতির গলা টিপে ধরতে পারে। বিএনপি যদি খারাপ হয়ে থাকে তবে তারা ৫ বছর আমাদের সাথে থাকলো কেনো। তারা কি বলে বলুক আমাদের শক্তি হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণ। তাই বাংলার জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে।

আজ সময় এসেছে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করার, তাই আসুন আমরা এক হয়ে দেশের কাজে নিয়োজিত হই। আমরা একত্রিত হলে এই উত্তরাঞ্চল আর মঙ্গায় থাকবে না আমরা এগিয়ে যেতে চাই। এই অঞ্চলের মানুষ যারা এনজিও থেকে ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণ করেছেন, আমরা সরকার গঠন করলে তাদের আর ঋণ পরিশোধ করতে হবে না। আমরা সব ঋণ পরিশোধ করে দিবো। ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুবিধা দেয়া হবে যাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে পানির সমস্যা রয়েছে এর মধ্যে অন্যাতম রংপুরের তিস্তা সমস্যা যেহেতু রংপুর কৃষি প্রধান দেশ সেহেতু এখানে বিশেষ নজর রাখতে হবে। তাই আমরা আগামী ১৩ তারিখ থেকেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজে হাত দিবো, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবো। পরে তিনি রংপুরের ধানের শিষের প্রার্থীদের সাথে পরিচয় করে দিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) আসাদুল হাবীব দুলুসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও রংপুর জেলা-মহানগরের নেতৃবৃন্দসহ রংপুরের সকল আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীগণ। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন, রংপুর মহানগর বিএনপির আহবায়ক ও সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সামসুজ্জামান সামু।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ধানের শীষের ছায়ায় ঐক্যের দৃঢ় অঙ্গীকার কুমিল্লা-১০ আসনে-মোবাশ্বের ভূইয়া ও গফুর ভূইয়ার এক কাতারে অবস্থান, নেতৃত্বে জাকারিয়া তাহের সুমনের শক্ত বার্তা

রংপুরের জনসভায় ধানের শীষের পাশাপাশি হ্যাঁ ভোট চাইলেন তারেক রহমান

Update Time : ১২:৪৬:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
আবুল হোসেন বাবলুঃ

আবুল হোসেন বাবলুঃ

রংপুর জেলা প্রতিনিধি

রংপুরে ধানের শীষের পাশাপাশি হ্যাঁ ভোট চাইলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী ধানের শীষে ভোট দিন। আমরা যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি, সেই সনদকে সম্মান করতে হবে। আপনাদের সকলকে অনুরোধ করব ধানের শীষে যেমন সিলটা দেবেন, একই সাথে দ্বিতীয় যেই ব্যালট পেপারটা দিবে হ্যাঁ এবং না-এর, সেখানে হ্যাঁ-এর পক্ষে আপনারা রায় দেবেন। জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ মূল্যায়নে অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ ভোট দিবেন। 

তারেক রহমান বলেন, রংপুর আবু সাঈদের পবিত্র রক্ত মেশানো মাটি। আবু সাঈদ ও ওয়াসিমসহ প্রায় ১৪০০ শহীদ যে স্বপ্ন নিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই জুলাই সনদ রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারী) রংপুরের ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ঈদগাঁ মাঠে বিএনপি আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রংপুর বাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা আগামী ১২ তারিখ সকালে ভোট কেন্দে গিয়ে ভোট দিবেন। অবশ্যই ফজরের পরে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে লাইন ধরে ভোট দিবেন। বিগত ১৬ বছরে দিনের ভোট রাতে হয়েছে। আগামীতে আর এ রকম ভোট হতে দিবো না, তাই সকলকে সজাগ থাকতে হবে।

রংপুরের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, রংপুরকে অনেকে গরিব অঞ্চল বললেও রংপুর অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা। আমাদের লক্ষ্য রংপুরকে ঢেলে সাজানো। এখানে কৃষিজাত পণ্যের শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হবে।

