
মোঃ শাহজাহান বাশার
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ছাত্রদল নেতা গোলাম কিবরিয়ার ওপর সংঘটিত আলোচিত নৃশংস হামলার ঘটনায় অর্থের যোগান ও পরিকল্পনার মূল সূত্র হিসেবে রুবেল নামের এক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা লিখিত অভিযোগে তাকে এই ঘটনার অন্যতম নেপথ্য কারিগর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রুবেল দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লা এলাকায় অবৈধ মোবাইল ব্যবসা, ভারতীয় পণ্য চোরাচালান এবং মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এসব অবৈধ কার্যক্রম থেকে অর্জিত অর্থ ব্যবহার করে তিনি স্থানীয় অপরাধচক্রের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং সেই অর্থই এই ভয়াবহ হামলার পেছনে ব্যবহৃত হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদী গোলাম কিবরিয়া তার অভিযোগে বলেন, রুবেলের পারিবারিক পটভূমি ছিল সাধারণ। এক সময় তার বাবা হাটবাজারে দুধ বিক্রি করলেও অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে রুবেল অল্প সময়েই বিপুল অর্থের মালিক বনে যান। কুমিল্লার বিভিন্ন মার্কেটে মোবাইল ফোনের দোকানকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে চোরাচালান ও মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতেন তিনি। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে দেশ ত্যাগ করে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০১৬ সালের ২০ আগস্ট গভীর রাতে ঢাকা থেকে কুমিল্লা ফেরার পথে এম এ জাহেরের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল গোলাম কিবরিয়াকে অপহরণ করে। পরে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এই ঘটনার পেছনে আর্থিক ও সাংগঠনিক সহায়তা ছিল রুবেলের।
ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় গোলাম কিবরিয়াকে পুলিশ ‘আটক’ দেখিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলা না করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং তার মায়ের কাছ থেকে সাদা কাগজ ও খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
বর্তমানে গোলাম কিবরিয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগে অধ্যয়নরত। তিনি কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক নেতা। অভিযোগ দাখিলের সময় তার দুই ভাই ইয়াসিন আরাফাত ও মো. নেয়ামত রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রুবেলের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রুবেলের বর্তমান অবস্থান, অবৈধ সম্পদের উৎস এবং বিদেশে অবস্থানের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

















