১২:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন, হুমকির মুখে বেরিবাঁধসহ এলাকাবাসী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৫৯:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৩০২৮ বার পঠিত হয়েছে

হাবিবুর রহমান, চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের পাশে, হুমকিতে রয়েছে বেরিবাঁধ। বেরিবাঁধের পাশে পিচিংয়ের নিচে, বড় ধরনের ভাঙনের দেখা দিয়েছে। ভাঙনের আতঙ্কে রয়েছে নদীর পাড়ের এলাকাবাসীরা। উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের, ফকিরেরহাট কালিকুড়া (টি বাঁধ) এলাকায় টি বাঁধের দক্ষিণে ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের পাশে, পিচিংয়ের পাশে ২ দিনের ব্যবধানে প্রায় ১শ মিটার এলাকা ভেঙে গেছে। ভাঙনকে ঘিরে ঐ এলাকার মানুষের মাঝে চরম আতঙ্কের দেখা দিয়েছে। জানাগেছে, ব্রহ্মপুত্র নদের কড়াল গ্রাস থেকে চিলমারীকে রক্ষার জন্য ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে, নদের ডানতীর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ রাস্তাটি ব্লক পিচিং করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের ফকিরেরহাট এলাকা থেকে রমনা ইউনিয়নের জোড়গাছহাট বাজার পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। পরবর্তীতে কয়েক দফা পিচিংয়ে ধস দেখা দিলে, কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্বাবধানে তা মেরামত করা হয়েছে বলে জানা যায়। সম্প্রতি উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কালিকুড়া (টি বাঁধ) এলাকার দক্ষিণ পাশে, ব্লক পিছিংয়ের নিচে প্রায় ১শ মিটার জায়গা নদীতে ভেঙে গেছে। ভাঙনের ২শ ফুট দক্ষিণে প্রায় ৫০মিটার জায়গা ভাঙনের দেখা দিয়েছিল। এই ভাঙনের দেখা দেয়ায় চরম ভাবে আতঙ্কে হয়ে পড়েছেন, নদী ভাঙ্গনের শিকার হওয়া নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষজন। সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, ফকিরেরহাট কালিকুড়া টি বাঁধের দক্ষিণ পাশে, সেখানে প্রায় ১শ মিটার জায়গা নদীতে ভেঙে গেছে। তার ঠিক দক্ষিণে ২শ ফুট পরে প্রায় ৫০ মিটার নদীতে ভেঙে গেছে। এসময় ওই এলাকার আঃ মজিদ, সাইদুল ইসলাম, মন্জু মিয়া ও আসলাম মিয়াসহ অনেকে জানান, ৪/৫ দিন আগে এখানে তেমন কোন ভাঙা দেখা যায়নি, হঠাৎ আগামীকাল থেকে এই ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমরা এলাকার মেম্বার ও চেয়ারম্যান কে ভাঙনের বিষয়ে জানিয়েছি। এখনই এটি সংস্কারের উদ্যোগ না নিলে, যে ভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নদের ডানতীরসহ বেরিবাঁধ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান এলাকাবাসীরা। জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন তারা। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, আমরা পর্যবেক্ষণ করে দেখলাম, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা এটা সব সময় নজর দাবিতে রাখবো এবং জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করব। ইতিমধ্যে আমরা ভাঙনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন স্যারকে জানিয়েছি, তিনি সবসময় নজর দারিতে রাখার জন্য বলেছেন। এই এলাকায় গতবারেও ভাঙনের কয়েকটি স্থানে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন থেকে রক্ষা করেছিলাম। এবারও আমাদের সেই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে গেলে, জরুরি ভাবে কাজের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক বলেন, আমরা ফকিরেরহাট কালিকুড়া (টি বাঁধ) এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে দেখলাম। ভাঙনের বিষয়টি উদ্বোধন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি, পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