তিনি এও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের হাতে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। অন্তত এক ফসলের বীজ ও কীটনাশক বিনা মূল্যে দেওয়া হবে। এছাড়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে।তিনি বলেন, মানুষ চায় নিজে ইনকাম করে বড় বড় বিল্ডিং করে পরিবার নিয়ে থাকতে। মানুষ একটু সুখে শান্তিতে জীবন পার করতে চায়। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা চায় মানুষ, কিন্তু কাঙ্খিত সেই কর্মসংস্থানই নাই। বিএনপিই একমাত্র কর্মসংস্থানতৈরি করতে পারে। বিএনপির এ অভিজ্ঞতা রয়েছে, আপনারা বিগত দিনে তা দেখেছেন।

তারেক রহমান বলেন,জুলাই-আগষ্টে শহিদ আবু সাঈদসহ যাদের হত্যা করা হয়েছে, যারা শহিদ হয়েছেন। সে হত্যাকান্ডের বিচার করতে হবে। পাশাপাশি বিগত ১৬ বছরে যারা মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দূর্ণীতি করে বিদেশে টাকা পাচার করেছে, তাদেরও বিচার করতে হবে। আর এইসব বিচার একমাত্র বিএনপিই করতে পারবে। কেনোনা বিএনপির এই অভিজ্ঞতা রয়েছে। পাচার করা অর্থ বিদেশ থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে সেটাও শুধু বিএনপির পক্ষে সম্ভব। পাচার করা অর্থ এনে দেশের ও দেশের মানুষের কাজে লাগাতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, বিগত দিনের একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী ২০০১ সাল থেকে বিএনপি যখন ক্ষমতায় তখন থেকে দূর্ণীতি র‌্যাঙ্ক নিচ থেকে উপরের দিকে উঠতে শুরু করেছে। এতেই প্রমাণিত হয় যে বিএনপি একমাত্র দল যে দুর্ণীতি থেকে দেশকে বের করতে পারে।

জামাতকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, একটি দল রয়েছে যারা বলছে আমরা নাকি খারাপ। তাদের বলতে চাই ২০০১ সাল থেকে ৫ বছর তারা বিএনপির সাথে ছিলো। তাদের মনে করে দিতে চাই তখন বিএনপির মনোবল ও কার্যক্রম ভালো জন্যই তারা আমাদের সাথেই ছিলো এবং কাজ করেছে। তখন বিএনপি ভালো ছিলো। তাহলে তারা আজ আমাদের খারাপ বলছে কেনো। আমি মনে করি তাদের মাথা খারাপ হয়েছে বা পাগল হয়ে গেছে। তাদের আমাদের সাথে থাকাটাই প্রমান করে যে বিএনপি একমাত্র দল যে দূর্ণীতির গলা টিপে ধরতে পারে। বিএনপি যদি খারাপ হয়ে থাকে তবে তারা ৫ বছর আমাদের সাথে থাকলো কেনো। তারা কি বলে বলুক আমাদের শক্তি হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণ। তাই বাংলার জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে।

আজ সময় এসেছে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করার, তাই আসুন আমরা এক হয়ে দেশের কাজে নিয়োজিত হই। আমরা একত্রিত হলে এই উত্তরাঞ্চল আর মঙ্গায় থাকবে না আমরা এগিয়ে যেতে চাই। এই অঞ্চলের মানুষ যারা এনজিও থেকে ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণ করেছেন, আমরা সরকার গঠন করলে তাদের আর ঋণ পরিশোধ করতে হবে না। আমরা সব ঋণ পরিশোধ করে দিবো। ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুবিধা দেয়া হবে যাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে পানির সমস্যা রয়েছে এর মধ্যে অন্যাতম রংপুরের তিস্তা সমস্যা যেহেতু রংপুর কৃষি প্রধান দেশ সেহেতু এখানে বিশেষ নজর রাখতে হবে। তাই আমরা আগামী ১৩ তারিখ থেকেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজে হাত দিবো, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবো। পরে তিনি রংপুরের ধানের শিষের প্রার্থীদের সাথে পরিচয় করে দিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) আসাদুল হাবীব দুলুসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও রংপুর জেলা-মহানগরের নেতৃবৃন্দসহ রংপুরের সকল আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীগণ। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন, রংপুর মহানগর বিএনপির আহবায়ক ও সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সামসুজ্জামান সামু।