০৬:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে লক্ষাধিক টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে (LCD Screen) জব্দ করেছে এবং এই চোরাচালানের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

ভূরুংগামারীতে পুলিশের অভিযানে লক্ষাধিক টাকার ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোন ডিসপ্লে জব্দ, গ্রেপ্তার ২

ভূরুঙ্গামারীতে পুলিশের অভিযানে জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে। ছবি: দৈনিক সরেজমিন।

কুড়িগ্রামের ভূরুংগামারীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে লক্ষাধিক টাকার ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে চোরাই পণ্যের মূল মালিক হিসেবে অভিযুক্ত এক চিহ্নিত চোরাকারবারিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত প্রায় ১০টার দিকে ভূরুংগামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুনের সার্বিক নির্দেশনায় ভূরুংগামারী থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. আলিউল ইসলাম সাদাপোশাকে ভূরুংগামারী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করেন। পরে তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনের ডিসপ্লেগুলো অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভূরুংগামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের বাঁশজানি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আনা হয়। পরে সেগুলো ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচারের প্রস্তুতি চলছিল।

পুলিশের দাবি, বাঁশজানি এলাকার মো. নুর ইসলাম (পিতার নাম অজ্ঞাত) এসব পণ্যের মূল মালিক এবং তিনি একজন চিহ্নিত চোরাকারবারি। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, ভূরুংগামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের বাঁশজানি সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালানের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ভারতীয় পণ্যের অবৈধ বেচাকেনা বন্ধ না হলে চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জব্দকৃত মোবাইল ফোনের ডিসপ্লেগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ থেকে ৩.৫ লাখ টাকা। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের এবং পলাতক মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

ভূরুংগামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “আমরা মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছি। মাদক ও চোরাচালানমুক্ত ভূরুংগামারী গড়ে তুলতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ভূরুংগামারীতে পুলিশের অভিযানে লক্ষাধিক টাকার ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোন ডিসপ্লে জব্দ, গ্রেপ্তার ২

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে লক্ষাধিক টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে (LCD Screen) জব্দ করেছে এবং এই চোরাচালানের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

ভূরুংগামারীতে পুলিশের অভিযানে লক্ষাধিক টাকার ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোন ডিসপ্লে জব্দ, গ্রেপ্তার ২

Update Time : ০৬:২৮:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

কুড়িগ্রামের ভূরুংগামারীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে লক্ষাধিক টাকার ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে চোরাই পণ্যের মূল মালিক হিসেবে অভিযুক্ত এক চিহ্নিত চোরাকারবারিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত প্রায় ১০টার দিকে ভূরুংগামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুনের সার্বিক নির্দেশনায় ভূরুংগামারী থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. আলিউল ইসলাম সাদাপোশাকে ভূরুংগামারী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করেন। পরে তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনের ডিসপ্লেগুলো অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভূরুংগামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের বাঁশজানি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আনা হয়। পরে সেগুলো ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচারের প্রস্তুতি চলছিল।

পুলিশের দাবি, বাঁশজানি এলাকার মো. নুর ইসলাম (পিতার নাম অজ্ঞাত) এসব পণ্যের মূল মালিক এবং তিনি একজন চিহ্নিত চোরাকারবারি। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, ভূরুংগামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের বাঁশজানি সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালানের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ভারতীয় পণ্যের অবৈধ বেচাকেনা বন্ধ না হলে চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জব্দকৃত মোবাইল ফোনের ডিসপ্লেগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ থেকে ৩.৫ লাখ টাকা। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের এবং পলাতক মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

ভূরুংগামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “আমরা মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছি। মাদক ও চোরাচালানমুক্ত ভূরুংগামারী গড়ে তুলতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”