শান্তি, সুশাসন ও অপরাধমুক্ত ঝিনাইদহ গড়ার প্রত্যয়ে সাংবাদিকদের সাথে নবাগত পুলিশ সুপারের মতবিনিময় সভা

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন, হুমকির মুখে বেরিবাঁধসহ এলাকাবাসী

Update Time : ০১:৫৯:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

হাবিবুর রহমান, চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের পাশে, হুমকিতে রয়েছে বেরিবাঁধ। বেরিবাঁধের পাশে পিচিংয়ের নিচে, বড় ধরনের ভাঙনের দেখা দিয়েছে। ভাঙনের আতঙ্কে রয়েছে নদীর পাড়ের এলাকাবাসীরা। উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের, ফকিরেরহাট কালিকুড়া (টি বাঁধ) এলাকায় টি বাঁধের দক্ষিণে ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের পাশে, পিচিংয়ের পাশে ২ দিনের ব্যবধানে প্রায় ১শ মিটার এলাকা ভেঙে গেছে। ভাঙনকে ঘিরে ঐ এলাকার মানুষের মাঝে চরম আতঙ্কের দেখা দিয়েছে। জানাগেছে, ব্রহ্মপুত্র নদের কড়াল গ্রাস থেকে চিলমারীকে রক্ষার জন্য ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে, নদের ডানতীর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ রাস্তাটি ব্লক পিচিং করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের ফকিরেরহাট এলাকা থেকে রমনা ইউনিয়নের জোড়গাছহাট বাজার পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। পরবর্তীতে কয়েক দফা পিচিংয়ে ধস দেখা দিলে, কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্বাবধানে তা মেরামত করা হয়েছে বলে জানা যায়। সম্প্রতি উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কালিকুড়া (টি বাঁধ) এলাকার দক্ষিণ পাশে, ব্লক পিছিংয়ের নিচে প্রায় ১শ মিটার জায়গা নদীতে ভেঙে গেছে। ভাঙনের ২শ ফুট দক্ষিণে প্রায় ৫০মিটার জায়গা ভাঙনের দেখা দিয়েছিল। এই ভাঙনের দেখা দেয়ায় চরম ভাবে আতঙ্কে হয়ে পড়েছেন, নদী ভাঙ্গনের শিকার হওয়া নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষজন। সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, ফকিরেরহাট কালিকুড়া টি বাঁধের দক্ষিণ পাশে, সেখানে প্রায় ১শ মিটার জায়গা নদীতে ভেঙে গেছে। তার ঠিক দক্ষিণে ২শ ফুট পরে প্রায় ৫০ মিটার নদীতে ভেঙে গেছে। এসময় ওই এলাকার আঃ মজিদ, সাইদুল ইসলাম, মন্জু মিয়া ও আসলাম মিয়াসহ অনেকে জানান, ৪/৫ দিন আগে এখানে তেমন কোন ভাঙা দেখা যায়নি, হঠাৎ আগামীকাল থেকে এই ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমরা এলাকার মেম্বার ও চেয়ারম্যান কে ভাঙনের বিষয়ে জানিয়েছি। এখনই এটি সংস্কারের উদ্যোগ না নিলে, যে ভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নদের ডানতীরসহ বেরিবাঁধ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান এলাকাবাসীরা। জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন তারা। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, আমরা পর্যবেক্ষণ করে দেখলাম, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা এটা সব সময় নজর দাবিতে রাখবো এবং জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করব। ইতিমধ্যে আমরা ভাঙনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন স্যারকে জানিয়েছি, তিনি সবসময় নজর দারিতে রাখার জন্য বলেছেন। এই এলাকায় গতবারেও ভাঙনের কয়েকটি স্থানে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন থেকে রক্ষা করেছিলাম। এবারও আমাদের সেই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে গেলে, জরুরি ভাবে কাজের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক বলেন, আমরা ফকিরেরহাট কালিকুড়া (টি বাঁধ) এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে দেখলাম। ভাঙনের বিষয়টি উদ্বোধন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি, পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।